ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিলেট টেস্টে ব্যাট হাতে গতকাল তাওহীদ হৃদয় কী করেছেন সেই গল্প এখন সবার জানা। তবে এমন মহাকাব্য লিখার পর তার মুখ থেকেও কিছু গল্প শোনার অপেক্ষায় ছিল ক্রিকেটপ্রেমীরা। শনিবারের সারাদিনের ব্যাটিং ক্লান্তির কারণে দিন শেষে মিডিয়ার মুখোমুখি হতে পারেননি হৃদয়।
তবে আজ রবিবারের খেলা শুরুর আগে মুখোমুখি হয়েছিলেন অফিসিয়াল ব্রডকাস্টারদের সম্প্রচার ক্যামেরার সামনে। সেখানে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে ২৫ বছর বয়সী এই ব্যাটার আবেগাপ্লুত কণ্ঠে স্বীকার করেন যে, ক্যারিয়ারের মাত্র তৃতীয় টেস্টেই এমন ঐতিহাসিক অর্জনের মুখ দেখবেন তা তাঁর কল্পনাতীত ছিল।
২৪২ রানের ঐতিহাসিক ইনিংসে দেশের টেস্ট ইতিহাসের সব রেকর্ড নতুন করে সাজিয়েছেন হৃদয়। প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিকেই ডাবল সেঞ্চুরিতে রূপ। রেকর্ড গড়া এই ইনিংসের প্রতিক্রিয়া হৃদয় বলেন, ‘সত্যি বলতে, এটা আমার স্বপ্ন ছিল। স্বপ্নটা পূরণ হওয়ায় আমি খুবই আনন্দিত। হয়তো আমার প্রত্যাশার চেয়েও একটু আগে পূরণ হয়েছে। সবকিছুর জন্য আমি কৃতজ্ঞ।’
ক্যারিয়ারের শুরুতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অভিষেক টেস্টে দুই ইনিংসে মাত্র ৩ ও ৯ রানে থমকে যাওয়া তরুণ হৃদয় সিলেটের মাঠে যেন নিজের ভাগ্যটাই বদলে দিলেন। বাংলাদেশের ২২ রানে ২ উইকেট হারানোর পর বিপর্যয়ের মুখে ক্রিজে এসে একপ্রান্তে উইকেটের মিছিলের মধ্যেও অপরাজিত থাকেন তিনি, যেখানে দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান ছিল মুশফিকের মাত্র ৩৪।
টেল-এন্ডারদের সঙ্গে নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর পেছনের গল্প শোনাতে গিয়ে দুই সতীর্থ তাইজুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদকে বিশেষ কৃতিত্ব দেন এই ডাবল সেঞ্চুরিয়ান। ১৮৪ রানে ৭ উইকেট হারানোর পর শেষ দুই উইকেটে দল যোগ করে আরও ২০২ রান, যার ফলে প্রথম ইনিংসে ৩০ রানের মহামূল্যবান লিড পায় বাংলাদেশ। সেই অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে হৃদয় জানান, ‘আপনি যখন টেস্ট ক্রিকেট খেলবেন, তখন দলের জন্য নিজের সেরাটা দিতে হবে। যখনই কোনো সুযোগ আসবে, সেটার সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে হবে। তাইজুল ও তাসকিন খুব ভালো খেলেছে। ওরা যেভাবে আমাকে সমর্থন দিয়েছে, তাতে আমি অনেক আত্মবিশ্বাস পেয়েছি।’
২২টি চার ও রেকর্ড ১১টি ছক্কায় মুশফিকুর রহিম (২১৯) ও তামিম ইকবালদের টেস্ট রেকর্ড ভেঙে চূড়ায় বসলেও নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে খুব বেশি দূর ভাবতে রাজি নন এই তরুণ। সামনে কত দূর যাওয়ার ইচ্ছা আছে—এমন প্রশ্নের জবাবে নিজের মনোভাব পরিষ্কার করে তিনি যোগ করেন, ‘আপাতত আমার কোনো লক্ষ্য নেই। শুধু দলের যা প্রয়োজন, সেটাই করতে চাই। আগেও বলেছি, যখনই সুযোগ পাই, দলের জন্য অবদান রাখার চেষ্টা করি। ম্যাচের পরিস্থিতি যেমনই হোক, দলের যা প্রয়োজন হবে, আমি সেভাবেই খেলার চেষ্টা করব।’
ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দলের স্বার্থকে এভাবে সামনে রেখেই সামনের দিনগুলোতে লাল-সবুজের জার্সিতে নিয়মিত রান বানিয়ে যেতে চান হৃদয়ের এই নতুন রূপ।
বাংলাদেশের ২ উইকেটের সেশন, উইন্ডিজের ৯৮ রানের লিড