ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় আগামী তিন মাস বিশেষ কর্মসূচি পালনের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ কর্মসূচির আওতায় প্রতি শনিবার ব্যাংকগুলোর সব স্থাপনায় এডিস মশার প্রজননক্ষেত্র ধ্বংসে বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করতে হবে।
রবিবার (১১ অক্টোবর) এ বিষয়ে নির্দেশনা জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও গ্রাহকদের ডেঙ্গু থেকে সুরক্ষিত রাখার লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়, শাখা, উপশাখা, এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট, প্রশিক্ষণকেন্দ্র ও এটিএম বুথসহ সব স্থাপনায় পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা-সহ সারা দেশে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। প্রতিদিন উল্লেখযোগ্যসংখ্যক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলা, মৌসুমি বৃষ্টিপাত, জমে থাকা পানি ও বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এডিস মশার প্রজননক্ষেত্র বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে মশার বংশবিস্তার রোধের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোর ভবনের ছাদ, গ্যারেজ, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বা এসি, ফ্রিজ, পানির ট্যাংক ও রান্নাঘর নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে। এ ছাড়া পরিত্যক্ত ফুলের টব, অব্যবহৃত কৌটা, পুরোনো টায়ার ও প্লাস্টিকের বোতলসহ যেসব স্থানে পানি জমে এডিস মশার বংশবিস্তার হতে পারে, সেগুলো অপসারণ বা বিনষ্ট করতে হবে।
ব্যাংকের নিজস্ব ভবনের পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক স্থাপনাগুলোতেও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে ব্যাংকের কর্মক্ষেত্র ও আশপাশের এলাকায় নিয়মিত মশা নিধনের ওষুধ, স্প্রে কিংবা কয়েল ব্যবহার করতে বলা হয়েছে।
এ ছাড়া গ্রাম, শহর ও নগরের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের মতো দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর গৃহীত কার্যক্রমে ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করেছে।