এনএসইউতে শিক্ষার্থীদের নির্মিত চলচ্চিত্রে সাইবার নিরাপত্তার বার্তা

আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:২৬ পিএম

গল্প ও চলচ্চিত্রের মাধ্যমে সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির (এনএসইউ) সাইবারসিকিউরিটি সেন্টার (এনএসইউ-সিএসসি) আয়োজন করেছে ‘সাইবারফ্রেমস গালা নাইট’। আয়োজিত এ উদ্যোগে তরুণ নির্মাতারা তাঁদের নির্মিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের মাধ্যমে সমসাময়িক ডিজিটাল জগতের নানা চ্যালেঞ্জ, অনলাইন নিরাপত্তা ও সাইবার ঝুঁকির বিষয়গুলো তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনএসইউর বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এম এ কাশেম এবং বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য ও সাবেক চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন এনএসইউ উপ-উপাচার্য অধ্যাপক নেছার ইউ. আহমেদ, স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ফিজিক্যাল সায়েন্সেসের ডিন অধ্যাপক সাজ্জাদ হোসেন, এনএসইউ সাইবারসিকিউরিটি সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক রাজেশ পালিত এবং নির্বাহী পরিচালক মিস জারজিনা টি. খলিল।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মাহদী আমিন বলেন, সাইবার নিরাপত্তা এখন দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। অনলাইন প্রতারণা, আর্থিক জালিয়াতি, অপতথ্য, ভুল তথ্য ও ব্যক্তিগত সম্মানহানির মতো ঘটনা সাইবার জগতে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে নারীদের জন্য অনলাইন পরিসর ক্রমেই অনিরাপদ হয়ে উঠছে। নারীর ক্ষমতায়নের কথা বলার পাশাপাশি তাঁদের ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও জরুরি। এ ক্ষেত্রে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও সচেতনতামূলক প্রচারণার মাধ্যমে সরকার নাগরিকদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।

বিশেষ অতিথি এম এ কাশেম বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকাশ, উদ্ভাবনী চিন্তার চর্চা এবং নিজেদের প্রতিভা তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করে। একই সঙ্গে শ্রেণিকক্ষের বাইরেও সমসাময়িক সামাজিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ করতে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করে।

প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন স্টুডিও বিগিনিংয়ের প্রতিষ্ঠাতা মিস সারা আফরিন, লেখক, পরিচালক, প্রযোজক ও চিত্রগ্রাহক কামার আহমাদ সাইমন এবং জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা এজেন্সি, বাংলাদেশের পরিচালক (অপারেশনস) মো. হোসাইন বিন আমিন।

প্রতিযোগিতার সেরা ১০ দলের মধ্য থেকে তিনটি দলকে বিজয়ী হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। এতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ‘টিম স্টারডাস্ট’। প্রথম রানারআপ হয়েছে ‘টিম ফ্রাইডে’ এবং দ্বিতীয় রানারআপ হয়েছে ‘টিম পাসওয়ার্ড ১২৩’।

অনুষ্ঠানে এশিয়া ফাউন্ডেশন, সরকারি বিভিন্ন সংস্থা, বেসরকারি খাত, দেশি-প্রবাসী বিভিন্ন মহলের প্রতিনিধি, সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, শিক্ষক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

গল্প বলার সৃজনশীল মাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা তৈরি এবং নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তরুণদের সম্পৃক্ত করাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য। এ আয়োজনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য ছিল সৃজনশীল শিল্পমাধ্যমের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে কার্যকর ও শক্তিশালী বার্তা পৌঁছে দেওয়া।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত