রাজধানীর মহাখালীতে রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকির ওপর হামলার অভিযোগের ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) এক নেতার প্রাথমিক সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের প্রশাসন-১ অধিশাখার এক অফিস আদেশে তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানানো হয়। একই দিনে ড্যাবের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির পক্ষ থেকেও কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়।
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উপসচিব ইমতিয়াজ হোসেন স্বাক্ষরিত অফিস আদেশ অনুযায়ী, তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (বাজেট) আরিফ আহমদকে। কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদুর রহমান। আর সদস্যসচিব করা হয়েছে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উপসচিব ইমতিয়াজ হোসেনকে।
অফিস আদেশে বলা হয়েছে, তদন্ত কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে সুনির্দিষ্ট পর্যবেক্ষণ, প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণ, দায়দায়িত্ব নিরূপণ এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে। তদন্তের প্রয়োজনে কমিটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বা এর আওতাধীন প্রতিষ্ঠানের যেকোনো কর্মকর্তাকে তলব করতে পারবে।
অন্যদিকে, ড্যাবের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল স্বাক্ষরিত কারণ দর্শানোর নোটিশে সংগঠনটির সহ-আইনবিষয়ক সম্পাদক ডা. জাহিদ হাসানকে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে জবাব দিতে বলা হয়েছে।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, বুধবার সকালে আইইডিসিআরের পরিচালকের কক্ষে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের ভিত্তিতে তার প্রাথমিক সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছে। পাশাপাশি, কেন তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ড্যাবের সভাপতি ও মহাসচিবের কাছে যথাযথ জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আইইডিসিআরের পরিচালকের নিজ কার্যালয়ে অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকির ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত ও ঘটনার ভিডিও ফুটেজের বিবরণ অনুযায়ী, পরিচালক কয়েকজনের সঙ্গে বৈঠক করার সময় ৮ থেকে ৯ জন ব্যক্তি তার কক্ষে প্রবেশ করেন। একপর্যায়ে তাকে চেয়ার থেকে টেনেহিঁচড়ে তুলে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার পর অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকি এর নিন্দা জানিয়ে বলেন, একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের হামলা অত্যন্ত দুঃখজনক। পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে যান।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক হারুন আল রশিদ জানিয়েছিলেন, হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা সংগঠনটির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তবে পরিচালকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি দাবি করেন, বর্তমান সরকারের আমলে সাবেক কর্মকর্তা মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরার সঙ্গে তার বৈঠক করা উচিত হয়নি। ড্যাবের মহাসচিবও জানিয়েছিলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জনস্বাস্থ্যবিদ ও আইইডিসিআরের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মুশতাক হোসেন এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।