ট্রাম্পের এশিয়া সফরে কিমের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা

আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১৬ এএম

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনের সঙ্গে বৈঠকের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী মাসে তার এশিয়া সফরের সময়ই কিমের সঙ্গে বৈঠক হতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি। তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, গত সোমবার হোয়াইট হাউজ থেকে ওহাইও যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন ট্রাম্প। আগামী ১৬ নভেম্বর ফিলিপাইনে দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট আসিয়ানের সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে ট্রাম্পের। এরপর ১৭ থেকে ১৯ নভেম্বর চীনের শেনজেনে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা (এপেক) সম্মেলনে অংশ নেবেন তিনি। এশিয়া সফরের সময় এসব সম্মেলনের কোনো একটির ফাঁকে কিমের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠক হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে, এ বিষয়ে এখনো যুক্তরাষ্ট্র বা উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

নিজের প্রথম মেয়াদে কিমের সঙ্গে তিনবার সরাসরি বৈঠক হয়েছিল ট্রাম্পের। ২০১৮ সালের ১২ জুন সিঙ্গাপুরে প্রথমবারের মতো বৈঠকে বসেন দুই নেতা। ওই বৈঠকে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়। এরপর ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভিয়েতনামের হ্যানয়ে দ্বিতীয়বার বৈঠক করেন দুই রাষ্ট্রপ্রধান। তবে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয় তাদের আলোচনা। একই বছরের ৩০ জুন দক্ষিণ ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যবর্তী অসামরিকীকৃত অঞ্চলের পানমুনজমে তৃতীয়বারের মতো মুখোমুখি হন দুই নেতা। ওই বৈঠকের সময় সামরিক সীমারেখা পেরিয়ে উত্তর কোরিয়ার ভূখণ্ডে পা রাখেন ট্রাম্প। দায়িত্বে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রেসিডেন্টের উত্তর কোরিয়ার মাটিতে পা রাখার সেটিই ছিল প্রথম ঘটনা।

এদিকে, ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের গুঞ্জনের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানতে সক্ষম একটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) সজ্জিত প্রতিরক্ষা শিল্প জাদুঘর পরিদর্শন করেছেন কিম জং উন। গতকাল মঙ্গলবার দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। জাদুঘরটিতে কিমের মেয়াদে তৈরি ড্রোন থেকে শুরু করে হোয়াসং-২০ আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রসহ নানা ধরনের অত্যাধুনিক সামরিক অস্ত্রশস্ত্র প্রদর্শন করা হয়েছে।

কোরিয়া ডিফেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি ফোরামের মহাসচিব শিন জং-উ বলেন, হোয়াসং-২০ লঞ্চারের সামনে রাখা প্রদর্শনীতে একাধিক ওয়ারহেড বহনে সক্ষম নকশা এবং একটি বিশ্বমানচিত্র দেখা গেছে। ওই মানচিত্রে ক্ষেপণাস্ত্রটির আঘাত হানার সীমা যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ড ছাড়িয়ে মধ্যপ্রাচ্য, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আমেরিকা পর্যন্ত দেখানো হয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত