দুর্গাপূজায় হিলি সীমান্তে উপচেপড়া ভিড়

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:২১ এএম

শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে দিনাজপুরের হিলি সীমান্তে ছিল উপচেপড়া ভিড়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সীমান্তের শূন্যরেখায় এসেছিলেন অসংখ্য মানুষ। তাদের কেউ এসেছিলেন ভারতীয় পূজা দেখতে, আবার কেউ এসেছিলেন ভারতে থাকা আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে। তবে সীমান্তরক্ষীদের কড়াকড়িতে অনেকেই স্বজনদের কাছে যেতে না পারার আক্ষেপ নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

দিনাজপুরের হিলি সীমান্ত থেকে ভারতের ভূখ-ের ভেতরে-সাধারণের জীবনযাত্রা দেখা যায়, তেমনি ভারত থেকেও দেখা যায়। সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দুদেশকে ভাগ করলেও দুদেশের মানুষেরই অনেক আত্মীয়-স্বজন রয়ে গেছেন দুপাড়ে। ফলে হিলি সীমান্তে নানা উপলক্ষে দর্শনার্থীদের ভিড় লক্ষ করা যায়। আর এই ভিড় দুর্গাপূজা বা ঈদের সময়ে দেখা যায় বেশি। এবারও দুর্গাপূজায় বিজয়া দশমী উপলক্ষে সীমান্তের দুপাশেই মানুষের উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। গত কয়েক দিনই এই ভিড় থাকলেও গতকাল বুধবার তুলনামূলকভাবে মানুষের উপস্থিতি ছিল অনেক বেশি। সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ সীমান্তে এসে জড়ো হন। উৎসবে সীমান্তের শূন্যরেখায় দুদেশের মানুষÑএকে অন্যের সঙ্গে ভাগাভাগি করেন আনন্দ। তবে এবারে সীমান্তে কড়াকাড়ির কারণে অনেকের ইচ্ছেই অপূর্ণ থেকে গেছে।

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট থেকে হিলি সীমান্তে এসেছিলেন কল্পনা রানী। তিনি বলেন, একটা বছর অপেক্ষা করি এই দিনটার জন্য। পরিবারের সবাইকে নিয়ে আসি ভারতের প্রতিমাটা একটু দেখব বলে, সঙ্গে ওপারে থাকা আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ হবে। কিন্তু এবারে সীমান্তের শূন্যরেখায় এলাম ঠিকই অথচ না পারলাম ভারতের প্রতিমা দেখতে না পারলাম আত্মীয়দের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে।

পাসপোর্ট-ভিসা করে তো সবসময় সবার আসা-যাওয়ার সুযোগ হয় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, যদি দুদেশের সরকারই একটু সদয় হয়ে, উৎসবের দিনে সীমান্তের শূন্যরেখায় কিছু সময়ের জন্য স্বজনদের সঙ্গে দেখাসাক্ষাতের ব্যবস্থা করে দিত, তাহলে আমাদের ভালো লাগত। আমাদের পূজার আনন্দ অনেক বেশি পূর্ণতা পেত।

বগুড়া জেলার আদমদীঘি থেকে আসা পূজা বসাক বলেন, অনেক দূর এসেছিলাম ভারতের প্রতিমা দেখতে। কিন্তু এসে দেখছি এপার থেকে ওপার হওয়া যাচ্ছে না। সীমান্তে দাঁড়িয়ে ভারতীয় প্রতিমা দেখতে পেলেও কাছে যেতে পারছি না, প্রণাম জানাতে পারছি না। সরকার যদি পূজা উপলক্ষে কিছু সময়ের জন্য ওপারে গিয়ে পূজা দেখার ব্যবস্থা করে দিত তা আমাদের আনন্দকে অনেক বাড়িয়ে দিত।

নীলফামারী থেকে আসা পূর্ণিমা রানী জানান, তার মামাদের বাড়ি সীমান্তের ওপারের গ্রামে। সে কারণে তিনি হিলি এসেছেন যদি তাদের সঙ্গে দেখা হয়। তিনি বলেন, যদি অন্তত কিছু সময়ের জন্য পূজার প্যান্ডেল পর্যন্ত যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হতো, তাহলে আমাদের ভালো লাগত।

বাবা-মায়ের সঙ্গে সীমান্তে পূজা দেখতে আসা কিশোরী কল্পনা রানী বলেন, ভারতে আমার দাদুবাড়ি। শূন্যরেখায় এসেছি তাদের সঙ্গে দেখা করতে। কিন্তু কাছে যেতে না পারলাম না। দূর থেকেই চোখের দেখা, হাত নাড়া আর মুঠোফোনে কথা এটুকই মনের শান্তি। তিনি বলেন, আজকের দিনটাতে যদি তাদের একটু কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ মিলতো, তাদের একটু ছুঁয়ে দেখতে পারতাম, তাহলে ভালো লাগত।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত