যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বাসঘাতকতা করেছে : জেলেনস্কি

আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪২ এএম

রাশিয়ার কাছ থেকে জ¦ালানি কেনার নতুন চুক্তির ঘোষণা দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ তুলেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তার মতে, এই চুক্তি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের জন্য একটি সহজ জয়। ব্রিটিশ গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব পিয়ার্স মরগানের এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প প্রশাসনের আচরণকে বিশ্বাসঘাতকতা মনে করেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে জেলেনস্কি বলেন, ‘হ্যাঁ’। গত বুধবার ইউটিউবে ‘পিয়ার্স মরগান আনসেন্সরড’-এ সাক্ষাৎকারটি প্রচারিত হয়। জেলেনস্কি বলেন, ‘এটা দুঃখজনক যে আমরা একজন শক্তিশালী অংশীদারকে হারাচ্ছি।

গত সপ্তাহে সামাজিক মাধ্যমে ট্রাম্প জানান, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন বিভিন্ন বাজারে রুশ ডিজেল সরবরাহ করতে সম্মত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ¦ালানির দাম কমানোর ট্রাম্পের সর্বশেষ প্রচেষ্টা ছিল ওই চুক্তি। তবে রাশিয়ার কাছ থেকে জ¦ালানি কেনার এই উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের সদস্যদের সমালোচনার মুখে পড়ে। ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যেও এ নিয়ে ক্ষোভ দেখা দেয়। গত সোমবার ট্রাম্প দুপক্ষের মধ্যে ‘জ¦ালানি যুদ্ধবিরতি’ কার্যকর হয়েছে বলে ঘোষণা দেন। তবে মস্কো ও কিয়েভ কোনো পক্ষই প্রকাশ্যে ওই যুদ্ধবিরতির বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। ট্রাম্পের ওই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইউক্রেনে নতুন করে হামলা চালায় রুশ বাহিনী। পিয়ার্স মরগানের সঙ্গে সাক্ষাৎকারের একটি অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে জেলেনস্কি বলেন, ‘এটা আমাদের দেশ, আমাদের শরীর, আমাদের ঘরবাড়ি, আমাদের সন্তান। তাই ট্রাম্প যখন এক পক্ষকে বেছে নেন, তখন তা কষ্ট দেয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘আপনি যদি মাঝামাঝি অবস্থানে থাকেন, তাহলে সেখানেই থাকা উচিত। ভুল পক্ষের দিকে যাওয়া উচিত নয়। এটি ইতিহাসের সঠিক পক্ষ নয়।’ জেলেনস্কির দাবি, ট্রাম্পকে দুর্বল অবস্থানে দেখতে চায় রাশিয়া। তিনি বলেন, ‘রাশিয়া চায় তিনি (ট্রাম্প) দুর্বল থাকুন।

রাশিয়া থেকে জ¦ালানি কেনার বিষয়ে ট্রাম্পের ঘোষণার পর ইউক্রেন ও তার পশ্চিমা মিত্রদের মধ্যে সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কিয়েভের আশঙ্কা, মস্কোর সঙ্গে ওয়াশিংটনের এ ধরনের সমঝোতা ইউক্রেনের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনকে দুর্বল করতে পারে। গত বুধবার লন্ডনে ডাউনিং স্ট্রিটে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের সঙ্গে বৈঠক করেন জেলেনস্কি। পরে বার্নহাম ঘোষণা দেন, কিয়েভে হালকা বহুমুখী ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ ত্বরান্বিত করবে যুক্তরাজ্য। ইউরোপীয় নেতারাও জেলেনস্কির পাশে দাঁড়িয়েছেন। জেলেনস্কি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আরও প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করলেই কেবল তিনি রুশ তেল অবকাঠামোতে হামলা থামাবেন। কিয়েভের মতে, এসব হামলা রাশিয়ার যুদ্ধযন্ত্রের রাজস্বের উৎস কেটে দিতে অপরিহার্য। ইরান যুদ্ধে মজুদ ফুরিয়ে যাওয়ার পর থেকে ইউক্রেন যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ঘাটতিতে ভুগছে।

ব্রিটিশ দৈনিক ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে (এফটি) জেলেনস্কি বলেন, প্রশ্ন হচ্ছে পরের চুক্তি কবে? হয়তো গ্যাস নিয়ে হবে। নিশ্চিতভাবেই গ্যাস নিয়ে হবে। রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা চালিয়ে যাওয়ায় জেলেনস্কি ইঙ্গিত দেন, যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে ব্যাঘাত কাকতালীয় নয়। তিনি আরও জানান, ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষরা ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন, আপনারা হামলা না থামালে আমরা গোয়েন্দা তথ্য আটকে দেব।’ ইউক্রেনের সামরিকবাহিনী আকাশ প্রতিরক্ষা গড়তে রুশ আকাশ হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আগাম সতর্কবার্তার ওপর নির্ভর করে, যা সফল হামলার সংখ্যা সীমিত করে। পুরো যুদ্ধ প্রচেষ্টায় ব্যবহৃত হয় স্টারলিংক ইন্টারনেট আপলিংকও। তবে ইউক্রেন দেশটিতে স্টারলিংক সেবা ধীর হওয়ার অভিযোগ তুলেছে। কিন্তু মালিক ইলন মাস্ক তা অস্বীকার করে এর জন্য ট্রাম্প প্রশাসনকে দায়ী করার ইঙ্গিত দেন। সামাজিক মাধ্যম এক্সে মাস্ক জানিয়েছেন যে, স্টারলিংকের সামরিক সংস্করণ ‘স্টার শিল্ড’ যুক্তরাষ্ট্রের সরকার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এবং ‘গতি বা ব্যবহারের যেকোনো সীমার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয় দেশটির সামরিক বাহিনী এবং চূড়ান্তভাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট’।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত