শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে ভারত সরকারের সঙ্গে কোনো আইনি লড়াই হবে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, বন্দিবিনিময় চুক্তির আওতায় ইতিমধ্যেই ভারত সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, “এইটা ভারত সরকারের ব্যাপার। বন্দীবিনিময় চুক্তির আওতায় আমরা তাদের কাছে রিকোয়েস্ট করেছি। তারা আমাদেরকে হ্যান্ডওভার করলে আমরা তাকে ডিউ প্রসেসে যেভাবে আইনের আওতার সোপর্দ করার দরকার সেভাবে করব।”
ভারত সরকার শেখ হাসিনাকে ‘রাষ্ট্রীয় অতিথি’ হিসেবে গণ্য করছে এবং তিনি সেখানে বন্দী নন—সাংবাদিকদের এমন যুক্তির তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আইনমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন যে, বাংলাদেশের আইনি দৃষ্টিতে তার পরিচয় সম্পূর্ণ ভিন্ন। এ প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, “আমার কাছে উনি অপরাধী। আমাদের ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক সাজাপ্রাপ্ত একজন অপরাধী—এটা হলো আমাদের কাছে তার পরিচয়।…তারা (ভারত) কি বলছেন, তারা বললে তো হবে না! আমার রাষ্ট্রে ওপেন আদালতে বিচার হয়েছে।”
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের ন্যায়বিচারের প্রসঙ্গ টেনে আইনমন্ত্রী আরও বলেন, রাষ্ট্রে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার অত্যন্ত স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়েছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আপনারা যখন এই প্রশ্নটা করছেন, তাহলে তার আগে চিন্তা করেন আপনারা—১৪০০ মানুষ কি মারা যায়নি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে? ৩০ হাজার মানুষ কি পঙ্গু হয়নি? ন্যায়বিচারে কোনো রকম ঘাটতি রাখা হয়েছে? বিচার প্রক্রিয়ায় কি আমরা ক্যামেরা ট্রায়াল করেছি? সাক্ষী কি সাক্ষী দেয়নি?”
এছাড়া বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের চলমান বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান যে, আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই প্রক্রিয়াগুলো বর্তমানে এগিয়ে চলেছে। অধস্তন আদালতের বরখাস্তকৃত বিচারক আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে চলমান আইনগত ব্যবস্থা এবং আগামী ১৯ মে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গাম্বিয়ার করা রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার রায় প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ন্যায়ের পক্ষে থাকবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।