হরমুজে ২ জাহাজ ডুবিয়ে দিল ইরান

আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪২ এএম

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির কাছে পৃথক দুটি স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্রসদৃশ অস্ত্রের আঘাতে একটি কনটেইনার জাহাজ এবং একটি বাল্ক ক্যারিয়ার জাহাজ ডুবে গেছে। সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথের আশপাশে জাহাজে হামলার ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তেলের দাম চড়া রাখতে হরমুজে বিদেশি জাহাজগুলোয় হামলা চালানো হবে। হামলায় একটি জাহাজের একজন নাবিক নিহত হয়েছেন। অন্য জাহাজটির ২১ নাবিককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সামুদ্রিক কর্মকর্তারা জানান, সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী জিএফএস প্রাইড নামে একটি কনটেইনারবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় হামলার শিকার হয়। দুই হাজার ৮২৪ কনটেইনার বহনের সক্ষমতাসম্পন্ন জাহাজটিতে আঘাতের পর ক্ষতি হয় এবং আগুন ধরে যায়। পরে এটি ডুবে যায়। সিঙ্গাপুরের সামুদ্রিক ও বন্দর কর্র্তৃপক্ষ গত বুধবার এক বিবৃতিতে এ ঘটনায় কেউ আহত হয়নি বলে জানিয়েছে।

অন্যদিকে অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার পতাকাবাহী কেপ দাও নামে আরেকটি জাহাজ হরমুজ প্রণালির কাছে ডুবে গেছে। জাতিসংঘের নৌপরিবহন সংস্থা আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (আইএমও) বুধবার প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, গত ২৩ সেপ্টেম্বর ক্ষেপণাস্ত্রসদৃশ বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কয়েক সপ্তাহ পর জাহাজটি ডুবে যায়। সামুদ্রিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, ওই হামলায় জাহাজটির একজন নাবিক নিহত হন। বাকি নাবিকদের হামলার পরপরই সরিয়ে নেওয়া হয়। সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক জাহাজটির ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান পিওনিস শিপ ম্যানেজমেন্ট এফজেডইর সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। একইভাবে জিএফএস প্রাইডের সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান জিএফএস শিপ ম্যানেজমেন্ট এফজেডইর বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।

আইএমওয়ের দুর্ঘটনার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে জিএফএস প্রাইড এবং কেপ দাউ হলো দ্বিতীয় ও তৃতীয় ডুবে যাওয়া জাহাজ। হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে সিঙ্গাপুরের সামুদ্রিক ও বন্দর কর্র্তৃপক্ষ। সংস্থাটি বলেছে, এ ধরনের হামলা বিনা উসকানিতে চালানো হচ্ছে, এর কোনো যৌক্তিকতা নেই এবং এটি আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। সামুদ্রিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান মারিস্কস বলেছে, সর্বশেষ ঘটনাগুলো হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর জন্য অব্যাহত হুমকির বিষয়টি আরও স্পষ্ট করেছে। প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, এ হুমকি শুধু তেলবাহী ট্যাংকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। কনটেইনার জাহাজ ও বাল্ক ক্যারিয়ারও গুরুতর ক্ষতির শিকার হচ্ছে।

ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো ও পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার জন্য বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী অ-পারমাণবিক বোমা ‘মাদার অব অল বোম্বস’ ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে আবার সামরিক অভিযান শুরুর নির্দেশ দিলে এ বোমা ব্যবহার করা হতে পারে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত কয়েকজন কর্মকর্তার বরাতে গতকাল বৃহস্পতিবার সিএনএন জানায়, আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে কিংবা পরে এ ধরনের হামলা চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানে সম্ভাব্য হামলার জন্য নতুন পরিকল্পনা তৈরি করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এ হামলায় জিবিইউ-৪৩/বি ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স এয়ার ব্লাস্ট (এমওএবি) বোমা ব্যবহারের বিষয়টিও রয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত