শূন্য পাস প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের চাকরি যাবে না: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষা বোর্ডগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে আগামী দিনে ফল উন্নয়নের চেষ্টা করা হবে। যারা অকৃতকার্য হয়েছেন, তাদের পুনরায় পরীক্ষা কত দিনের মধ্যে নেওয়া যায়, তা নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত হবে। এ ক্ষেত্রে এক মাসের মধ্যে পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

আপডেট : ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫৩ পিএম

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, শূন্য পাস করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষকদের চাকরি যাবে না।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, গত এসএসসি পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণে নতুন করে ৩ হাজার ৭৯ জন জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন। এবারও ফল পুনর্নিরীক্ষণ করা হবে। কোনো পরীক্ষার্থী যেন অবমূল্যায়নের শিকার না হন, সে বিষয়টি বিবেচনায় রেখে ভবিষ্যতে কাজ করা হবে। তবে এবারের ফল সন্তোষজনক হয়নি।

তিনি বলেন, শিক্ষা বোর্ডগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে আগামী দিনে ফল উন্নয়নের চেষ্টা করা হবে। যারা অকৃতকার্য হয়েছেন, তাদের পুনরায় পরীক্ষা কত দিনের মধ্যে নেওয়া যায়, তা নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত হবে। এ ক্ষেত্রে এক মাসের মধ্যে পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

এবার পাসের হার কমে যাওয়ার কারণ অনুসন্ধানের ওপর গুরুত্বারোপ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কোথায় ঘাটতি রয়েছে, তা চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। এবার ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জন পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন। তাদের জন্য সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

শূন্য পাস করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান কীভাবে উন্নত করা যায়, তা নিয়ে সরকার ভাবছে। প্রয়োজনে শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভালো ফল করা পাশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একীভূত করার বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে।

এদিকে, চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হারে ছাত্রীদের তুলনায় ছাত্ররা পিছিয়ে থাকলেও জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যায় এগিয়ে রয়েছেন তারা।

এবার ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। এর মধ্যে ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৫২৮ জন ছাত্রী পাস করেছেন। ছাত্রীদের পাসের হার ৫৬ দশমিক ৩১ শতাংশ। অন্যদিকে, ২ লাখ ৯০ হাজার ১৫৭ জন ছাত্র উত্তীর্ণ হয়েছেন। ছাত্রদের পাসের হার ৪৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ।

এ বছর মোট ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন। তাদের মধ্যে ছাত্র ২০ হাজার ৩৬৩ জন এবং ছাত্রী ১৯ হাজার ৭২১ জন।

চলতি বছরের পাসের হার গত ১০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এবার গড় পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। গত বছর পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। ওই বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ৬৯ হাজার ৯৭ জন। সেই হিসাবে এবার পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২৯ হাজার ১৩ জন।

এবার ২৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থী পাস করেননি। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ২০২টি। অর্থাৎ, শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে ৯১টি।

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা গত ২ জুলাই শুরু হয়ে শেষ হয় ৮ আগস্ট। এরপর ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ করার কথা ছিল। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কয়েকটি লিখিত পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে স্থগিত পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হলে ওই বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ৯ সেপ্টেম্বর।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত