সাঈদীর মামলার বাদী মানিক পশারীর গার্ড অব অনার ও দাফন নিয়ে যা হল

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১৮ পিএম

পিরোজপুরে মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর (৮৭) মরদেহে গার্ড অব অনার দেওয়া ও নিজ এলাকায় দাফন নিয়ে জটিলতা সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে মরদেহ পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে নেওয়ার পর গার্ড অব অনার পেতে কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। পরে বিকেল পাঁচটার দিকে পুলিশ লাইনসের ভেতরে তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।

মানিক পশারী পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নেতা ও পিরোজপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বাদী ছিলেন বলে জানা গেছে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে মানিক পশারী গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় তার মেয়ের জামাতার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। গত দুই মাস ধরে তিনি অসুস্থ ছিলেন। শনিবার সকাল ১০টার দিকে টুঙ্গিপাড়ায় তার মৃত্যু হয়। পরে দুপুর ১২টার দিকে মরদেহ নিয়ে পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদে আসেন স্বজনেরা।

মানিক পশারীর মেয়ের জামাতা ফারুক হোসেন অভিযোগ করেন, গার্ড অব অনার দেওয়ার কথা বলে তাদের বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত অপেক্ষা করানো হয়। এ সময় মরদেহ একটি সাধারণ অ্যাম্বুলেন্সে রাখা ছিল। পরে দাফন করা হয়।  

তবে পিরোজপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি শেখ আব্দুর রাজ্জাক দাবী করেন, মানিক পশারী একজন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা। রাষ্ট্রের দায়িত্ব ছিলো তার গেজেট বাতিল করা। রাষ্ট্র এখানে ব্যর্থ হয়েছে। একজন ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা গার্ড অব অনার হতে পারে না। তিনি জানান, দাফনে জামায়াতের পক্ষ থেকে কোনো বাধা দেওয়া হয়নি। 

পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, মানিক পশারীকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়েছে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে তৎপর রয়েছে।

পিরোজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইফতেখারুল ইসলাম শামীম বলেন, মানিক পশারীকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দিয়ে তার মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত