তিন উইকেটে ৫৩। সেখান থেকে ১৫৯ রানের জুটি গড়ে বড়ো লিড এনে দিয়েছিলেন মুশফিকুর রহিম ও নাজমুল হোসেন শান্ত। দুজনই সেঞ্চুরির দিকে এগোচ্ছিলেন। কিন্তু আবুধাবি টেস্টের তৃতীয় দিনের শেষ বিকেলে দুজনই ৮০ প্লাস ইনিংস খেলে আউট হয়ে যান। নাইটওয়াচম্যান হাসান মাহমুদও আউট হয়ে গেলে ৬ উইকেটে ২২৩ রানে দিন শেষ করেছে বাংলাদেশের। লিড ৩২৯ রানের।
হাসান মাহমুদের হ্যাটট্রিকসহ ৫ উইকেট ও এবাদত হোসেনের ৪ শিকারে আফগানিস্তানের প্রথম ইনিংস আজ লাঞ্চের আগেই ২৪০ রানে গুটিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ।
১০৬ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুটা ভালোই করেছিলেন সাদমান ও তানজিদ। তবে সাদমানের আউটে ৩১ রানের জুটি ভাঙে। টেস্টে দ্বিতীয়বার শর্ট বলে ফেরেন সাদমান ইসলাম।
মোহাম্মদ সালিমের বলে ছক্কার চেষ্টায় ডিপ স্কয়ার লেগে সহজ ক্যাচ দেন, যা ধরে নেন আফগান অধিনায়ক রহমত শাহ। ২২ বলে দুই চারে ১৩ রান করেন সাদমান।
লাঞ্চের আগে শেষ ওভারে মুমিনুল হককেও হারায় বাংলাদেশ। ইয়ামিন আহমাদজাইয়ের অফ স্টাম্পের বাইরের বল জায়গায় দাঁড়িয়ে খেলতে গিয়ে স্লিপে ক্যাচ তুলে দেন মুমিনুল। দারুণ রিফ্লেক্সে ডানদিকে ঝাঁপিয়ে ক্যাচ নেন আতাল। ১৪ বলে এক চারে ৭ রান করেন মুমিনুল। ২ উইকেটে ৪৪ রান নিয়ে লাঞ্চ করতে যায় বাংলাদেশ।
বিরতির পর ইয়ামিনই আউট করেন তানজিদ তামিমকে। অফ স্টাম্পের বাইরের বলের লাইনে পুরোপুরি যেতে পারেননি তানজিদ। জায়গায় দাঁড়িয়ে খেলতে গিয়ে দ্বিতীয় স্লিপে সহজ ক্যাচ দেন তিনি। ৩৮ বলে ছয় চারে ৩১ রান করেন প্রথম ইনিংসে ৮৩ রান করা তানজিদ।
ক্রিজে নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গী হন মুশফিকুর রহিম। আফগান পেসাররা সেই সময় বেশ ভীতি ছড়াচ্ছিলেন। সেই সময়টা কাটিয়ে দিতে বড় ভূমিকা রাখেন মুশফিক। সিলেটে পাকিস্তানের বিপক্ষে সেঞ্চুরির পর রান খরায় পড়া মুশফিকুর রহিম ৭৩ বলে ক্যারিয়ারের ৩০তম ফিফটি।
দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ১৩৫ বলে পঞ্চাশ স্পর্শ করেন নাজমুল হোসেন শান্ত।
সেঞ্চুরির আশা জাগিয়ে দুজনেই কেউই তিন অংকের স্বাদ নিতে পারেননি। দলের রান যখন ৪ উইকেটে ২১৩, তখন স্পিনার জিয়া-উর-রেহমানের শর্ট বল কিপারের মাথার উপর দিয়ে পাঠাতে চেয়েছিলেন মুশফিক। কিন্তু বাড়তি বাউন্সের জন্য ঠিকঠাক খেলতে পারেননি। বাইরের কানায় লেগে সহজ ক্যাচ যায় স্লিপে। ভাঙে ৩০৩ বল স্থায়ী ১৫৯ রানের জুটি। ১৪৮ বলে ৯ চারে ৮১ রান করে যান মুশফিক। শান্ত করেছেন তার চেয়ে ১ রান বেশি। মুশফিক আউট হওয়ার ৫ ওভার পর আরেক স্পিনার কাইস আহমেদের বল পা বাড়িয়ে খেলতে চেয়েছিলেন শান্ত; কিন্তু প্রত্যাশার অনেক বেশি স্পিন করে, ব্যাটের কানা এড়িয়ে আঘাত হানে স্টাম্পে।
৬ বল খেলে হাসান মাহমুদও আউট হয়ে যান শেষ বিকেলে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ৩৪৬
আফগানিস্তান ১ম ইনিংস: ৮৯.১ ওভারে ২৪০ (রেহমাত ১০৫*, ইকরাম ৩২, ইসমাত ১, কাইস ০, জিয়া ০, ইয়ামিন ০, সালিম ০; হাসান ২১-৫-৫৫-৫, ইবাদত ১৫.১-৩-৫৬-৪, মিরাজ ২১-৭-৪১-১, তাইজুল ২১-৪-৪৪-০, নাঈম ১০-০-৩৭-০, মুমিনুল ১-০-৬-০)
বাংলাদেশ ২য় ইনিংস: ৭২ ওভারে ২২৩/৬ (সাদমান ১৩, তানজিদ ৩১, মুমিনুল ৭, শান্ত ৮২, মুশফিক ৮১, লিটন ৫*, হাসান ১, মিরাজ ০*; ইয়ামিন ১১-১-৪২-২, সালিম ১৩-৩-৩৯-১, ইসমাত ৩-০-৯-০, জিয়া ২৩-৩-৫৫-২, কাইস ৭-০-৩৬-১, মালিক ৩-১-৯-০, শাহিদি ১২-০-৩২-০)