সরকারের আশ্বাসে সন্তুষ্ট নয় আন্দোলনকারীরা, সাজেকে অবরোধ অব্যাহত

পাঁচ দফা দাবির চারটি মানার কথা জানালেও মূল দাবি নিয়ে সরকারের কাছ থেকে পূর্ণাঙ্গ আশ্বাস না পাওয়ায় অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৮ পিএম

সাজেক সংকট নিরসনে সরকারের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পরও অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে সাজেক গণঅধিকার আন্দোলন ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন। সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত ৮টায় সাজেক গণঅধিকার আন্দোলনের ফেসবুক পেজে সরাসরি সম্প্রচারে এ ঘোষণা দেন সংগঠনটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা। সরকারের পক্ষ থেকে তাদের পাঁচ দফা দাবি পুরোপুরি মেনে নেওয়ার আশ্বাস না পাওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

বাবুধন চাকমা বলেন, তাদের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে চারটি মেনে নেওয়ার কথা জানিয়েছে সরকার। তবে মূল দাবি হলো সন্তু লারমার সশস্ত্র গ্রুপকে এলাকা থেকে সরিয়ে দেওয়া। এ বিষয়ে সরকার প্রথমে এক মাস সময় চেয়েছিল। আন্দোলনকারীরা তিন দিন সময় দিতে রাজি হলেও শেষ পর্যন্ত সরকার ৫ নভেম্বর পর্যন্ত সময় চায়। পরে আন্দোলনকারীরা আগামী পাঁচ দিন সময় দিতে সম্মত হন। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে পুরোপুরি কোনো আশ্বাস না পাওয়ায় তারা সড়ক অবরোধ অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, সরকার চাইলে এক দিনের মধ্যেই এ সমস্যার সমাধান করতে পারে। কিন্তু সরকারের ইতিবাচক মনোভাবের অভাবে বিষয়টি নিয়ে কালক্ষেপণ করা হচ্ছে বলে তাদের মনে হয়েছে। এ কারণে চলমান আন্দোলন কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তবে সরকার আবার আলোচনায় বসতে চাইলে তারা তাতে রাজি আছেন।

বাবুধন চাকমা বলেন, অতীতেও সরকার এক দিনের মধ্যে এ ধরনের সমস্যার সমাধান করেছে। কিন্তু এবার আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে একাধিকবার সময় দেওয়ার পরও দাবিগুলো মেনে নেওয়ার ক্ষেত্রে কালক্ষেপণ করা হচ্ছে। এ সময় তিনি দ্রুত তাদের দাবিগুলো মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান।

এর আগে সোমবার দুপুর ৩টায় সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল সাজেকের উজোবাজারে যায়। সেখানে তারা ক্ষতিগ্রস্ত দোকানপাট পরিদর্শন করেন। পরে বাজারে কেয়ার পয়েন্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে আয়োজিত আলোচনা সভায় অংশ নেন।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূইয়া, রাঙামাটির সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান, খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত, রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী, খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার মো. মোরতোজা আলী খান, রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিবসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সাজেক গণঅধিকার আন্দোলনের আহ্বায়ক বাবুধন চাকমার নেতৃত্বে আন্দোলনকারীদের একটি দলও বৈঠকে অংশ নেয়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত