ইতিহাসের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রাম থেকে শিক্ষা নিয়ে অতীতের বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু জাফর খান।
শনিবার (৭ নভেম্বর) জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠীগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় ঐক্য, দেশপ্রেম ও দায়িত্বশীলতার চেতনায় সবাইকে কাজ করতে হবে। এ দিবস আমাদের জাতীয় ঐক্য, দেশপ্রেম, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার চেতনাকে স্মরণ করিয়ে দেয়। ভিসি বলেন, জিয়াউর রহমান শুধু একজন রাষ্ট্রনায়কই ছিলেন না, তিনি একজন দার্শনিকও ছিলেন। বাংলাদেশের জন্য কোনটি কল্যাণকর এবং কীভাবে দেশের উন্নয়ন সম্ভব, সে বিষয়ে তাঁর সুস্পষ্ট উপলব্ধি ছিল। তাঁর বিরোধিতায় সেনাবাহিনীর একটি অংশ অবস্থান নিলেও সিপাহি-জনতার ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের মধ্য দিয়ে তিনি মুক্ত হন এবং পরবর্তীতে তাঁর হাত ধরেই বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক যাত্রার শুভ সূচনা ঘটে।
ভাইস-চ্যান্সেলর বলেন, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এ বিশ্ববিদ্যালয়কে রাজনৈতিক বিভেদ কিংবা ব্যক্তি ও গোষ্ঠীগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে রেখে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী সবাইকে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা, শৃঙ্খলা ও ঐক্যবদ্ধতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। নিয়মিত পাঠদান, গবেষণা, একাডেমিক কার্যক্রম ও দাপ্তরিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান ও প্রাতিষ্ঠানিক সুনাম বৃদ্ধি করতে হবে। গঠনমূলক সমালোচনাকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করে ভুলত্রুটি সংশোধনের মধ্য দিয়ে উন্নয়ন ও সংস্কারের ধারাকে এগিয়ে নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টা, দায়িত্বশীলতা ও দেশপ্রেমের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি আধুনিক, মানসম্মত ও মর্যাদাপূর্ণ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। অতীতের ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমানের দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়েই আমাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ নির্মাণ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস সিদ্দিকী, ট্রেজারার শাহিনুল ইসলাম, কামিল (স্নাতকোত্তর) শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা দপ্তরের ডিন প্রফেসর ড. মুহাম্মদ গোলাম রব্বানী, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. মো. ওয়ালিউর রহমান, মাদরাসা পরিদর্শক প্রফেসর ড. মো. হুসাইন আহমাদ, অর্থ ও হিসাব বিভাগের পরিচালক মো. আবুবকর সিদ্দিক এবং পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক প্রফেসর মো. নওসের আলী।
এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতি: দায়িত্ব) প্রফেসর ড. এ. কে. মুহা. নুরুল ইসলাম অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন উপ-রেজিস্ট্রার ফাহাদ আহমদ মোমতাজী, উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (অতি: দায়িত্ব) মুহাম্মদ জিয়াউর রহমান, সহকারী অধ্যাপক (ই.স্টাডিজ) মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম চৌধুরী, জনসংযোগ, তথ্য ও পরামর্শ দপ্তরের সহকারী পরিচালক আবু সালেহ মুহাম্মদ মুসা এবং সহকারী রেজিস্ট্রার মাহবুবুর রহমানসহ অন্যান্যরা। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ, দপ্তর ও শাখার শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ, শান্তি-সমৃদ্ধি এবং ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নতি ও অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন হাফেজ মো. মোয়াজ্জেম হোসেন।