১০-০ থেকে একমাস পর ১৩-০; হকির দুর্দশা

আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৮ এএম

এশিয়ান চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই বড় ব্যবধানে পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ পেল বাংলাদেশ জাতীয় পুরুষ হকি দল। ভারতের জলন্ধরের সুরজিৎ সিং হকি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে স্বাগতিক ভারতের কাছে ১৩-০ গোলে হেরেছে জিমি–আমিরুলরা। পাকিস্তানের টুর্নামেন্ট থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেওয়ার সুবাদেই মূলত এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ।

আন্তর্জাতিক হকি ফেডারেশনের (এফআইএইচ) র‍্যাঙ্কিংয়ে ভারত অষ্টম স্থানে এবং বাংলাদেশ রয়েছে ২৭তম স্থানে। দুই দলের শক্তির এই আকাশচুম্বী পার্থক্য মাঠের খেলায়ও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ম্যাচের শুরু থেকেই বাংলাদেশের রক্ষণভাগকে একের পর এক আক্রমণে ব্যতিব্যস্ত করে তোলে ভারত। আক্রমণে ওঠার সুযোগ তো দূরের কথা, প্রতিপক্ষের আক্রমণ সামলাতেই হিমশিম খেতে হয় কোচ পিটার গেরহার্ডের শিষ্যদের। ফলাফলস্বরূপ, প্রথম কোয়ার্টারেই চার গোল হজম করতে হয় বাংলাদেশকে।

দ্বিতীয় কোয়ার্টারেও খেলার চিত্রের কোনো পরিবর্তন হয়নি। ভারতের আক্রমণের চাপ সামলাতে ব্যস্ত থাকা বাংলাদেশ এই পর্বে আরও দুই গোল হজম করে। ফলে ৬-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে বিরতিতে যায় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ম্যাচের শেষ দুই কোয়ার্টারেও ভারতের আক্রমণ ঠেকানো যায়নি; আরও সাত গোল হজম করে বড় ব্যবধানের হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় দলটিকে। ভারতের হয়ে সর্বোচ্চ তিনটি গোল করেন মনদীপ সিং।

বাংলাদেশের হকিতে এমন বড় ব্যবধানের হার অবশ্য নতুন কিছু নয়। এর আগে গত বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর জাপানের আইচি–নাগোয়ায় অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমসেও ভারতের কাছে ১০-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। এমনকি ১৯৭৮ সালে আন্তর্জাতিক হকিতে অভিষেকের পর ডিসেম্বরে ব্যাংককে পাকিস্তানের কাছে ১৭--০ গোলে হেরেছিল দল—যা আন্তর্জাতিক হকিতে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পরাজয়।

এশিয়ান চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে এর আগে মাত্র একবার, ২০২১ সালের প্রিলিমিনারি রাউন্ডে অংশ নিয়েছিল বাংলাদেশ, যেখানে কোনো জয় পায়নি দলটি। এবার পাকিস্তান ভারতে খেলতে না আসায় তাদের জায়গায় খেলায় সুযোগ পেয়েই বড় পরাজয় দিয়ে আসর শুরু হলো। আগামী ২৯ অক্টোবর একই মাঠে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে জাপানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। এখন দেখার বিষয়, জাপানের বিপক্ষে ম্যাচে লাল-সবুজ দল ঘুরে দাঁড়াতে কেমন পারফরম্যান্স উপহার দেয়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত