বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ৫৫তম শাহাদাতবার্ষিকী আজ

আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২৪ এএম

বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহি হামিদুর রহমানের ৫৫তম শাহাদাতবার্ষিকী আজ। ১৯৭১ সালের ২৮ অক্টোবর মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের দলই সীমান্তে পাকিস্তানি বাহিনীর একটি মেশিনগান পোস্ট ধ্বংস করতে গিয়ে পাকিস্তানি সেনাদের গুলিতে শহীদ হন হামিদুর রহমান। মহান মুক্তিযুদ্ধে রণাঙ্গনে অসামান্য বীরত্বের জন্য তাকে বীরশ্রেষ্ঠ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার খোরদা খালিশপুর গ্রামের সন্তান সিপাহী হামিদুর রহমান মাত্র ১৮ বছর বয়সে শহীদ হন। দেশের বীরশ্রেষ্ঠ পদকপ্রাপ্ত শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ তিনি।

কমলগঞ্জের দলই সীমান্ত চৌকির দক্ষিণ-পূর্ব দিকে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের কমলপুর শহরে ছিল মুক্তিবাহিনীর সাবসেক্টর ক্যাম্প। হামিদুর রহমান প্রথম ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের সি কোম্পানির হয়ে দলই সীমান্তের ফাঁড়ি দখল করার অভিযানে অংশ নেন। ২৮ অক্টোবর ভোর রাতে লেফটেন্যান্ট কাইয়ুমের নেতৃত্বে ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের ১২৫ মুক্তিযোদ্ধার একটি দল পাকিস্তানি সেনাদের ওপর চারদিক থেকে সাঁড়াশি আক্রমণ চালায়। লড়াইয়ের এক পর্যায়ে মুক্তিবাহিনী পাকিস্তান বাহিনীর মেশিনগান পোস্টে গ্রেনেড হামলার সিদ্ধান্ত নেয়। গ্রেনেড ছোড়ার দায়িত্ব দেওয়া হয় হামিদুর রহমানকে। তিনি পাহাড়ি খালের মধ্য দিয়ে বুকে হেঁটে গ্রেনেড নিয়ে আক্রমণ শুরু করেন। দুটি গ্রেনেড সফলভাবে মেশিনগান পোস্টে আঘাত হানে, কিন্তু তার পরপরই হামিদুর রহমান গুলিবিদ্ধ হন। ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের মুক্তিযোদ্ধা পাকিস্তানি বাহিনীকে পরাস্ত করে সীমানা ফাঁড়িটি দখল করেন। পরে মুক্তিযোদ্ধারা হামিদুর রহমানের মৃতদেহ উদ্ধার করেন। হামিদুরের মৃতদেহ সীমান্তের অল্প দূরে ভারতীয় ভূখ-ে ত্রিপুরা রাজ্যের হাতিমেরছড়া গ্রামের স্থানীয় এক পরিবারের পারিবারিক গোরস্তানে দাফন করা হয়।

১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীনের পর দলইয়ে বিজিবির (তৎকালীন বিডিআর) সীমান্ত ফাঁড়ির সামনে হামিদুর রহমানের স্মরণে একটি নামফলক স্তম্ভ স্থাপন করা হয়। ২০০৫ সালে বাংলাদেশ সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের উদ্যোগে দলই সীমান্ত এলাকায় চা বাগানের জমি অধিগগ্রহণ করে বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমাণ স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়। পরে ২০০৭ সালের ২৭ অক্টোবর হামিদুর রহমানের দেহ বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয়। ওই বছরের ১০ ডিসেম্বর বাংলাদেশ রাইফেলসের একটি দল ত্রিপুরা সীমান্তে হামিদুর রহমানের দেহাবশেষ গ্রহণ করে এবং যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে কুমিল্লার বিবিরহাট সীমান্ত দিয়ে শহীদের দেহাবশেষ বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়। ১১ ডিসেম্বর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানকে ঢাকার বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুরের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে প্রতি বছর দলই সীমান্তে অবস্থিত স্মৃতিস্তম্ভে উপজেলা প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড, বিজিবি ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত