শেয়ারবাজারের পতন যেন থামছেই না। দিন যত যাচ্ছে, অবস্থা যেন আরও বেগতিক হচ্ছে। এর জের ধরে ভীত হয়ে শেয়ার ছেড়ে দিচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। ফলে কমে যাচ্ছে বাজার মূলধন। গত সপ্তাহেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। সপ্তাহের বেশিরভাগ দিন বাজার মন্দা যাওয়ায় কমে গেছে বাজার মূলধন। তবে বিষয়টি নিয়ে ভয়ের কিছু নেই বলে মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, ধৈর্য ধরলে বাজারের বর্তমান যে চিত্র রয়েছে, তা বদলে যাবে।
গত সপ্তাহে দেশের পুঁজিবাজারে বিক্রির চাপের প্রভাবে নিম্নমুখী ছিল মূল্যসূচক। পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তিন দিনই কমেছে সূচক। এর প্রভাবে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বাজার মূলধন থেকে কমেছে ৯২৩ কোটি টাকা। বাজার মূলধন ও সূচকে পতন দেখা গেছে, তবে এ সময়ে দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে ১৭ শতাংশের বেশি।
জানতে চাইলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন দেশ রূপান্তরকে বলেন, দীর্ঘদিন বিনিয়োগকারীরা বড় ধরনের লোকসানের মধ্যে ছিলেন। নতুন কমিশন দায়িত্ব দেওয়ার পর বাজার ভালো দিকে যাচ্ছে। আগে বাজারে অনেক নিম্নমানের আইপিও এসেছে, যা বাজারকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এই কমিশন চেষ্টা করছে ভালো মানের কোম্পানি বাজারে আনার। যা শেয়ারবাজার তথা বিনিয়োগকারীদের জন্য ভালো খবর। পাশাপাশি ট্রাম্পের ক্ষমতা কমে যাওয়ার কারণে বিশ্ব পরিস্থিতিও ভালো দিকে যাবে। যার প্রভাব আমাদের এখানেও পড়বে। তাই বিনিয়োগকারীদের ভয়ের কিছু নেই। আমি মনে করি, তারা এখন আশার আলো দেখতে পাচ্ছেন।
সপ্তাহের বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, ডিএসইতে লেনদেন হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১৭৮টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১৬৩টি প্রতিষ্ঠানের দাম কমেছে। আর ৪৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দর অপরিবর্তিত ছিল।
সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসের লেনদেন শেষে ডিএসইর মোট বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৭৩ হাজার ৫৫৩ কোটি টাকা। আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে এই মূলধনের পরিমাণ ছিল ৬ লাখ ৭৪ হাজার ৪৭৬ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এক সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন কমেছে ৯২৩ কোটি টাকা।
বাজার মূলধনের পাশাপাশি ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্সও নিম্নমুখী ছিল। গত সপ্তাহে সূচকটি ৪ দশমিক ৪০ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ কমেছে। এর আগের সপ্তাহে সূচকটির পতন হয়েছিল ৩৩ দশমিক ১৯ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৬১ শতাংশ।
অন্য সূচকগুলোর মধ্যেও নেতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। ইসলামি শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই শরিয়াহ সূচক সপ্তাহের ব্যবধানে ২ দশমিক ৯৬ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ২৮ শতাংশ কমেছে। আগের সপ্তাহে এ সূচক কমেছিল ১৯ দশমিক ৭৩ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৮৪ শতাংশ।
অন্যদিকে, বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক গত সপ্তাহে ১৮ দশমিক ২৩ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৮৭ শতাংশ হারিয়েছে। এর আগের সপ্তাহে সূচকটির পতন ছিল ১৬ দশমিক ৫৪ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৭৯ শতাংশ।
সূচক ও বাজার মূলধনে পতন থাকলেও গত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে। পাঁচ কার্যদিবস মিলিয়ে প্রতিদিন গড়ে ৫২৬ কোটি ৭৯ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের সপ্তাহে দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৪৫০ কোটি ৭ লাখ টাকা। ফলে এক সপ্তাহের ব্যবধানে দৈনিক গড় লেনদেন বেড়েছে ৭৬ কোটি ৭২ লাখ টাকা বা ১৭ দশমিক ০৫ শতাংশ।
গত সপ্তাহে ডিএসইতে টাকার অঙ্কে লেনদেনের শীর্ষস্থান দখল করেছে এনভয় টেক্সটাইল। কোম্পানিটির শেয়ার প্রতিদিন গড়ে ২১ কোটি ৯৬ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে, যা ডিএসইর মোট লেনদেনের ৪ দশমিক ১৭ শতাংশ।
লেনদেনের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মতিন স্পিনিং। কোম্পানিটির শেয়ার প্রতিদিন গড়ে ২০ কোটি ৭২ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। আর দৈনিক গড়ে ১৩ কোটি ২২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে সায়হাম টেক্সটাইল।
এদিকে লেনদেনের শীর্ষ দশ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় আরও রয়েছে শাহজিবাজার পাওয়ার, ব্র্যাক ব্যাংক, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, ইভিন্স টেক্সটাইল, প্রাইম ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, নাহি অ্যালুমেনিয়াম ও আইপিডিসি ফাইন্যান্স।
বিষয়টি নিয়ে কথা বললে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের নির্বাহী পরিচালক মো. আবুল কালাম আজাদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, যেকোনো ব্যাপারে এই কমিশন অনেক বেশি সিরিয়াস। বাজারের প্রতিটি খুঁটিনাটি বিষয় আমরা খুব গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। বিএসইসি এমন কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে না, যা বাজারকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।