শাহজালাল মাজারের দানবাক্সে মিলল ৮৮ লাখ টাকা

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৩ পিএম

সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের তিনটি বড় ডেগ ও পাঁচটি দানবাক্সে এবার পাওয়া গেছে ৮৮ লাখ ৬৫ হাজার ৮০৪ টাকা। এছাড়া স্বর্ণ, রৌপ্য ও বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রাও পাওয়া গেছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর)) সকাল ১০টায় শুরু হওয়া গণনা শেষে সন্ধ্যায় এ তথ্য জানান সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন। পঞ্চমবারের মতো প্রকাশ্যে এ গণনা করা হয়।

জেলা প্রশাসক জানান, নগদ অর্থের পাশাপাশি পাওয়া গেছে ১ ভরি সাড়ে ৮ আনা স্বর্ণ ও ৩ ভরি ১৩ আনা রৌপ্য। বৈদেশিক মুদ্রার মধ্যে রয়েছে ১৪ ব্রিটিশ পাউন্ড, ৭ হাজার ৬৪৭ ভারতীয় রুপি, ২০ থাই বাত, ৯৩ সৌদি রিয়াল ও পয়সা, ১১ মালয়েশীয় রিঙ্গিত, ২৯ মার্কিন ডলার, ১ হাজার ৩৫০ দশমিক ৫০ ওমানি বায়সা, ৬৫ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিরহাম, ১৫ মালদ্বীপের রুফিয়া, ১৭ কাতারি রিয়াল ও পয়সা, ৭ ইউরো ৩৩ সেন্ট, ১০০ বাহরাইনি পয়সা, ১০ হংকং ডলার, ১ কুয়েতি দিনার, ৫৫ নেপালি রুপি, ১০০ পাকিস্তানি রুপি, ৫০ রুশ রুবল ও ৫০০ শ্রীলঙ্কান রুপি।

মাজারে ৩৫ দিনে দান হিসেবে পাওয়া সাতটি গরুর মধ্যে চারটি লঙ্গরখানায় শিরণি হিসেবে বিতরণ করা হয়েছে। বাকি তিনটি পেয়েছেন খাদিমরা। এ ছাড়া ৩১০টি ছাগলের মধ্যে ২৫টি জবাই করে বিতরণ করা হয়েছে, ২১০টি লঙ্গরখানায় খাওয়ানো হয়েছে, ২৭টি দিয়ে ভক্তরা শিরণি করেছেন এবং বাকি ৪৮টি ছাগল খাদিমরা নিয়েছেন।

শনিবারের গণনার সময় ভক্তদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া ও আবেদনসংবলিত চিঠিও পাওয়া গেছে।

প্রতিদিন গণনার উদ্যোগ

মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে গত ২৩ সেপ্টেম্বর গঠিত কমিটির সভায় দানের টাকা প্রতিদিন গণনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ জন্য টাকা গণনা, হিসাব সংরক্ষণ ও ব্যয়ের দায়িত্ব পালনে একজন ব্যবস্থাপক, একজন হিসাবরক্ষক এবং একজন অফিস সহকারী নিয়োগ দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে নিয়োগপ্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় এখনো প্রতিদিন টাকা গণনার ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব হয়নি।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দানবাক্সের অর্থের ৩৫ শতাংশ মাজারের উন্নয়নকাজে ব্যয় করা হবে। এই অর্থ সোনালী ব্যাংকের একটি হিসাবে জমা রাখা হবে। বাকি ৬৫ শতাংশ মাজারের দৈনন্দিন খরচ এবং কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধে ব্যয় করা হবে।

শনিবার সকালে জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘আজকে শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সে পাওয়া টাকা আগের মতোই ব্যাংক হিসাবে রাখা হবে। এখান থেকে বিদ্যুৎ বিলসহ কিছু ইউটিলিটি বিল দেওয়া হবে। আনসারের বেতন দেওয়া হবে।’

তিনি আরও বলেন, আপাতত মাসে একবার দানের টাকা গণনা করা হবে। নিয়োগপ্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। যার জন্য সিভি জমা হয়েছে। আশা করছি আগামী মাসের মধ্যেই নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হবে। কর্মী নিয়োগের পর প্রতিদিন দানের টাকা গণনা করা হবে।

আগের চার দফার হিসাব

এর আগে গত ২২ জুন প্রথম দফায় দানবাক্স থেকে পাওয়া যায় ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা। পরে জেলা প্রশাসনের তহবিল থেকে ৫ লাখ টাকা যুক্ত হলে মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ২২ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা।

১১ জুলাই দ্বিতীয় দফায় পাওয়া যায় ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা। এরপর ১৫ আগস্ট তৃতীয় দফায় গণনায় পাওয়া যায় ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর চতুর্থ দফায় দানবাক্স ও ডেগ থেকে পাওয়া যায় ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৬ টাকা।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা পাঁচ দফার হিসাবে, দানবাক্সে জমা হওয়া মোট নগদ অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ১৩ লাখ ২৩ হাজার ১৪৪ টাকা।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত