পিটিআইকে পাকিস্তান সরকারের কড়া হুঁশিয়ারি

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৪ এএম

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে চলমান লংমার্চকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি আজ রবিবার সারা দেশ থেকে দলের নেতাকর্মীদের সোয়াবি ইন্টারচেঞ্জে সমবেত হওয়ার আহ্বান জানানোর পর পিটিআইকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার। একই সঙ্গে খাইবার পাখতুনখাওয়ায় জরুরি অবস্থা জারি কিংবা গভর্নর শাসন প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাও সামনে এসেছে। সোয়াবি ইন্টারচেঞ্জের সমাবেশ থেকে ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে ইসলামাবাদ অভিমুখে লংমার্চের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন সোহেল। এমন পরিস্থিতিতে পিটিআইকে খাইবার পাখতুনখাওয়ার বাইরে লংমার্চ এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছেন কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রীরা।

পাকিস্তানের সংবাদ মাধ্যম জিও নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিটিআইয়ের আন্দোলন, সন্ত্রাসবাদবিরোধী নীতি নিয়ে কেন্দ্র ও প্রাদেশিক সরকারের মতপার্থক্য এবং খাইবার পাখতুনখাওয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি সব মিলিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার কঠোর পদক্ষেপের বিষয়টি বিবেচনা করছে। পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের মিত্র পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো-জারদারি পিটিআইকে ‘উগ্রবাদী’ রাজনীতি পরিহারের আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি পিটিআইয়ের আন্দোলন ও রাজনৈতিক কৌশলের সমালোচনা করেছেন বিলাওয়াল ভুট্টো। করাচিতে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, পাকিস্তানের রাজনৈতিক ইতিহাস প্রমাণ করে, আজ যারা কারাগারে আছেন, তারা আগামীকাল ক্ষমতায়ও ফিরতে পারেন। তাই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দীর্ঘদিন কারাগারে রাখাই সমস্যার সমাধান নয়। তবে একই সঙ্গে পিটিআইকে তাদের ‘উগ্রবাদী’ রাজনৈতিক অবস্থান থেকে সরে আসার আহ্বান জানান তিনি। বিলাওয়ালের মতে, সংঘাত ও মুখোমুখি অবস্থানের রাজনীতি শেষ পর্যন্ত পিটিআইয়ের নিজেদেরই ক্ষতি করছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, খাইবার পাখতুনখাওয়ায় জরুরি অবস্থা জারি অথবা গভর্নরের মাধ্যমে প্রদেশের শাসন পরিচালনার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। এ নিয়ে গতকাল শনিবার ইসলামাবাদে উচ্চপর্যায়ের একটি বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। বৈঠকে প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাদের উপস্থিত থাকার কথা। জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনও পর্যালোচনা করা হতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। বিবেচনাধীন প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে, সাবেক কেন্দ্রশাসিত উপজাতীয় এলাকাসহ খাইবার পাখতুনখাওয়ার ১২টি জেলায় জরুরি অবস্থা জারি করা। প্রদেশের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতাগুলো কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে নেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সূত্রের দাবি, খাইবার পাখতুনখাওয়ার পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে। এ ক্ষেত্রে পাকিস্তানের সংবিধানের ২৩২ থেকে ২৩৪ অনুচ্ছেদের প্রয়োগ নিয়েও আলোচনা হতে পারে। তবে গভর্নর শাসনকে একেবারে শেষ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন বিলাওয়াল ভুট্টো-জারদারি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত