ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আন্দোলন জোরদার করতে সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দিয়েছে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। সোমবার (১২ অক্টোবর) কংগ্রেসের ‘চলো দিল্লি’ কর্মসূচিতে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব ও রাষ্ট্রীয় জনতা দলের প্রধান তেজস্বী যাদবসহ জোটের একাধিক নেতার অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। একই দিন সন্ধ্যায় জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জমা দেওয়ারও ঘোষণা দিয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। খবর এনডিটিভির।
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় কথিত অনিয়মের অভিযোগে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এই আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে বিরোধীরা। একই দাবিতে অরাজনৈতিক ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ও (সিজেপি) বিক্ষোভ করছে।
রবিবার (১১ অক্টোবর) আন্দোলনে সামনের সারিতে ছিলেন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (আইসা)-র ছাত্রনেত্রী নেহা বোরা। পুলিশ তাকে বাধা দেয় এবং পরে আটক করে। তার সঙ্গে থাকা আরও বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকেও আটক করা হয়। একই এলাকা থেকে সিপিআই(এম)-এর রাজ্যসভার সাংসদ জন বিট্টাসকে আটক করে পুলিশ।
এদিকে, বিরোধী নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে রাজি হননি ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। সাক্ষাতের পরিবর্তে আদালতে আবেদন জমা দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। এনডিটিভির সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, বিরোধীদের উত্থাপন করতে চাওয়া বিষয়গুলো ইতিমধ্যে সুপ্রিম কোর্টের বিচারাধীন এবং সেগুলো নিয়ে শুনানি চলছে বলে জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি।
এ পরিস্থিতিতে জ্ঞানেশ কুমারকে কটাক্ষ করে রাহুল গান্ধী বলেছেন, বিরোধীদের আন্দোলনের মুখে ভয়ে ঘুমাতে পারছেন না প্রধান নির্বাচন কমিশনার।
দিল্লিতে সাংবাদিকদের রাহুল বলেন, ‘জ্ঞানেশ কুমার ভয়ের মধ্যে আছেন। তিনি ঘুমাতে পারছেন না।’
বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের আচরণ প্রসঙ্গে কংগ্রেস নেতা দাবি করেন, পুলিশের অন্তত ৫০ শতাংশ সদস্য তাঁদের জানিয়েছেন, তাঁরা সঠিক কাজ করছেন। তাঁর ভাষ্য, ‘আপনারা যদি ক্লান্ত হয়ে থাকেন, পুলিশও ক্লান্ত। পুলিশ সদস্যরাও প্রশ্ন করছেন, “জ্ঞানেশ কুমারের মতো একজন চোরকে আমরা কেন রক্ষা করছি?”’
রাহুল আরও বলেন, ‘এখন বিষয়টি ধৈর্য ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার। আমরা থামব না। এর জন্য যত সময়ই লাগুক—দিন, সপ্তাহ, মাস কিংবা বছর।’
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে উদ্দেশ করে তিনি দাবি করেন, তার সরকারের ভেতরের ২০০ কর্মকর্তা বিরোধীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং বিভিন্ন তথ্য সরবরাহ করছেন।
ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিকে কেন্দ্র করে ভারতের নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ছে। সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জমা দেওয়ার ঘোষণা এবং প্রতিবাদ মিছিলের মধ্য দিয়ে আন্দোলন আরও জোরদার করতে চাইছে বিরোধী জোট।
ককরোচ জনতা পার্টি ও ছাত্র সংগঠনগুলোর বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে শনিবার কঠোর নিরাপত্তা, ইন্টারনেট ব্যাহত এবং মেট্রো-রেল বন্ধের অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টে মামলা হয়। রবিবার বিশেষ শুনানিতে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ কেন্দ্রকে নোটিস দেয়।
শীর্ষ আদালত নির্দেশ দেয়, মেট্রো ও রেল পরিষেবা স্বাভাবিক রাখতে হবে, ব্যারিকেডের প্রয়োজনীয়তা পর্যালোচনা করতে হবে এবং ইন্টারনেট পরিষেবা অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে। আদালত আরও বলে, শান্তিপূর্ণ ও নিরস্ত্র জমায়েতের ক্ষেত্রে আইননির্ধারিত পদ্ধতি মেনেই পদক্ষেপ করতে হবে। যেখানে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা কার্যকর নয়, সেখানে আইনসম্মত প্রক্রিয়া ছাড়া কাউকে আটক করা যাবে না। অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, অবৈধ আটক বা নেমট্যাগ ছাড়া পুলিশের রাস্তায় থাকার অভিযোগেরও জবাব দিতে হবে।
দিল্লির 'গণগ্রেপ্তারে' জাতিসংঘের উদ্বেগ, জবাব দিল ভারত
উত্তাল দিল্লি: রাহুল গান্ধীসহ কয়েক সাংসদ আটক