মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলায় এক শিক্ষকের বাড়িতে হানা দিয়ে ৫ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করেছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জিম্মি করার পাশাপাশি শিক্ষকের দুই মেয়েকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার উথলী ইউনিয়নের মেহেদীপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শ্যামল চন্দ্র মণ্ডল (৪৫) নয়ারবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। এ ঘটনায় শনিবার (৭ নভেম্বর) রাতে তিনি শিবালয় থানায় অজ্ঞাতনামা চারজনকে অভিযুক্ত করে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাত ১০টার দিকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন শ্যামল চন্দ্র মণ্ডল। রাত ৩টা ২০ মিনিটের দিকে বাড়ির মূল ফটকের তালা ভেঙে চারজন দুর্বৃত্ত ঘরে প্রবেশ করে। তাদের মধ্যে একজনের মুখ গামছা দিয়ে বাঁধা ছিল, বাকি তিনজনের মুখ খোলা ছিল।
প্রথমে দুর্বৃত্তরা তাঁর মায়ের ঘরে থাকা স্টিলের ট্যাংক থেকে প্রায় ৫ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে, যার আনুমানিক মূল্য ১২ লাখ টাকা। পরে অন্য একটি কক্ষ থেকে নগদ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। একপর্যায়ে তাঁর দুই মেয়ের কক্ষে প্রবেশ করে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাঁদের মারধর করে। পরে ওই কক্ষে থাকা নগদ ১৫ হাজার টাকা ও দুটি মাটির ব্যাংক ভেঙে সেগুলোতে থাকা টাকাও লুট করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
অভিযোগে শ্যামল চন্দ্র মণ্ডল উল্লেখ করেন, দুর্বৃত্তরা তাঁর দুই মেয়ে অধরা মণ্ডল (১৭) ও সুসমিতা মণ্ডলকে (২২) মারধর করে। পরে মেয়েদের চিৎকারে ঘুম থেকে জেগে তাঁরা ঘটনার বিষয়টি জানতে পারেন। এ সময় আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন।
ভূক্তভোগী শিক্ষক শ্যামল চন্দ্র মন্ডল দেশ রূপান্তরকে বলেন, শুক্রবার রাত ৩টার দিকে তালা ভেঙ্গে তাদের ঘরে ৪ জন প্রবেশ করে। তাদের হাতে থাকা দেশীয় অস্ত্র মুখে পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ঘরের সমস্ত কিছু তছনছ করে জিনিসপত্র ভাংচুর করে। ঘরে থাকা নগদ টাকা ও ৫ ভরি স্বর্ণলংকার নিয়ে যায়। ঘরে প্রবেশকারীদের ৪ জনের মধ্যে কয়েক জনের মুখে মুখোশ ছিল ঘরের বাই ২/৩ জন ছিল। তারা আমার মেয়েদের গায়ে হাতও তুলেছে তারা।
শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।