যে জ্বরে আছে মৃত্যুঝুঁকি

আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০১:০২ এএম

জ্বর আসলে কোনো রোগ নয়, রোগের লক্ষণ। অসুস্থ হওয়ার পরিচিত উপসর্গ হচ্ছে জ্বর। সাধারণত জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার দু-তিন দিনের মধ্যে ভালোও হয়ে যায়। চিকিৎসার দরকার হয় না। দেহে কোনো জীবাণুর সংক্রমণ হলে জ্বর হতে পারে। ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ইত্যাদির আক্রমণে জ্বরে ভোগে মানুষ। এখনকার কোনো জ্বরই অবহেলা করা উচিত নয়। উপসর্গ বুঝে ব্যবস্থা নিতে হবে

যদি জ্বরের সঙ্গে অন্য কোনো উপসর্গ থাকে এবং এক সপ্তাহের পরও সেটি ভালো না হয় তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। শিশু, বয়স্ক এবং ক্রনিক রোগে আক্রান্তদের জ্বরের চিকিৎসা শুরুতে নেওয়া ভালো।

কখন যাবেন ডাক্তারের কাছে

জ্বরের সঙ্গে ঘাড় বা শরীরের ব্যথা, উচ্চ তাপমাত্রা, বমি করা বা খাবার খেতে না পারা, তিন দিনের বেশি জ্বর থাকা, শুধু রাতে জ্বর আসা, শরীরে র‌্যাশ বের হওয়া, চোখ শুকিয়ে যাওয়া, খিঁচুনি হওয়া ইত্যাদি লক্ষণ থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। এ ছাড়া যে চার ধরনের জ্বর হলে ডাক্তারের কাছে যাবেন তাহলো

ডেঙ্গু : জ্বরের সঙ্গে যদি সর্দি-কাশি, গলাব্যথা, শরীর ব্যথা থাকে তাহলে তাকে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। ডেঙ্গু শক সিনড্রোম হলো রোগীর দু-একদিন জ্বর, অল্প গলাব্যথা, কাশি, হঠাৎ করে অবস্থা খারাপ হয়, শক সিনড্রোম, অজ্ঞান হয়ে যায়, পালস পাওয়া যায় না, ব্লাডপ্রেশার পাওয়া যায় না এবং অনেকে মারা যাচ্ছে। যাদের স্বাস্থ্য সমস্যা রয়েছে তারা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে জটিলতা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে ডায়াবেটিস, হাই ব্লাডপ্রেশার, কিডনি রোগ, লিভারের রোগ, স্ট্রোকের রোগী, হার্টের রোগী যাদের মেডিকেল টার্মে বলে কো-মরবিডিটি। এ ধরনের রোগ যাদের আছে তাদের যদি জ্বর আসে তাহলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। ডেঙ্গু রোগীদের শরীরের যেকোনো জায়গা থেকে অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণ মানেই তা হেমারেজিক ডেঙ্গুতে রূপ নিয়েছে। হেমারেজিক ডেঙ্গুতে চোখে রক্ত জমে যায়; নাক, দাঁতের মাড়ি থেকে রক্ত ঝরে; মুখ, কান, মলদ্বার এ রকম যেকোনো একটি বা একের অধিক অংশ দিয়ে রক্ত বের হতে পারে। বমি ও কাশির সঙ্গেও রক্ত বের হতে পারে। হেমারেজিক ডেঙ্গুতে রোগী মারা যেতে পারে যদি ব্রেন, হার্ট এ রকম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে যদি হেমারেজ হয়।

ইয়োলো ফিভার :  ইয়োলো ফিভার বা হলুদ জ্বর মশার কামড়ে ছড়ায় এবং এই মশা সাধারণত দিনের বেলায় কামড়ায়। এডিস এবং হেমাগোগাস মশার কামড়ে এই জ্বর ছড়ায়। হলুদ জ্বরে লক্ষণের মধ্যে রয়েছে জ্বর, মাংসপেশি ব্যথা, মাথাব্যথা, ক্ষুধামান্দ্য, বমি বমি ভাব বা বমি। সাধারণত ৩-৬ দিনের মধ্যে ভালো হয়ে যায়। তবে খুবই কম সংখ্যক রোগী এই জ্বরে আক্রান্ত হলে প্রাথমিক এসব উপসর্গ থেকে সেরে ওঠার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দ্বিতীয় ধাপে পৌঁছায়। এই ধাপে, শরীরের তাপমাত্রা প্রচ- বেড়ে যায় এবং আবারও জ্বর আসে, দেহের বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গ বিশেষ করে লিভার এবং কিডনি আক্রান্ত হয়। এই ধাপে মানুষ জন্ডিসে আক্রান্ত হয়। শরীরের ত্বক এবং চোখে হলুদ হয়ে যায়। এ অবস্থায় প্রসাব গাঢ় রঙের হয়, পেট ব্যথা এবং বমি হয়। মুখ, নাক, চোখ বা পেটে রক্তক্ষরণ হতে পারে। যেসব রোগী এই ধাপে পৌঁছায় তারা অর্ধেকই ৭-১০ দিনের মধ্যে মারা যায়। এই জ্বর নিরোধক কোনো ওষুধ নেই। তবে এটি টিকার মাধ্যমে প্রতিরোধ করা যায়।

ম্যালেরিয়া : কারও যদি জ্বর থাকে এবং জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে ঠা-া, মাথাব্যথা, ক্লান্তিভাব, বিভ্রান্তি, খিঁচুনি ও নিঃশ্বাস নিতে সমস্যা হয় তাহলে দেরি না করে তাকে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হলে প্রাথমিক উপসর্গগুলো সাধারণ জ্বরে আক্রান্তের মতোই মৃদু হয় এবং ম্যালেরিয়া বলে শনাক্ত করাও কঠিন। মারাত্মক আকার ধারণ করলে আক্রান্ত ব্যক্তি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মারা যেতে পারে। শিশু, গর্ভবতী নারী, এইচআইভিতে আক্রান্ত ব্যক্তিরা ম্যালেরিয়ার ঝুঁকিতে বেশি থাকে।

টাইফয়েড জ্বর : টাইফয়েডের অন্যতম উপসর্গ হচ্ছে উচ্চমাত্রায় জ্বর। এ ছাড়া প্রচ- ক্লান্তি, মাথাব্যথা, বমি, পেট ব্যথা এবং আমাশয় ও ডায়রিয়াও থাকে। জ্বরের সঙ্গে এ ধরনের উপসর্গ অনেক সময় প্রাণঘাতী হয়। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। টাইফয়েডে আক্রান্ত রোগীর দেহে ফুসকুড়ি দেখা দিতে পারে। এটি মারাত্মক আকার ধারণ করলে মৃত্যু হতে পারে। সালমোনেলা টাইফি নামক ব্যাকটেরিয়ার সাধারণত দূষিত খাবার বা পানির মাধ্যমে এটি ছড়ায়। রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে টাইফয়েড শনাক্ত করা যায়। টাইফয়েড প্রতিকারে টিকা নিয়ে সুস্থ থাকা সম্ভব।

দিপান্বিতা হালদার

শিক্ষার্থী, শমরিতা মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতাল

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত