যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় প্রতিবাদ, চার দফা দাবি

আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫৬ পিএম

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ‘সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা’ পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।

আজ ১০ অক্টোবর ২০২৬ অনুষ্ঠিতব্য পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ বলেন, রাষ্ট্রীয় নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের মতো ঘটনা মেধাভিত্তিক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের প্রত্যাশার সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক।

এক যৌথ বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, “বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রম ও প্রস্তুতির পর নিয়োগ পরীক্ষার ঠিক আগমুহূর্তে প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে পরীক্ষা স্থগিত হওয়া চাকরিপ্রত্যাশীদের জন্য চরম হতাশাজনক। এ ধরনের অনিয়ম সৎ ও মেধাবী প্রার্থীদের সমান সুযোগ থেকে বঞ্চিত করে এবং রাষ্ট্রীয় নিয়োগব্যবস্থার প্রতি তাঁদের আস্থা নষ্ট করে। যোগ্যতার ভিত্তিতে কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করার পরিবর্তে প্রশ্নফাঁস ও জালিয়াতির মতো ঘটনা তরুণদের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেয়।”

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, “বিএনপি সরকার গঠনের আট মাস না পেরোতেই বিসিএসের চূড়ান্ত গেজেট থেকে প্রার্থী বাদ দেওয়া, পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে নিয়োগ আটকে রাখা, ভাইভার নম্বর ৪০০ শতাংশ বাড়ানোর বিতর্কিত সুপারিশ এবং সর্বশেষ প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

ফ্যাসিবাদী শাসনামলে পিএসসি থেকে শুরু করে বিভিন্ন সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও অনিয়মের যে ধারাবাহিকতা দেখা গেছে, সংকীর্ণ দলীয় স্বার্থে সেই পুরোনো এস্টাবলিশমেন্ট বহাল রাখার কারণে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে। নতুন বাংলাদেশে নিয়োগব্যবস্থায় অতীতের অনিয়ম ও দলীয়করণের ধারাবাহিকতা কোনোভাবেই কাম্য নয়। নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা অসাধু প্রভাব নয়, বরং যোগ্যতা, দক্ষতা ও মেধাই হতে হবে একমাত্র বিবেচ্য।”

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের চিহ্নিত করা এবং নিয়োগব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে চার দফা দাবি পেশ করেন।

দাবিসমূহ:

১। প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের চিহ্নিত করা এবং দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

২। প্রশাসনিক ব্যর্থতার দায়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে অবিলম্বে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে।

৩। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের যাতায়াত ব্যয় বিবেচনায় উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

৪। পুরোনো এস্টাবলিশমেন্ট পরিবর্তন করে সৎ, যোগ্য ও মেধাবী ব্যক্তিদের নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, সংরক্ষণ ও বিতরণে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তাব্যবস্থা চালু করে প্রশ্নফাঁসের পুনরাবৃত্তি রোধ করতে হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত