মসজিদে হারামের সম্মান

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২৭ পিএম

পৃথিবীর সবচেয়ে পবিত্রতম স্থান মসজিদে হারাম। এই মসজিদের কেন্দ্রেই রয়েছে পবিত্র কাবা শরিফ। সারা বিশ্বের মুসলমানরা নামাজে কাবার দিকে মুখ করেন। হজ ও ওমরাহ পালনের জন্য প্রতিবছর লাখো মানুষ এখানে সমবেত হন। মসজিদে হারামের সম্মান রক্ষা করা প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব। 

মসজিদে হারামের মর্যাদা মহান আল্লাহ নিজেই ঘোষণা করেছেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর যে ব্যক্তি সেখানে প্রবেশ করবে, সে নিরাপদ হয়ে যাবে।’ (সুরা আলে ইমরান ৯৭) এ আয়াত থেকে মসজিদে হারাম ও পবিত্র মক্কার বিশেষ মর্যাদা বোঝা যায়। ইসলাম এ স্থানের নিরাপত্তা, পবিত্রতা ও সম্মান রক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে।

মসজিদে হারাম মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের কেন্দ্র। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ, ভাষা ও সংস্কৃতির মানুষ এখানে এসে একই কাতারে দাঁড়ান। ধনী-গরিব, শাসক-শাসিত, সাদা-কালোর কোনো পার্থক্য থাকে না। সবাই মহান আল্লাহর সামনে নিজেদের সমর্পণ করেন। এ দৃশ্য ইসলামের সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের শিক্ষা দেয়।

মসজিদে হারামের সম্মান রক্ষার অন্যতম উপায় হলো সেখানে ইবাদত ও জিকিরে মনোযোগী থাকা। অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা, উচ্চস্বরে কথা বলা, অন্যকে কষ্ট দেওয়া এবং ইবাদতে বিঘ্ন সৃষ্টি করা থেকে বিরত থাকা। বিশেষ করে ভিড়ের সময় ধৈর্য ধারণ করা জরুরি। চলাচলের পথে বাধা সৃষ্টি করা, ধাক্কাধাক্কি করা কিংবা অন্যের সুবিধা উপেক্ষা করা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

মহান আল্লাহ মসজিদে হারামের পবিত্রতা নষ্ট করা এবং সেখানে অন্যায় কাজে লিপ্ত হওয়ার ব্যাপারে সতর্ক করেছেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর যে ব্যক্তি সীমালঙ্ঘন করে সেখানে পাপকাজ করতে চায়, তাকে আমি যন্ত্রণাদায়ক আজাব আস্বাদন করাব।’ (সুরা হজ ২৫)

এ আয়াত থেকে বোঝা যায়, এ পবিত্র স্থানের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর।

মসজিদে হারামের সম্মান রক্ষা কেবল সেখানে উপস্থিত মানুষের দায়িত্ব নয়। প্রত্যেক মুসলমানের উচিত এ পবিত্র স্থানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা এবং এর মর্যাদা সম্পর্কে সচেতন হওয়া। যারা হজ ও ওমরাহ পালন করতে যান, তাদের উচিত সেখানকার নিয়মকানুন মেনে চলা, অন্যের অধিকার সংরক্ষণ করা এবং ইবাদতের পরিবেশ বজায় রাখা।

হজরত আবু জর গিফারি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসুল! পৃথিবীতে সর্বপ্রথম কোন মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছে? তিনি বললেন, মসজিদে হারাম। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এরপর কোনটি? তিনি বললেন, মসজিদে আকসা। (সহিহ বুখারি)

এই মসজিদে এক রাকাত নামাজের সওয়াব এক লাখ রাকাতের সমপরিমাণ। জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, আমার এই মসজিদে (মসজিদে নববি) এক রাকাত নামাজ আদায় করা মসজিদে হারাম ব্যতীত অন্য যে কোনো মসজিদে এক হাজার রাকাত নামাজ আদায় করার চেয়ে উত্তম। আর মসজিদে হারামে এক রাকাত নামাজ আদায় করা মসজিদে নববি ব্যতীত অন্য যে কোনো মসজিদে এক লাখ রাকাত নামাজ আদায় করার চেয়ে উত্তম।’ (মুসনাদে আহমদ)

মক্কা ও মদিনা সাধারণ শহরের মতো নয়। মহান আল্লাহ এ দুই নগরীকে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছেন। এখানে অন্যায় ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা নিষিদ্ধ। ইসলামের সূচনা ও বিস্তারে এ দুই শহরের ভূমিকা অনন্য। দাজ্জাল মক্কা-মদিনায় প্রবেশ করতে পারবে না।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত