পরিপত্র জারি

৩৯ দিবস উদযাপনে ব্যয়সীমা ৫০ হাজার

৩ দিনে সীমিত করতে নির্দেশ

আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৬ এএম

ব্যয় সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সরকার অনুমোদিত ৩৯ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপনে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ের বিধান রেখে পরিপত্র জারি করা হয়েছে।

গতকাল রবিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারিকৃত নতুন পরিপত্রে ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন এবং ওই দিন সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। আরও রয়েছে ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ও ১৭ অক্টোবর লালন সাঁই-তিরোধান দিবস।

পরিপত্রে বলা হয়, জাতীয় পর্যায়ের উৎসবসমূহ ব্যতীত সাধারণভাবে দিবস পালনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সাজসজ্জা ও বড় ধরনের বিচিত্রানুষ্ঠান যথা সম্ভব পরিহার করতে হবে। রেডিও ও টেলিভিশনে আলোচনা এবং সীমিত আকারে সেমিনার/সিম্পোজিয়াম আয়োজন করা যাবে। কর্মদিবসে সমাবেশ/শোভাযাত্রা পরিহার করতে হবে। কোনো সপ্তাহ পালনের ক্ষেত্রে অনুষ্ঠানসূচি সাধারণভাবে তিন দিনের মধ্যে সীমিত থাকবে। সরকারিভাবে গৃহীত কোনো কর্মসূচি যাতে অফিসের কর্মকাণ্ডে ব্যাঘাত না ঘটায়, তা নিশ্চিত করতে হবে এবং আলোচনা বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানাদি ছুটির দিনে অথবা অফিস সময়ের পর আয়োজনের চেষ্টা করতে হবে। নগদ কিংবা উপকরণ আকারে অর্থ/সম্পদ ব্যয়ের প্রয়োজন হবে না এ রূপ সাধারণ ইভেন্টসমূহ ছুটির দিনে কিংবা কার্যদিবসে আয়োজন করা যাবে। কোনো দিবস বা সপ্তাহ পালন উপলক্ষে রাজধানীর বাইরে থেকে/জেলাপর্যায় হতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঢাকায় আনা যথাসম্ভব পরিহার করা হবে।

এতে আরও বলা হয়, সরকারি ব্যয় সাশ্রয়ের ধারাবাহিকতা রক্ষার্থে মন্ত্রণালয়/বিভাগসমূহের নিজ নিজ অধিক্ষেত্রে সমধর্মী জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবসসমূহ পালনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপনকে প্রাধান্য দিয়ে এ রূপ দিবসসমূহ একই তারিখে একত্রে পালন করা আবশ্যক। মন্ত্রণালয়/বিভাগসমূহ প্রযোজ্য ক্ষেত্রে এতদবিষয়ক সারসংক্ষেপ মন্ত্রিসভা-বৈঠকে উপস্থাপনের লক্ষ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠাবে।

যেসব দিবস ঐতিহ্যগতভাবে পালন করা হয়ে থাকে অথবা বর্তমান সময়ে দেশের পরিবেশ সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও সামাজিকভাবে উদ্বুদ্ধকরণের জন্য বিশেষ সহায়ক, সেসব দিবস উল্লেখযোগ্য কলেবরে পালন করা যেতে পারে। মন্ত্রিবৃন্দ এসব অনুষ্ঠানে সম্পৃক্ত থাকবেন এবং এ ধরনের অনুষ্ঠানের গুরুত্ব বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হবে। এ পর্যায়ের অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য সরকারি উৎস হতে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ প্রদান করা যেতে পারে। এ ধরনের ৩৯টি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবসের তালিকা পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরিপত্রে বলা হয়, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহ এমন কিছু দিবস পালন করে থাকে, যা গতানুগতিক প্রকৃতির। কোনো কোনো ক্ষেত্রে দিবসসমূহ পুনরাবৃত্তিমূলক এবং বর্তমান সময়ে তেমন কোনো গুরুত্ব বহন করে না। সরকারের সময় ও সম্পদ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সরকারি সংস্থাসমূহ এ ধরনের দিবস পালনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা পরিহার করতে পারে।

সপ্তাহব্যাপী জনসচেতনতা সৃজনমূলক কর্মসূচি যেমন শিক্ষা সপ্তাহ, প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ, বিজ্ঞান সপ্তাহ, বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ (১-৭ আগস্ট), বিশ্ব শিশু সপ্তাহ (২৯ সেপ্টেম্বর-৫ অক্টোবর), জাতীয় প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ (নভেম্বর মাসের তৃতীয় সপ্তাহ), সশস্ত্র বাহিনী দিবস (২১ নভেম্বর), পুলিশ সপ্তাহ, বিজিবি সপ্তাহ, আনসার সপ্তাহ, মৎস্য পক্ষ, বৃক্ষরোপণ অভিযান এবং জাতীয় ক্রীড়া সপ্তাহ পালনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা নিয়ে কর্মসূচি গ্রহণ করবে। অনুমোদিত কর্মসূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠানাদির আয়োজন করা হবে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব তানিয়া আফরোজ স্বাক্ষরিত ওই পরিপত্রে বলা হয়, সরকারিভাবে গৃহীত কোনো কর্মসূচি যাতে অফিসের কর্মকা-ে ব্যাঘাত না ঘটায়, তা নিশ্চিত করতে হবে এবং আলোচনা বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানাদি ছুটির দিনে অথবা অফিস সময়ের পর আয়োজনের চেষ্টা করতে হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত