মতলবে ৮৮ স্কুলে নেই মাঠ, বন্ধ খেলাধুলা

মাঠের অভাবে কোথাও শ্রেণিকক্ষে হচ্ছে অ্যাসেম্বলি, আবার ক্রীড়া প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি নিতে অন্য বিদ্যালয়ের মাঠের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।

আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২৫ এএম

চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলার ৮৮ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই কোনো খেলার মাঠ। এতে উপজেলার প্রায় ১১ হাজার শিক্ষার্থী নিয়মিত খেলাধুলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। মাঠের অভাবে কোনো কোনো বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষেই করতে হচ্ছে অ্যাসেম্বলি। আবার আন্তঃস্কুল ক্রীড়া প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি নিতে শিক্ষার্থীদের নির্ভর করতে হচ্ছে অন্য বিদ্যালয়ের মাঠের ওপর। এতে শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি খেলাধুলায় দক্ষতা অর্জনেও পিছিয়ে পড়ছে তারা।

উপজেলা শিক্ষা অফিসের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, মতলব উত্তর উপজেলার ১৪ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট ১৮০ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে ২১ হাজার ৫৮২ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। এর মধ্যে ৮৮ বিদ্যালয়ে কোনো খেলার মাঠ নেই।

বিনন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. কামরুজ্জামান জানান, খেলার মাঠ না থাকায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ক্রীড়া ইভেন্টে অংশ নিতে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। এমনকি শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষেই অ্যাসেম্বলি করতে হয়।

উপজেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. আব্দুল বাতেন বলেন, যেসব বিদ্যালয়ে এখনো খেলার মাঠ তৈরি হয়নি, সেসব প্রতিষ্ঠানে মাঠের ব্যবস্থা করতে এলাকাবাসীকে উদ্যোগী হতে হবে।

সাংবাদিক শামসুজ্জামান ডলার বলেন, খেলাধুলা শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি শৃঙ্খলাবোধ, নেতৃত্বের গুণাবলি এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মনোভাব গড়ে তোলে। তাই প্রতিটি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার উপযুক্ত পরিবেশ থাকা প্রয়োজন। যেসব বিদ্যালয়ে মাঠ নেই, সেখানে মাঠের ব্যবস্থা করতে এলাকাবাসী, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের এগিয়ে আসতে হবে। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য খেলাধুলার সুযোগ তৈরি করা সম্ভব।

চাঁদপুর সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক চিকিৎসক মাহবুবুর রহমান বলেন, শিশুদের বেড়ে ওঠার এই সময়ে খেলাধুলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য তাদের খেলাধুলার সুযোগ থাকা প্রয়োজন। খেলার মাঠ না থাকলে শিশুদের মোবাইল ফোনের প্রতি আসক্তি বাড়তে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

উপজেলা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জামাল হোসেন জানান, বিদ্যালয়গুলোতে খেলার মাঠ না থাকার বিষয়টি সত্য। তবে এর পেছনে ভৌগোলিক কারণও রয়েছে। এলাকাটি নিচু হওয়ায় ভবন নির্মাণ করেই কাজ শেষ করতে হয়েছে। বর্তমানে বিদ্যালয়ের সামনের অংশ খানাখন্দ ও গর্তে ভরা। এসব গর্ত ভরাট না করা পর্যন্ত সেখানে খেলার মাঠ তৈরি করা সম্ভব নয়। এ বিষয়ে ইতিমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তথ্য চেয়েছিল এবং প্রয়োজনীয় তথ্য পাঠানো হয়েছে। জায়গাটি ভরাট করা হলে পূর্ণাঙ্গ খেলার মাঠে রূপ দেওয়া সম্ভব হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খেলার মাঠ থাকা অত্যন্ত জরুরি। তবে এ মুহূর্তে সরকারি অর্থায়নে জমি অধিগ্রহণ করে খেলার মাঠ তৈরির কোনো নির্দেশনা নেই। কোনো ব্যক্তি উদ্যোগ নিয়ে জমি দান করলেই কেবল মাঠ তৈরির সুযোগ হতে পারে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত