টেকনাফে মালয়েশিয়াগামী ৯ জন উদ্ধার

আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৫৬ এএম

কক্সবাজারের টেকনাফে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) অভিযানে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় পাচারের শিকার হতে যাওয়া ৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজন রোহিঙ্গা নাগরিক। তবে বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারকারী চক্রের ১০ থেকে ১৫ জন সদস্য ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে সমুদ্রে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

শনিবার (৭ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ লম্বরীঘাট উপকূলীয় এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকেলে ২ বিজিবির অধীন সী-বিচ বিওপির দায়িত্বপূর্ণ দক্ষিণ লম্বরীঘাট এলাকা দিয়ে একদল মানুষকে জোরপূর্বক ট্রলারে তুলে মালয়েশিয়ায় পাচারের গোপন তথ্য পায় বিজিবি। এর পরিপ্রেক্ষিতে টেকনাফ ব্যাটালিয়নের অধিনায়কের নির্দেশনায় বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে একটি বিশেষ টহল দল ওই এলাকায় অবস্থান নেয়।

সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপকূলীয় ঘাটে ২০ থেকে ২৫ জনের সন্দেহজনক জটলা দেখতে পায় বিজিবি। এ সময় সমুদ্র থেকে একটি সন্দেহভাজন নৌকা ঘাটের দিকে আসতে দেখে সেটিকে ধাওয়া করেন বিজিবি সদস্যরা। পরে পাচারকারী চক্রের ১০ থেকে ১৫ জন সদস্য দ্রুত নৌকায় উঠে অন্ধকারের সুযোগে গভীর সমুদ্রে পালিয়ে যায়।

এ সময় বিজিবির টহল দল ঘটনাস্থল ঘিরে সৈকত থেকে পাচারের উদ্দেশ্যে আনা ৯ জনকে উদ্ধার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা জানান, প্রলোভন দেখিয়ে ও জোরপূর্বক তাদের মালয়েশিয়ায় নেওয়ার উদ্দেশ্যে সেখানে আনা হয়েছিল।

উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে কক্সবাজারের বিভিন্ন উপজেলার ছয়জন স্থানীয় বাসিন্দা এবং উখিয়ার বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের তিনজন রয়েছেন।

তারা হলেন- উখিয়ার বালুখালী ক্যাম্পের আমির হোসেন (৪৫), ট্যাংখালী ১৩ নম্বর ক্যাম্পের মো. জীবন (১৯), জামতলা ১৫ নম্বর ক্যাম্পের জান্নাত আরা (১৭), কক্সবাজার সদর উপজেলার বারুয়া কালীর আব্দুল খালেক (২৯) ও ফয়সল করিম (১৬), চকরিয়া উপজেলার মানিকপুরের আরিফুল ইসলাম (২১) ও আহমদ নবী (২৩), মহেশখালী উপজেলার নুরুল ইসলাম (২২) এবং উখিয়ার হলদিয়াপালংয়ের জাহিদ আলম (১৮)।

অভিযানের বিষয়ে টেকনাফ ব্যাটালিয়নের (২ বিজিবি) অধিনায়ক হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, দেশের সীমান্ত সুরক্ষা, জননিরাপত্তা বিধান এবং মানব পাচারের মতো জঘন্য অপরাধ প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা সতর্ক, সক্রিয় ও দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। মানব পাচার ও মাদক চোরাচালানের মতো আন্তঃসীমান্ত সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর এবং 'জিরো টলারেন্স'। উপকূলীয় ও সীমান্ত এলাকায় পাচারকারীদের যেকোনো অপচেষ্টা রুখে দিতে বিজিবির গোয়েন্দা নজরদারি এবং বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরদার করা হবে।

বিজিবি জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত ৯ জন ভুক্তভোগীকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এই চক্রের পেছনে জড়িত স্থানীয় দালালদের চিহ্নিত করতে গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত