‘অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে হত্যা করে ৯৯৯-এ খবর দিলেন স্বামী’

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্ত্রীর মরদেহের পাশে স্বামীকে ধূমপান করতে দেখে। পরে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১৮ পিএম

গাজীপুরের শ্রীপুরে পারিবারিক কলহের জেরে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যার পর জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে খবর দিয়েছেন অভিযুক্ত উদ্ভব কুমার দাস। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্ত্রীর মরদেহের পাশে স্বামীকে ধূমপান করতে দেখে। পরে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

রোববার রাত ১২টার দিকে উপজেলার রাজাবাড়ি ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বড়চলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত নারীর নাম সীমা রানী দাস (২৩)। তার বাড়ি দিনাজপুরে। অভিযুক্ত স্বামী তিনি একই গ্রামের নকুল কুমার দাসের ছেলে। পরিবারের দাবি, উদ্ভব মাদকাসক্ত ছিলেন। তিনি প্রায়ই স্ত্রীকে মারধর করতেন। খবর পেয়ে রাতেই পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

স্থানীয়রা জানান, রাতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে বিষয়টি জানাজানি হয়। সীমা রানীকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পরে উদ্ভব নিজেই ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সীমা রানীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে।

নিহতের স্বজন সুবল দাস জানান, সীমা রানী নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। চলতি মাসের শেষের দিকে সন্তান প্রসবের সম্ভাব্য তারিখ দেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, অভিযুক্ত উদ্ভব মাদকাসক্ত ছিলেন। তিনি প্রায়ই স্ত্রী সীমাকে মারধর করতেন। এবার তাকে মেরেই ফেললেন।

রাজাবাড়ি ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য গিয়াস উদ্দীন খান জানান, রাতে হত্যার ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। এতে একসঙ্গে দুটি প্রাণের মৃত্যু হয়েছে।

শ্রীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম জানান, স্ত্রীকে হত্যার পর ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে বিষয়টি জানান স্বামী। পরে পুলিশ তার স্ত্রীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত