জার্মানির অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়নবিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় ভাইস মিনিস্টার ও স্টেট সেক্রেটারি ড. বারবেল কোফলারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল আবুল খায়ের স্টীল মেল্টিং লিমিটেডের (একেএসএমএল) কারখানা পরিদর্শন করেছে।
সোমবার চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে অবস্থিত কারখানাটি পরিদর্শনকালে প্রতিনিধিদলকে প্রতিষ্ঠানের আধুনিক উৎপাদন প্রযুক্তি, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড অর্জন এবং পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নের বিভিন্ন উদ্যোগ সম্পর্কে অবহিত করা হয়। এ সময় প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানান একেএসএমএলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইমরান মোমিন।
জার্মান প্রতিনিধিদলে ড. বারবেল কোফলারের পাশাপাশি বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মানির রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজ উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া জার্মান উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জিআইজেড বাংলাদেশ, জার্মান উন্নয়ন ব্যাংক কেএফডব্লিউ এবং ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের (ইডকল) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা অংশ নেন।
একেএসএমএল আধুনিক ইলেকট্রিক আর্ক ফার্নেস, উন্নত প্রকৌশল ও উচ্চগতির রিবার রোলিং প্রযুক্তির সমন্বয়ে ইস্পাত উৎপাদন করে। উচ্চ উৎপাদন সক্ষমতা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে প্রতিষ্ঠানটি দেশের ইস্পাতশিল্পে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। উৎপাদন সক্ষমতাসংক্রান্ত একটি রেকর্ডের স্বীকৃতি হিসেবে সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস অর্জন করেছে।
প্রাকৃতিক সম্পদের সাশ্রয়ী ব্যবহার ও পরিবেশ সুরক্ষায় কারখানাটিতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন, ফিউম ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের মাধ্যমে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং ভূগর্ভস্থ পানির পরিবর্তে বৃষ্টির পানি পুনর্ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব পরিবেশবান্ধব কার্যক্রম পরিদর্শন করে প্রশংসা করেন জার্মান ভাইস মিনিস্টার।
এ ছাড়া ইস্পাতশিল্পে নারীর অংশগ্রহণ ও ক্ষমতায়নে একেএসএমএলের উদ্যোগেরও প্রশংসা করেন তিনি। বাংলাদেশের শিল্প খাতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং তাদের ক্ষমতায়নে এ ধরনের উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন জার্মান এই প্রতিনিধি। একই সঙ্গে বাংলাদেশের ইস্পাতশিল্পের অগ্রগতি ও আধুনিকায়ন সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা লাভ করেন তিনি।