ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করে ভিডিও তৈরির অভিযোগে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় উত্তেজিত জনতা কর্তৃক হিন্দু পরিবারের তিনটি বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। গত সোমবার সন্ধ্যায় চককরিম তেলিপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শতাধিক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। ওই ঘটনায় সোমবার রাতে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। রাতেই বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা থেকে সৌরভ চন্দ্র মোহন্ত নামে এক যুবককে আটক করে ডিবি পুলিশ। হামলা-ভাঙচুরের মামলায় শফিকুল ইসলাম আরিফ নামে আরেক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শী, পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার চককরিম (তেলিপাড়া) এলাকায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে গত সোমবার দুপুর থেকে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি শান্ত হওয়ায় পুলিশ, গ্রামপুলিশ সদস্যরা চলে গেলে উত্তেজিত কিছু লোক সন্ধ্যার পর তিনটি বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িগুলো সৌরভ চন্দ্রের বাবা বিশু চন্দ্র, কাকা জগদীশ চন্দ্র ও জ্যাঠা দীনেশ চন্দ্রের পরিবারের। এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। সোমবার রাতে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগে সৌরভের বাবা বাদী হয়ে পীরগঞ্জ থানায় আটজনের নাম উল্লেখসহ ৬০-৭০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা রুজু করেন। ওই মামলায় শফিকুল ইসলাম আরিফকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনি উপজেলার গুজিপাড়া এলাকার আব্দুল কাদেরের ছেলে।
অন্যদিকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে পীরগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদে কর্মরত গ্রামপুলিশ প্রধান মকিমপুর মৌজার দফাদার আমিনুল ইসলাম পীরগঞ্জ থানায় পৃথক মামলা রুজু করেন। ওই মামলায় সৌরভকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। মামলার পর রাতেই তাকে গ্রেপ্তারে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ ও বগুড়ার শিবগঞ্জে সৌরভের আত্মীয়দের বাড়িতে অভিযান চালায় রংপুর ডিবি পুলিশ। পরে শিবগঞ্জ থেকে সৌরভকে গ্রেপ্তার করা হয়। হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত দীনেশ চন্দ্র মোহন্ত জানান, একদল লোক সন্ধ্যায় এসে বাড়িঘরে হামলা চালায় এবং ৩টি ছাগলসহ ঘরের আসবাবপত্র লুটপাট করে নিয়ে যায়। পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নজমুল হক জানান, পৃথক দুই মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রয়েছে।