অগ্রণী ব্যাংকের শ্রীনগর শাখায় গ্রাহকের ৩০ কোটি টাকা উধাও

আপডেট : ০৯ নভেম্বর ২০২৬, ০১:১২ এএম

রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংকের মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর শাখায় আর্থিক অনিয়ম ও জালিয়াতির ঘটনায় ৩১৫ জন গ্রাহকের প্রায় ৩০ কোটি টাকা ফেরত পেতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও অগ্রণী ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। ব্যাংকটির এক অসৎ কর্মকর্তার অনিয়মে সারা জীবনের সঞ্চয় হারাতে বসেছেন গ্রাহকরা। গতকাল রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে বিক্ষোভ ও কর্মসূচি পালন করেন শতাধিত ভুক্তভোগী গ্রাহক। এ সময় তারা সাত দফা দাবি তুলে ধরেন।

ভুক্তভোগী গ্রাহকদের অভিযোগ, মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর শাখার ক্যাশ কাউন্টারে টাকা জমা দেওয়ার পরও তাদের হিসাবে সেই অর্থ জমা হয়নি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে লেনদেনের পরও আমানতের অর্থ যথাযথভাবে হিসাবভুক্ত করা হয়নি। এমন ঘটনায় ৩১৫ জন গ্রাহকের প্রায় ৩০ কোটি টাকা আটকে পড়েছে।

আবুল হোসেন নামের এক ভুক্তভোগী দেশ রূপান্তরকে বলেন, শাখাটির অফিসার (ক্যাশ) মো. শরিফুজ্জামানের মাধ্যমে লেনদেন করতে গিয়ে তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন। এ বিষয়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে দেওয়া লিখিত আবেদন দেন তিনি। তিনি বলেন, শ্রীনগর শাখায় তার হিসাব নম্বরে ১৫ লাখ টাকা জমা দেওয়ার কথা থাকলেও ওই অর্থ ব্যাংকের ক্যাশ কাউন্টারে জমা না দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা অন্যত্র সরিয়ে আত্মসাৎ করেছেন। এতে তিনি মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে তদন্ত করে তার অর্থ ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

মানববন্ধনে গ্রাহকরা জানান, শ্রীনগর শাখায় সংঘটিত আর্থিক অনিয়ম ও জালিয়াতির ঘটনায় তাদের সারা জীবনের সঞ্চয়, অবসরকালীন অর্থ, ব্যবসায়িক মূলধন এবং পরিবারের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার জন্য জমানো টাকা অনিশ্চয়তায় পড়েছে। আমানতের অর্থ ফেরত না পাওয়ায় অনেক পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে।

ভুক্তভোগী সাজেদা খাতুন ও বাবুল সরকার বলেন, একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের ওপর আস্থা রেখেই আমরা নিজেদের কষ্টার্জিত অর্থ জমা রেখেছিলাম। কিন্তু শ্রীনগর শাখার অনিয়ম ও জালিয়াতির ঘটনায় আমাদের সেই আস্থা ভেঙে গেছে। এখন নিজেদের জমা টাকা ফেরত পেতে দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হচ্ছে। আমরা কোনো অনুদান চাই না, নিজেদের বৈধ আমানতের টাকা ফেরত চাই। তিনি বলেন, ব্যাংকের কর্মকর্তা বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অনিয়ম ও জালিয়াতির দায় সাধারণ আমানতকারীদের ওপর চাপানো যাবে না। দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নিতে হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার দেশ রূপান্তরকে বলেন, গ্রাহকদের আমানতের একটি টাকাও তছরুপ হতে দেওয়া হবে না। তাদের জমা করা অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আমানত ফেরত দেওয়ার বিষয়টি আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখতে ব্যাংকের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। টিমটি ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে। পাশাপাশি এ ঘটনায় ব্যাংকের নিজস্ব উদ্যোগে নিরীক্ষা (অডিট) কার্যক্রমও চলমান রয়েছে। অনিয়মের প্রকৃত ঘটনা, এর সঙ্গে কারা জড়িত এবং কীভাবে গ্রাহকদের অর্থ আটকে পড়েছে, তা নিরীক্ষা ও তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের ধৈর্য ধরার অনুরোধ জানাচ্ছি। আমরা বিষয়টি সমাধানে কাজ করছি এবং গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় ব্যাংকের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত