নেপালের মধ্যাঞ্চলের একটি নদীতে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে। কাঠমান্ডু পোস্ট জানিয়েছে, রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার পশ্চিমে গুর্খা জেলার চুমনুব্রি গ্রামে গতকাল রবিবার একটি ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। এতে বুধি গণ্ডকী নদীর প্রবাহ আটকে গিয়ে ভাটি অঞ্চলে বন্যার সৃষ্টি হয়।
বন্যার তোড়ে বেশ কিছু বাড়িঘর ও অবকাঠামো ভেসে যাওয়ার পর কর্র্তৃপক্ষ গ্রামবাসীকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৫ জন নিখোঁজ হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। বুধি গণ্ডকী হলো ত্রিশূলী নদীর একটি উপনদী। ত্রিশূলীর অন্য একটি উপনদীর ভাটি অঞ্চলেই গত আগস্টে হিমবাহ ধসে প্রলয়ঙ্করী বন্যা দেখা দিয়েছিল। ওই দুর্যোগে ১ হাজার ৪৫৭ জন প্রাণ হারান, এখনো নিখোঁজ আছে ৫ হাজারের বেশি মানুষ। এ নিয়ে গত ২ মাসে তিনবার ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার কবলে পড়ল হিমালয়ের কন্যাখ্যাত নেপাল।
গুর্খা জেলার সর্বোচ্চ প্রশাসনিক কর্মকর্তা ধর্মেন্দ্র কুমার মিশ্র বলেন, ‘আমরা ভাটি অঞ্চলে নদীর তীরবর্তী গ্রামবাসীকে বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছি।’ তিনি আরও জানান, আকস্মিক বন্যায় প্রায় এক ডজন বাড়ি এবং দুটি ঝুলন্ত সেতু ভেসে গেছে। এ ছাড়া একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণশিবির ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখান থেকে নির্মাণকাজে ব্যবহৃত কিছু সরঞ্জামও পানির স্রোতে ভেসে যায়। নেপালের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, এ ঘটনায় একজন বিদেশিসহ অন্তত ৪৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে উদ্ধার হওয়া বিদেশি নাগরিকের জাতীয়তা প্রকাশ করা হয়নি। গুর্খা, তানাহু, চিতওয়ান, পূর্ব নওয়ালপরাসী এবং পশ্চিম নওয়ালপরাসী জেলার নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের বন্যার বিষয়ে সতর্ক করেছে জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্র্তৃপক্ষ। কর্মকর্তারা জানান, সেনাবাহিনী ও পুলিশের উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে কাজ করছেন। তারা হেলিকপ্টার থেকে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। এই আকস্মিক বন্যার কারণ কীÑ তা খতিয়ে দেখছে নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্র্তৃপক্ষ। দপ্তরটির প্রধান ধরম রাজ উপ্রেতি জানান, বন্যার স্রোতে গোর্খা জেলার সঙ্গে পার্শ্ববর্তী ধাদিং জেলার সংযোগকারী একটি মহাসড়ক সেতুও ভেসে গেছে।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, সুউচ্চ পাহাড়ের বুক চিরে বয়ে চলা করালগ্রাসী নদীর স্রোতে একের পর এক বাড়িঘর ও অবকাঠামো ভেসে যাচ্ছে। পাহাড়ি অঞ্চলের একাধিক ছোট গ্রাম এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় কর্র্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কাঠমান্ডুর সঙ্গে সংযোগকারী মহাসড়কের তীরবর্তী শহর আরুঘাটে সরকারি সতর্কবার্তার পর দ্রুত মানুষ নিরাপদ স্থানে সরে যেতে সক্ষম হয়। নতুন করে বন্যার ঘটনায় নদীতীরবর্তী জনপদগুলোতে উদ্বেগ বেড়েছে। বিশেষ করে ভূমিধসের কারণে নদীর প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় ভাটির বিস্তীর্ণ এলাকায় পানি ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নিখোঁজ ৫ জনের সন্ধানে তৎপরতা চালানোর পাশাপাশি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে নেপালের সেনাবাহিনী, পুলিশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্র্তৃপক্ষ।