বিশেষ অর্থায়ন সুবিধা দিতে হবে প্রকৃত উদ্যোক্তাদের

আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০১:১৬ এএম

বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষিত ৬০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ অর্থায়ন প্যাকেজের সুবিধা প্রকৃত উদ্যোক্তাদের জন্য নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। গত শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংক সিলেট অফিসে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশনা দেন। এতে ব্যাংকসহ অন্য অংশীজনরা অংশগ্রহণ করেন।

গভর্নর বলেন, দেশে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বন্ধ কলকারখানা পুনরুজ্জীবিত করা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকা-ে গতিশীলতা আনার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক এই প্যাকেজ সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের সিলেট আঞ্চলিক প্রধান, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নেতৃবৃন্দ, নারী উদ্যোক্তা এবং কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (সিএমএসএমই) শিল্পের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে গভর্নর এই অর্থায়ন প্যাকেজের মাঠপর্যায়ের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক সিলেট অফিসের নির্বাহী পরিচালক খালেদ আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভার শুরুতে প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের ব্যাংকিং রেগুলেশন পলিসি ডিপার্টমেন্টের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন তপাদার।

গভর্নর বলেন, ‘বর্তমানে ব্যাংকঋণের ১২ থেকে ১৪ শতাংশ সাধারণ সুদের হার ব্যবসা পরিচালনার জন্য একটি বড় চাপ। এই চাপ থেকে উদ্যোক্তাদের স্বস্তি দিতে এবং থমকে যাওয়া শিল্প খাতকে পুনরুজ্জীবিত করতে সুদের হার কমিয়ে ৪ থেকে ৮ শতাংশের মধ্যে এই প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় ঋণ সরবরাহ করা হচ্ছে।’ বৃহৎ এ প্যাকেজের ১৯ হাজার কোটি টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব তহবিল থেকে এবং বাকি ৪১ হাজার কোটি টাকা বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর উদ্বৃত্ত তারল্য থেকে দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সিলেট অঞ্চলে বন্ধ থাকা উৎপাদনমুখী শিল্প ও সেবা খাতকে পুনরায় সচল করার ওপর জোর দিয়ে গভর্নর বলেন, এই প্যাকেজের সবচেয়ে বড় অংশ অর্থাৎ ২০ হাজার কোটি টাকা বন্ধ শিল্প পুনর্গঠনে ব্যয় করা হবে। এ ছাড়া কৃষি ও পল্লী অর্থনীতি চাঙ্গা করতে ১০ হাজার কোটি টাকা এবং বেকার যুবকদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে ১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

তরুণদের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে গভর্নর বলেন, ‘বেকার যুবসমাজকে দেশের মূল অর্থনৈতিক ধারায় যুক্ত করতে চলতি নভেম্বর মাস থেকেই একটি প্রকল্প শুরু হয়েছে। এর আওতায় দেশের প্রতিটি উপজেলা থেকে ১০ জন করে মোট ৫ হাজার তরুণকে বাছাই করে নতুন উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা হবে।’ এ প্রক্রিয়ায় ব্যাংক বা আমলাতান্ত্রিক কোনো হস্তক্ষেপ থাকবে না বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র খামারিদের ঋণপ্রাপ্তি সহজ করার বিষয়ে গভর্নর জানান, ১০ হাজার কোটি টাকার কৃষি পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় কৃষকরা এখন প্রচলিত জমির জামানতের পরিবর্তে বিকল্প জামানত ব্যবহার করে সহজেই ঋণ সুবিধা পাবেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত