বিএনপির সংসদীয় দলের সভা

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা

আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৬ এএম

বিএনপির সংসদীয় দলের সভা গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদ ভবনে সরকারদলীয় সদস্যদের নির্ধারিত সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ ছাড়া আসন্ন দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন নিশ্চিত করতে এমপিদের নিজ নিজ এলাকায় তদারকি করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। সভা সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে সভা শুরু হয়ে রাত ১০টার দিকে শেষ হয়। সভায় স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ড. মঈন খান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামানসহ আরও কয়েকজন সংসদ সদস্য বক্তব্য রাখেন। এ সময় সংসদ সদস্য ও দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম বলেন, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো ধরনের প্রভাব বিস্তার বা প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ বরদাশত করা হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে খোলামেলা ও বিশদ আলোচনা হয়েছে। সরকার যেসব উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করছে, তার সুফল মাঠ পর্যায়ে সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছাচ্ছে কি না তা গভীরভাবে মূল্যায়নের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

চাঁদাবাজি ও দখলদারত্বের বিরুদ্ধে সরকারের সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, কোনো অবস্থাতেই চাঁদাবাজ ও দখলদারের জায়গা বিএনপিতে নেই। দলের পরিচয় দিয়ে কেউ অপকর্ম করলে ছাড় দেওয়া হবে না।

দুর্গাপূজার নিরাপত্তা প্রসঙ্গে চিফ হুইপ জানান, উৎসব চলাকালে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর বা উসকানিমূলক ঘটনা না ঘটে, সেজন্য নিিদ্র নজরদারির জন্য বিশেষ দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। প্রতিটি সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকার পূজাম-পগুলোর আয়োজনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক সম্পৃক্ত থাকতে বলা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সংসদ সদস্যরা মাঠপর্যায়ে সমন্বয়ের কাজ করবেন।

সভায় জানানো হয় শিগগিরই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ও আয়োজন সম্পন্ন হবে। এ জন্য দলের অভ্যন্তরীণ ঐক্য অটুট রাখার এবং সরকারের ইতিবাচক উন্নয়ন কর্মকা- জনগণের সামনে তুলে ধরার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনকে শতভাগ অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু করতে কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ না করার যে বার্তা প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন, তা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে। একই সঙ্গে নির্বাচনে একক প্রার্থী দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন চিফ হুইপ।

সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ এলাকার বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন। এ সময় একাধিক সংসদ সদস্য ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিগত ১৭ বছর দিনের পর দিন আমরা জেল খেটেছি। সহজে জামিন পাইনি। এখন সন্ত্রাসীরা সহজে জামিন পেয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি শক্তভাবে দেখার জন্য আইনমন্ত্রীকে অনুরোধ জানান। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে দুই-একজন সদস্য অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তারা মিরপুরের রাড্ডায় ভাঙচুরের বিষয়টি তুলে ধরেন। জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুলিশের সংকটের কথা তুলে ধরে শিগগিরই লোকবল নিয়োগের কথা জানান।

সভায় সংসদ সদস্যদের বক্তব্যের পর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বক্তব্য দেন।

জানা গেছে, সভায় উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ ছাড়া রাজনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় সজাগ থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সাধারণত সংসদ অধিবেশন শুরু হওয়ার দু-এক দিন আগে বা অধিবেশনের মধ্যে সংসদীয় দলের সভা হয়। এবার সংসদের পরবর্তী অধিবেশনের দিনক্ষণ নির্ধারণের আগেই সভা ডাকা হয়েছে। আগামী নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে সংসদের অধিবেশন শুরু হতে পারে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত