দেশের অন্যান্য স্থানের মতো চট্টগ্রামেও বুধবার (২১ অক্টোবর) প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে শারদীয়া দুর্গাপূজার ছয়দিন ব্যাপী আনন্দ উৎসব। এদিন বিকালে বিসর্জনকে কেন্দ্র করে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে নেমেছিল মানুষের ঢল।
প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, দুর্গোৎসবের সফল সমাপ্তি আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। এই সহযোগিতার ধারাবাহিকতা সারা বছর বজায় রাখতে হবে। ধর্মীয় উৎসবের বাইরেও নগরীর পরিচ্ছন্নতা, পরিবেশ সংরক্ষণ, জননিরাপত্তা এবং নাগরিক দায়িত্ব পালনে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
বিসর্জনের আগে এদিন সকাল থেকেই হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা পূজার অঞ্জলী নিয়ে বিভিন্ন মন্দিরে যান। যেখানে পূজা শেষে সবাই মেতে উঠেন সিঁদুর খেলায়। মন্দিরে ঢাকের শব্দ আর সিঁদুর উৎসব যেন এসময় একাকার হয়ে উঠে। দুপুরের আগেই প্রতিটি মন্ডপে সাজিয়ে রাখা দেবীমূর্তিকে সিঁদুর পরিয়ে, মিষ্টি মুখে দিয়ে একে একে বিদায়ের জন্য প্রস্তুত করা হয়। বেলা বারোটার পর থেকে একে একে প্রতিমাগুলো বিসর্জনের জন্য বের করা শুরু হলে প্রতিটি মন্ডপেই বিদায়ের করুন সুর বেজে উঠে।
এবার পতেঙ্গা, অভয়মিত্র ঘাট ও কালুরঘাট এই তিনটি স্থান প্রতিমা বিসর্জনের জন্য নির্ধারিত থাকলেও বিসর্জনের মূল আয়োজন করা হয় পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে। বেলা ১২টার পর থেকে নগরীর বিভিন্ন পূজামন্ডপ থেকে ট্রাকে করে প্রতিমা নিয়ে দলে দলে লোক ছুটে যায় সেখানে।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনায় পতেঙ্গায় এ উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অধ্যাপক অর্পন কান্তি ব্যানার্জীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন অ্যাডভোকেট নিখিল নাথ। এতে অন্যান্যের মধ্যে ক্যাপ্টেন শামীম, ডা. নুরুল আবসার, বিপ্লব দে পার্থ, সৌরভ প্রিয় পাল, আশুতোষ দে, বিপ্লব সেন, সূজন কুমার শীল বক্তব্য রাখেন।