জাবিতে খালি ৪৮৫, নির্মাণে আরও ১৭৪টি: এতো বাসায় থাকবেন কারা?

সাভারের অরুণাপল্লী হাউজিং সোসাইটির তথ্যমতে, সেখানে প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষক বসবাস করছেন। এ ছাড়া আমবাগান, ইসলামনগরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অনেকে নিজস্ব বাসা কিংবা বাড়ি থেকে যাতায়াত করেন।

আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০৯ পিএম

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য নির্মিত আবাসিক বাসার প্রায় অর্ধেকই খালি পড়ে আছে। এর মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আরও ১৭৪টি আবাসিক ইউনিট নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।

এ অবস্থায় বিদ্যমান খালি বাসাগুলোর যথাযথ ব্যবহার, সংস্কার ও বরাদ্দ নিশ্চিত করা এবং নতুন আবাসন নির্মাণের পাশাপাশি পুরোনো বাসাগুলো কীভাবে কাজে লাগানো হবে, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।

বিশ্ববিদ্যালয় এস্টেট অফিসের তথ্যমতে, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য নির্ধারিত ছয় ধরনের মোট ৪৮৬টি বাসার মধ্যে ২৩৪টিই খালি। এর মধ্যে ‘এ’ টাইপের ২৪টি বাসার ১২টি, ‘বি’ টাইপের ৬২টির মধ্যে ২৭টি, ‘সি’ টাইপের ৭৮টির মধ্যে ৩৮টি এবং ‘ডি’ টাইপের ১০৪টির মধ্যে ৩২টি খালি পড়ে আছে।

অন্যদিকে, কর্মচারীদের জন্য নির্ধারিত ‘ই’ টাইপের ১১৮টি বাসার মধ্যে ৪৬টি এবং চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের জন্য নির্ধারিত ‘এফ’ টাইপের ১০০টি বাসার মধ্যে ৭৯টি খালি রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী জানান, তুলনামূলক বেশি ভাড়া এবং নিজস্ব বাড়ি বা ফ্ল্যাট থাকায় তারা ক্যাম্পাসের বাসায় থাকতে আগ্রহী হন না।

সাভারের অরুণাপল্লী হাউজিং সোসাইটির তথ্যমতে, সেখানে প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষক বসবাস করছেন। এ ছাড়া আমবাগান, ইসলামনগরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অনেকে নিজস্ব বাসা কিংবা বাড়ি থেকে যাতায়াত করেন। তাদের যাতায়াতের জন্য রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস।

নির্ধারিত বাসা খালি, টিনের ঘরে কর্মচারীরা

বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীদের জন্য নির্ধারিত ‘ই’ ও ‘এফ’ টাইপের বাসার বড় একটি অংশ খালি পড়ে থাকলেও কর্মচারীদের একাংশকে ক্যাম্পাসের কলাবাগান ও রাঙ্গামাটি এলাকায় নিজেদের তৈরি টিনের ঘরে বসবাস করতে দেখা যায়। এসব এলাকার কয়েকটি স্থানে কর্মচারীরা টিনের ঘর নির্মাণ করে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন। ফলে কর্মচারীদের আবাসনের চাহিদা, বিদ্যমান বাসা বরাদ্দের প্রক্রিয়া এবং খালি বাসাগুলো ব্যবহারের বিষয়টি সামনে এসেছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকেই কর্মচারীদের একটি অংশ এসব এলাকায় বসবাস করে আসছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রশাসন থেকে তাঁদের এসব এলাকায় বসবাস করতে বলা হয়েছিল।

‘বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোয়ার্টারের যে ভাড়া, সেই ভাড়ায় আমবাগান ও ইসলামনগর এলাকায় এর চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ বড় বাসা পাওয়া যায়। তাছাড়া, আমরা বারবার প্রশাসনের কাছে বাসাভাড়া কমানোর দাবি জানিয়ে আসছি। প্রশাসন প্রতিবারই আমাদের আশ্বস্ত করেছে, কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। বাসাভাড়া কমানো হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৫০ শতাংশ কর্মচারী কোয়ার্টারে থাকতে আগ্রহী হবেন বলে আমরা মনে করি।’

নতুন ১৭৪টি আবাসনে ব্যয় প্রায় শতকোটি টাকা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নে ২০১৮ সালে ১ হাজার ৪৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্প’ অনুমোদন দেওয়া হয়। এ প্রকল্পের আওতায় শিক্ষক, কর্মকর্তা, প্রভোস্ট, হাউস টিউটর ও হরিজন সম্প্রদায়ের জন্য নতুন ১৭৪টি আবাসিক ইউনিট নির্মাণের কাজও প্রায় শেষের দিকে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প কার্যালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষকদের জন্য ৪০টি এবং কর্মকর্তাদের জন্য ৪০টি ফ্ল্যাট নির্মাণে ২৮ কোটি টাকা করে মোট ব্যয় ৫৬ কোটি টাকা। এ ছাড়া প্রভোস্টদের জন্য ১৮টি আবাসিক ইউনিট নির্মাণে ১৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা, হাউস টিউটরদের জন্য ৩৬টি ইউনিটের ফ্ল্যাট নির্মাণে ১৯ কোটি ২০ লাখ টাকা এবং হরিজন সম্প্রদায়ের জন্য ৪০টি আবাসিক ইউনিট নির্মাণে ১১ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এসব আবাসিক ইউনিট নির্মাণে মোট ব্যয় প্রায় ১০৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

নতুন আবাসনের আগে চাহিদা যাচাইয়ের পরামর্শ

বিদ্যমান আবাসিক বাসার প্রায় অর্ধেক খালি থাকার পাশাপাশি নতুন আবাসন নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এ অবস্থায় নতুন ভবন নির্মাণের আগে পুরোনো বাসাগুলোর ব্যবহার, খালি থাকার কারণ এবং ভবিষ্যতের চাহিদা যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

এ বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. আকতার মাহমুদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, নতুন করে আবাসন নির্মাণের আগে ক্যাম্পাসে আবাসনের প্রকৃত চাহিদা নিরূপণ করা জরুরি। ভবিষ্যতে আরও কত আবাসনের প্রয়োজন হবে, সে বিষয়ে নিরীক্ষাও করা দরকার।

তিনি বলেন, বিদ্যমান বাসাগুলো খালি হওয়ার কারণ খুঁজে দেখা প্রয়োজন ছিল। যাঁরা বাসা ছেড়ে চলে গেছেন, তাঁদের কেন চলে যেতে হয়েছে, সে বিষয়ে একটি সাধারণ জরিপ করলেও নতুন আবাসিক ভবন নির্মাণের প্রকৃত প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেত। প্রকল্প গ্রহণের সময় কীভাবে নতুন আবাসনের চাহিদার যৌক্তিকতা উপস্থাপন করা হয়েছিল, সেটিও দেখা প্রয়োজন।

পুরোনো বাসা সংস্কার করে ব্যবহার করা নাকি নতুন ভবন নির্মাণ করা—এ বিষয়ে অধ্যাপক আকতার মাহমুদ বলেন, পুরোনো ভবনের ব্যবহারকারীদের মতামত নিয়ে বাসাগুলোর সমস্যা চিহ্নিত করা দরকার। অবকাঠামো, নকশা, জায়গার পরিমাণ, নির্মাণসামগ্রী কিংবা আধুনিক সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি থাকলে সেগুলো সংস্কারের মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব কি না, আগে তা পরীক্ষা করা উচিত।

তাঁর মতে, কোনো ভবনের কাঠামোগত দুর্বলতা থাকলে এবং সেটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে গেলে পুরোনো ভবন ভেঙে একই জায়গায় নতুন ভবন নির্মাণ করা যেতে পারে। এতে নতুন জায়গা খুঁজতে হয় না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘমেয়াদি আবাসন পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে কত শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী ক্যাম্পাসে আসবেন, তাঁদের চাহিদা কী হবে—এসব বিবেচনায় নিয়ে অবকাঠামো পরিকল্পনা করা দরকার। নতুন ভবনে কতটি আবাসন তৈরি হচ্ছে, পুরোনো ভবনে কতটি বাসা খালি রয়েছে এবং কীভাবে বিদ্যমান আবাসনের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়—এসব বিষয়ে অংশীজনের মতামত নিয়ে পরিকল্পনা করা যেতে পারে।

আবাসিক হলের দায়িত্বে থাকলেও বাইরে থেকে করছেন হল পরিচালনা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) আবাসিক হলগুলোর প্রধান দায়িত্বে রয়েছেন প্রভোস্টরা। তবে ক্যাম্পাসে সার্বক্ষণিক অবস্থানের শর্ত থাকলেও মোট ২১টি হলের মধ্যে অন্তত ১১টি হলের প্রভোস্টরা ক্যাম্পাসের বাইরে থেকে হল পরিচালনা করছেন বলে জানা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রভোস্টদের কেউ কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি আমবাগান, ইসলামনগর ও গেরুয়া এলাকায় বসবাস করেন। আবার কেউ থাকেন অরুণাপল্লী কিংবা ঢাকায়।

এ বিষয়ে একাধিক প্রভোস্টের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কোনো কোনো হলের প্রভোস্টদের জন্য নির্ধারিত আবাসন নেই। আবার কেউ বাসার জন্য আবেদন করেও এখনো বরাদ্দ পাওয়া বাসায় উঠতে পারেননি। আরও অনেক প্রভোস্ট জানিয়েছেন, জরুরি প্রয়োজনে তাঁরা যেকোনো সময় হলে উপস্থিত হতে পারেন।

বেগম খালেদা জিয়া হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মঞ্জুর এলাহী বলেন, “বাচ্চাদের পড়াশোনার জন্য মূলত ঢাকায় থাকা হয়। তবে আমার বোনের বাসা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশেই ইসলামনগর এলাকায়। অনেক সময় সেখানেও রাত থাকা হয়। তবে যেকোনো দরকার বা জরুরি মুহূর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ে উপস্থিত হতে পারি।”

বেগম সুফিয়া কামাল হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. রেজওয়ানা করিম স্নিগ্ধা জানান, বাসার জন্য আবেদন করেও এখনো তিনি নির্ধারিত আবাসনে উঠতে পারেননি। তিনি বলেন, “আমি গত বছর ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে আমার বাসার জন্য আবেদন করি। কিন্তু এত দিনেও বুঝে পাইনি। আমার জন্য যে বাসাটি নির্ধারণ করা হয়েছে, সেখানে আগের যিনি প্রভোস্টের দায়িত্বে ছিলেন, তিনি এক বছর ছয় মাস অবস্থান করেছিলেন। এরপর বাসা ছেড়ে দেওয়ার পরও সেই বাসাটিতে অনেক কাজ থাকে। সেই কাজগুলো এখনো করিয়ে দিয়ে আমাকে এখনো বাসাটি বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি।”

অন্যদিকে, শহীদ রফিক-জব্বার হলের প্রভোস্ট ড. আবদুস সাত্তার বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি গেরুয়া বাজারে বসবাস করেন। তিনি বলেন, “আমি গেরুয়া বাজারে থাকি। আমার যে হল, এই হলের কোনো প্রভোস্ট বাংলো নেই। হাউস টিউটরদেরও বাসা নেই।”

প্রভোস্ট কমিটির চেয়ারম্যান ও শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. খোন্দকার লুৎফুল এলাহী বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী প্রভোস্টদের জন্য নির্ধারিত বাসা থাকার কথা। তবে বিশ্ববিদ্যালয় এখনো সব প্রভোস্টের জন্য সেই আবাসনের ব্যবস্থা করতে পারেনি। অবশ্য প্রভোস্ট কোয়ার্টারের কাজ প্রান্তিকে চলমান রয়েছে, যেখানে ১৮ জন প্রভোস্ট থাকতে পারবেন। আমি আল-বেরুনী হলসংলগ্ন বাসায় অবস্থান করছি।”

তিনি আরও বলেন, প্রভোস্টদের পাশাপাশি হাউস টিউটর ও ওয়ার্ডেনদের জন্যও হলের কাছাকাছি আবাসনের ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। এতে রাতে বা যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে তাঁদের দ্রুত হলে উপস্থিত হওয়া সহজ হবে।

খালি বাসা ব্যবহারে প্রশাসনের কী পদক্ষেপ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) খালি পড়ে থাকা আবাসিক বাসাগুলো ব্যবহার এবং আবাসন ব্যবস্থাপনা পরিকল্পিতভাবে পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। নতুন আবাসন নির্মাণের কাজ শেষ হলে খালি বাসাগুলোর ব্যবহার, পুরোনো বাসার ভাড়া কমানোর সম্ভাবনা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন বরাদ্দের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক নজরুল ইসলাম।

তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, “জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় একটি পূর্ণাঙ্গ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়। শিক্ষক নিয়োগের সময়ই বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক এলাকায় অবস্থানের বিষয়টি নিয়োগসংক্রান্ত শর্তে উল্লেখ থাকে। তবে এরপরও অনেক শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ে বসবাস করেন না।”

নতুন আবাসন নির্মাণের বিষয়ে অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, “আমাদের নতুন বাসাগুলোর নির্মাণকাজ শেষ হলে সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সঙ্গে আলোচনা করব। খালি থাকা বাসাগুলো কীভাবে ব্যবহার করা যায়, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আলোচনা করে পুরোনো বাসার ভাড়া কমানোর সুযোগ থাকলেও তা বিবেচনা করা যেতে পারে। এতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এসব বাসায় থাকার সুযোগ বাড়বে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাবাগান ও রাঙ্গামাটি এলাকায় কর্মচারীদের বসবাসের বিষয়ে তিনি বলেন, “কর্মচারীরা সেখানে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ ব্যবস্থাপনা সংরক্ষণ কমিটির পক্ষ থেকে কিছু পরিকল্পনা করা হচ্ছে। কোনো কর্মচারী অবসরে গেলে সংশ্লিষ্ট বাসাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে আনা হবে, যাতে অন্য কারও কাছে তাঁরা বাসাটি বরাদ্দ দিতে না পারেন। এভাবেই কমানো যেতে পারে।”

ওই এলাকাগুলোতে বিদ্যুতের মিটার টেম্পারিংয়ের অভিযোগের বিষয়েও পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন উপ-উপাচার্য। তিনি বলেন, “সেখানে বিদ্যুতের মিটার টেম্পারিংয়ের ঘটনা ঘটছে। এর ফলে যে বিদ্যুৎ বিল তিন হাজার টাকা আসার কথা, সেখানে বিল দেওয়া হচ্ছে ৫০০ টাকা। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ বাবদ মাসে প্রায় ১৪ থেকে ১৫ লাখ টাকা খরচ হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। এ বিষয়ে পরবর্তী সভায় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আমরা পরিকল্পনা করছি, ওই এলাকাগুলো পল্লী বিদ্যুতের আওতায় দেওয়া হবে। সেখানে প্রত্যেকের আলাদা মিটার থাকবে এবং সেই অনুযায়ী বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে হবে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো আর্থিক ক্ষতি হবে না।”

প্রভোস্টদের আবাসন বিষয়ে অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব আবাসিক বাসা রয়েছে, সেগুলো প্রভোস্টরা চাইলে ব্যবহার করতে পারেন। এ ছাড়া প্রভোস্টদের জন্য নির্ধারিত ১৮টি বাসার নির্মাণকাজ শেষ হলে প্রতিটি হলের প্রভোস্টের জন্য বাসা নির্ধারণ করা হবে। এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নোটিশ দিয়ে তাঁদের হলে অবস্থানের জন্য আহ্বান জানানো হবে।”

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত