‘দেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য তুলে ধরব বিশ্বমঞ্চে’

আপডেট : ০৯ নভেম্বর ২০২৬, ০১:১১ এএম

বাবা-মার কাছ থেকে পাওয়া অনুপ্রেরণাই এখন সবচেয়ে বড় শক্তি মডেল-অভিনেত্রী সামিরা খান মাহির। লক্ষ্য এবার বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করা। আত্মবিশ্বাসী মাহির দৃঢ় প্রত্যয়, তিনি জিতলে জিতবে পুরো বাংলাদেশও। ২৪ নভেম্বর ক্যারিবীয় দ্বীপাঞ্চল পুয়ের্তো রিকোয় বসবে মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতাটির ৭৫তম আসর। এই প্রতিযোগিতায় এবার বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন এই তারকা। গত শনিবার রাতে রাজধানীর এক কনভেনশন সেন্টারে জমকালো অনুষ্ঠানে ‘মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ ২০২৬’-এর খেতাব অর্জন করার পর মাহির সাক্ষাৎকার নিয়েছেন তারেক আনন্দ

নাটকের জনপ্রিয় মুখ হয়ে এই প্রতিযোগিতায় নাম লেখানোর ভাবনা কীভাবে এলো?

আমি মনে করি, জীবনে একটা সময় আসে যখন নিজের পরিচিত গণ্ডির বাইরে গিয়ে নতুন কিছু করার সাহস দেখাতে হয়। অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের ভালোবাসা পেয়েছি, কিন্তু সবসময়ই ইচ্ছা ছিল দেশের জন্য আরও বড় কোনো প্ল্যাটফর্মে কাজ করার। মিস ইউনিভার্স এমনই একটি সুযোগ, যেখানে নিজের দেশ, সংস্কৃতি ও চিন্তাভাবনাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরা যায়। সেই ভাবনা থেকেই এই যাত্রা শুরু করা।

প্রতিযোগিতায় এসে মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ হলেন। কেমন লাগছে?

সত্যি বলতে, অনুভূতিটা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। এটা শুধু আমার ব্যক্তিগত অর্জন নয়, আমার কাছে অনেক বড় একটা দায়িত্ব। বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসা, দোয়া এবং সমর্থন আমাকে এখানে নিয়ে এসেছে। আমি সবার প্রতি কৃতজ্ঞ।

যখন নাম লেখালেন, তখন থেকে কতটা আত্মবিশ্বাসী ছিলেন?

আমি আত্মবিশ্বাসী ছিলাম, তবে কখনোই ফলাফল নিয়ে অতিরিক্ত প্রত্যাশা করিনি। আমি বিশ্বাস করি, কোনো কিছু অর্জন করতে হলে নিজের সেরাটা দেওয়ার মানসিকতা থাকতে হয়। আমি শুরু থেকেই চেষ্টা করেছি নিজের ওপর বিশ্বাস রাখতে এবং প্রতিটি ধাপ থেকে শেখার।

এই জার্নির অভিজ্ঞতার গল্পটা কেমন মনে হলো?

এটা আমার জন্য একেবারেই নতুন এবং অসাধারণ একটি অভিজ্ঞতা। অনেক কিছু শিখেছি, নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করেছি। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এই যাত্রা আমাকে বুঝিয়েছে যে সৌন্দর্য শুধু বাহ্যিক নয়, একজন মানুষের চিন্তা, সাহস, আত্মবিশ্বাস এবং অন্যের জন্য কিছু করার ইচ্ছাও অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করবেন? নিশ্চয়ই রোমাঞ্চিত?

অবশ্যই! আমি ভীষণ রোমাঞ্চিত। একই সঙ্গে অনেক দায়িত্ববোধও কাজ করছে। কারণ সেখানে আমি শুধু সামিরা হয়ে যাচ্ছি না, আমি বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করব। আমার চেষ্টা থাকবে বাংলাদেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, সৌন্দর্য এবং আমাদের নারীদের শক্তি ও সম্ভাবনাকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরার।

পরবর্তী প্রতিযোগিতা এবং দেশের মানুষের উদ্দেশে কী বলতে চান?

আমি বাংলাদেশের সবার কাছে দোয়া চাই। আপনারা যেভাবে আমাকে ভালোবাসা দিয়েছেন, আশা করি সামনের পথেও সেভাবেই পাশে থাকবেন। আমি চাই, আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের জন্য গর্বের কিছু অর্জন করতে। আর একটা কথা বলতে চাই, স্বপ্ন দেখার সাহস রাখুন, নিজের ওপর বিশ্বাস রাখুন। কারণ সুযোগ পেলে বাংলাদেশের মেয়েরাও বিশ্বমঞ্চে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত