জাতীয় দলে ফেরার সুযোগ কাজে লাগাতে চান অমিত

আপডেট : ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:০৫ পিএম

অপেক্ষার অবসান হয়েছে অমিত হাসানের। মুমিনুল হকের অনুপস্থিতিতে আবারও টেস্ট দলে জায়গা পেয়েছেন এই তরুণ ব্যাটসম্যান। তবে দলে ফেরাটাই তার মূল লক্ষ্য নয়, একাদশে সুযোগ পেলে নিজেকে প্রমাণ করতে চান তিনি। ঘরোয়া ক্রিকেটে ব্যাট হাতে ধারাবাহিকতার ছাপ রেখেই নির্বাচকদের নজরে এসেছেন অমিত। তাই জাতীয় দলের পরিবেশে নতুন করে মানিয়ে নেওয়ার চেয়ে নিজের স্বাভাবিক খেলাটাই ধরে রাখতে চান তিনি। সিলেটে দলের অনুশীলন শেষে সংবাদমাধ্যমকে অমিত বলেন, 'না, বাড়তি কোনো চাপ না। আমি যেভাবে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলে আসছি, চেষ্টা করব সে রকমই যেন খেলতে পারি।'

জাতীয় দলে অমিতের পথচলা শুরু হয় চলতি বছরের এপ্রিলে। পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের দলে প্রথমবার ডাক পেলেও অভিষেকের জন্য অপেক্ষা করতে হয় জুন পর্যন্ত। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারারে টেস্টে সাদা পোশাকে অভিষেক হয় তার। যদিও প্রথম ম্যাচে ব্যাট হাতে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। দুই ইনিংসে করেন যথাক্রমে ৪ ও ২৫ রান। এরপর অস্ট্রেলিয়া সফরে দলের সঙ্গে থাকলেও একাদশে জায়গা হয়নি। পরবর্তী সময়ে আফগানিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের দল থেকেও বাদ পড়েন এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান।

তবে জাতীয় দলের বাইরে থাকলেও রান করার ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন অমিত। চলমান জাতীয় ক্রিকেট লিগে সিলেট বিভাগের হয়ে ৭ ইনিংসে তার সংগ্রহ ৪১৫ রান। এর মধ্যে রয়েছে অপরাজিত দ্বিশতক ও ৯৪ রানের ইনিংস। ঘরোয়া ক্রিকেটে এমন পারফরম্যান্সই আবারও জাতীয় দলের দরজা খুলে দিয়েছে তার জন্য। মুমিনুল হক প্রথম টেস্টে ক্যাচ নিতে গিয়ে মাথায় আঘাত পাওয়ায় মস্তিষ্কে আঘাতজনিত সমস্যায় (কনকাশন) পড়েন। নিয়ম অনুযায়ী, সাত দিনের মধ্যে মাঠে ফেরার সুযোগ না থাকায় দ্বিতীয় টেস্টের দলে তাঁর জায়গায় ডাক পেয়েছেন অমিত।

মুমিনুলের অনুপস্থিতিতে তিন নম্বর পজিশনে ব্যাটিংয়ের সুযোগও তৈরি হতে পারে। তবে সম্ভাবনা নিয়ে বাড়তি কিছু ভাবতে চান না অমিত। সুযোগ পেলে নিজের পরিচিত ব্যাটিংয়ের ধরনেই আস্থা রাখতে চান তিনি, 'মুমিনুল ভাই তো দুর্ভাগ্যবশত মস্তিষ্কে আঘাতজনিত সমস্যার জন্য নাই। আমার যদি সুযোগ আসে, আমি চেষ্টা করব যে প্রক্রিয়া বা যেরকম ক্রিকেটটা খেলে আসছি প্রথম বিভাগে, সেটাই খেলার।'

জাতীয় দলের অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের কাছ থেকেও প্রতিনিয়ত শেখার চেষ্টা করছেন অমিত। তাঁদের পরামর্শ নিজের খেলায় কাজে লাগাতে চান বলে দাবি তার, 'সাধারণত সিনিয়র সবার সাথেই মোটামুটি কথাবার্তা হয় যে কীভাবে আমার খেলাটাকে আরও উন্নত করতে পারি, কীভাবে প্রস্তুতি নিতে পারি। সামগ্রিকভাবে যদি চিন্তা করি, সবসময় চেষ্টা করি সিনিয়র যারা আছে তাদের কাছ থেকে অভিজ্ঞতাটা নেওয়া।'

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত