বিরামপুরে আগুনে পুড়ল দুই দোকান

আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪৪ পিএম

দিনাজপুর জেলার বিরামপুরে অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে গেছে একটি বাবুর্চি হোটেল ও পাশের পানের দোকান। এতে দুই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালামাল পুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয়দের ধারণা ও ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি অনুযায়ী, দুই দোকান মিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ পাঁচ লাখ টাকার বেশি হতে পারে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) গভীর রাতে উপজেলার জোতবাণী ইউনিয়নের কেটারাহাট এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে বিরামপুর ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

অগ্নিকাণ্ডে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় শহিদুল ইসলামের বাবুর্চি হোটেল। তিনি জোতবাণী ইউনিয়নের চাকুল গ্রামের আব্দুর জব্বারের ছেলে। প্রায় ১০ বছর ধরে পরিশ্রম করে তিনি হোটেলটি গড়ে তুলেছিলেন। কিন্তু এক রাতের আগুনে তার দীর্ঘদিনের শ্রম, সঞ্চয় ও জীবিকার প্রধান অবলম্বন পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

কেটারাহাটে প্রতি বৃহস্পতিবার ও রবিবার সাপ্তাহিক বড় হাট বসে। হাটে দূরদূরান্ত থেকে আসা মানুষসহ স্থানীয় বাসিন্দারা শহিদুলের হোটেলে খাবার খেতেন। সেখানে গরু ও হাঁসের মাংসসহ বিভিন্ন ধরনের খাবার, মিষ্টি ও দই পাওয়া যেত। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতি হাটবারে হোটেলটিতে প্রায় অর্ধলক্ষ টাকার বেচাকেনা হতো।

হোটেলটির পাশেই ছিল গোপাল চন্দ্র মহন্তের পানের দোকান। তিনি জোতবাণী ইউনিয়নের চাকুল গ্রামের পাথোহাট এলাকার কালা চাঁন মহন্তের ছেলে। আগুনের তাপ ও শিখায় তাঁর দোকানের পান-সুপারি, বিস্কুট, অন্যান্য বিক্রয়সামগ্রী ও আসবাবপত্র পুড়ে যায়। এতে প্রায় এক লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।

একটি হোটেল ও একটি ছোট পানের দোকান ছিল দুই ব্যবসায়ীর পরিবারের আয়ের অন্যতম অবলম্বন। আগুনে সব হারিয়ে এখন নতুন করে ব্যবসা শুরু করা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তাঁরা।

জোতবাণী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক মণ্ডল বলেন, আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডে দুই পরিবারের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও মালামালের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ ক্ষতি কাটিয়ে নতুন করে ব্যবসা শুরু করা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হলে পরিবার দুটি আবার ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত