চীনে নিয়ে উচ্চ বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে আটকে রাখা ১২ কিশোরী ও তরুণীকে রাজধানীর উত্তরা ও ভাটারা এলাকা থেকে উদ্ধার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। উদ্ধার হওয়া নারীদের মধ্যে একজনের বয়স ১৫ বছর। তারা সবাই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য। গতকাল মঙ্গলবার এসআরবি-১ এর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। উদ্ধারকৃতরা হলেনÑ মেমাচি মারমা, মাংশানু মগনি, রেখা চাকমা, ক্যানচি চাকমা, বিরুপতি চাকমা, পুণ্যরেখা চাকমা, চাইছাইও মারমা, কৃষ্টিনা রোয়ালময় বৈল্টুং, পুষ্পিতা চাকমা, পিংকি চাকমা, ববিতা চাকমা ও আদর্শী চাকমা।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, উদ্ধার হওয়া নারীদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছেÑ তাদের চীনে নিয়ে উচ্চ বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখানো হয়েছিল। পরে বৈধ ভ্রমণসংক্রান্ত কাগজপত্র ও পাসপোর্ট ছাড়াই বিদেশে পাচারের উদ্দেশে তাদের একটি বাসায় জোরপূর্বক আটকে রাখা হয়। এ সময় তাদের নির্যাতন করা হয় এবং নানা অনৈতিক কাজে জড়ানোর প্রলোভন দেখানো হয়েছিল। নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারের আবেদন পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এসআরবি-১ গত সোমবার বিকেলে উত্তরা মেমাচি মারমা ও মাংশানু মগনিকে প্রথমে উদ্ধার করে। পরে তাদের দেওয়া তথ্য এবং চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী থানায় করা জিডির সূত্র ধরে ভাটারা এলাকার একটি বাসা থেকে বাকি ১০ জনকে উদ্ধার করা হয়। ১২ নারীকে তাদের পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
কম্বোডিয়ায় নিয়ে দুই বাংলাদেশিকে বিক্রি : কম্বোডিয়ায় ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে দুই বাংলাদেশি তরুণকে পাচার ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগের মামলায় মানব পাচার চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সিআইডির একটি টিম রাজধানীর পল্টন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে। তারা হলেন মো. শাওন মোল্লা ও মো. সাকিব সরকার।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. ছুফি উল্লাহ জানান, দুই তরুণ মানব পাচার চক্রের প্রলোভনে পড়ে কম্বোডিয়ায় যান। তাদের প্রত্যেকের পরিবারের কাছ থেকে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে প্রায় ৬ লাখ টাকা করে নেওয়া হয়। কিন্তু কম্বোডিয়ায় পৌঁছানোর পর মানব পাচারকারীরা তাদের ৫ হাজার মার্কিন ডলারের বিনিময়ে একটি স্ক্যাম সেন্টারে বিক্রি করে দেয়। পরিবারের যোগাযোগ করতে সক্ষম হলে ভুক্তভোগী দুই তরুণের মুক্তির জন্য স্ক্যাম সেন্টার থেকে ৫ হাজার মার্কিন ডলার মুক্তিপণ দাবি করা হয়। একপর্যায়ে তারা অনলাইনের মাধ্যমে ব্র্যাক মাইগ্রেশন সেন্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হন। তারা গত ৩ সেপ্টেম্বর দেশে ফিরে আসেন। পরে এ ঘটনায় গত সোমবার পল্টন থানার মামলা করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে এজাহারনামীয় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
লিবিয়া থেকে ফিরলেন আরও ১৭৪ জন : লিবিয়ার ত্রিপোলি থেকে স্বেচ্ছায় দেশে ফিরেছেন আরও ১৭৪ বাংলাদেশি। গতকাল মঙ্গলবার ভোর ৫টা ৪০ মিনিটে বুরাক এয়ারের একটি ফ্লাইটে তারা ঢাকায় এসে পৌঁছান। তাদের প্রত্যাবাসনে সহযোগিতা করেছে বাংলাদেশ সরকার, লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস, আইওএম। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, দেশে ফেরা বাংলাদেশিদের বেশিরভাগই সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ইউরোপে যাওয়ার উদ্দেশে মানব পাচারকারীদের সহযোগিতায় লিবিয়ায় প্রবেশ করেছিলেন। তাদের অনেকেই লিবিয়ায় বিভিন্ন সময়ে অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিমানবন্দরে তাদের অভ্যর্থনা জানায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর ও আইওএমের কর্মকর্তারা।