রেংয়েনপাড়া থেকে আম্বইল গ্রাম

আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০২৩, ১০:৩৩ পিএম

দীর্ঘ মহামারীর পর ভেবেছিলাম এক মুক্তির সুবর্ণরেখা ছুঁতে যাচ্ছি আমরা। কিন্তু খ্রিস্টীয় পঞ্জিকার নতুন বছরটাই শুরু হলো দুর্বলের ওপর সবলের অত্যাচার দিয়ে। ক্ষমতার দাপট দিয়ে। জিইয়ে থাকা কাঠামোগত বৈষম্য উসকে দিয়ে। বান্দরবানের লামার সরই পাহাড়ে এক রাবার কোম্পানি চুরমার করে দিয়েছে রেংয়েনপাড়া। ঠিক নতুন বছরের সূচনারাতে পুড়ে অঙ্গার হয়েছে এক প্রাচীন ম্রো গ্রাম। আমরা ভেবেছিলাম রাষ্ট্র রেংয়েনপাড়ার ম্রো-সহ দেশের সব আদিবাসী নাগরিকের নিরাপত্তা সুরক্ষিত করবে। কিন্তু আবারও হামলা হয়েছে বগুড়ায়। রেংয়েনপাড়া থেকে আম্বইল গ্রাম। বান্দরবান থেকে বগুড়া। ম্রো পাড়া থেকে তুরী সিংদের গ্রাম। ২০২৩ সালের ৮ জানুয়ারি বগুড়ার শেরপুরে ভবানীপুর ইউনিয়নের আম্বইল গ্রামে তুরী সিংদের ওপর হামলা হয়েছে। হয়েছে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। আদিবাসী ও বাঙালিদের বহুজন ঘটনায় আহত হন।

কেন বান্দরবানের সরই পাহাড় কিংবা বগুড়ার আম্বইল গ্রামে এমন হামলা ঘটছে? এর কারণ খুবই সরল এক গণিত। আদিবাসী ভূমি জবরদখল। উল্লিখিত দুই জনপদে ম্রো ও তুরী সিংদের প্রাচীন বসতি। এই ম্রো ও তুরী সিং কারা? ২০১০ সালে বাংলাদেশ ‘‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন অনুমোদন করে। উক্ত আইন অনুযায়ী ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী’ বলতে উক্ত আইনের তফসিলে উল্লিখিত বিভিন্ন আদিবাসী তথা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও শ্রেণির জনগণকে বোঝানো হয়েছে। উল্লিখিত আইনের ২ (১) এবং ধারা ১৯-এ চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, ম্রো, তঞ্চঙ্গা, বম, পাংখোয়া, চাক, খিয়াং, খুমি, লুসাই, কোচ, সাঁওতাল, ডালু, উসাই (উসুই), রাখাইন, মণিপুরী, গারো, হাজং, খাসিয়া, মং, ওরাও, বর্মণ, পাহাড়ি, মালপাহাড়ি, কোল এবং বর্মণ নামে মোট ২৭ জনগোষ্ঠীর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এই ২৭ জাতির পাশাপাশি পরে কুর্মি মাহাতো, কন্দ, গঞ্জু, গড়াইত, মালো, তুরি, তেলী, পাত্র, বানাই, বাগদী, বেদিয়া, বড়াইক, ভূমিজ, মুসহর, মাহালী, রাজোয়ার, লোহার, শবর, হদি, হো এবং কড়া মিলিয়ে ২১ জাতির নামও আইনের তফসিলভুক্ত হয়। তার মানে আক্রান্ত রেংয়েনপাড়ার ম্রো এবং আম্বইল গ্রামের তুরী সিং জনগোষ্ঠী রাষ্ট্রের উল্লিখিত আইনের তফসিলভুক্ত ‘বিভিন্ন আদিবাসী তথা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও শ্রেণির জনগণ’। সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে উল্লেখ করা হয়েছে, ... রাষ্ট্র বিভিন্ন উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃগোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের অনন্য বৈশিষ্ট্যপূর্ণ আঞ্চলিক সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও বিকাশের ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন। সংবিধানে ‘আদিবাসী’ প্রত্যয়টি নেই। এমনকি সংবিধানে ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী’ প্রত্যয়টিও নেই। সংবিধানে আছে ‘নৃগোষ্ঠী’, ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী’ নয়।

সভ্যতার বিকাশ কী মুক্তিসংগ্রাম সবকিছুতেই ঐতিহাসিক অবদান থাকলেও রেংয়েনপাড়া ও আম্বইল গ্রামের ম্রো কিংবা তুরী সিংরা আজ নয়াউদারবাদী করপোরেট ব্যবস্থা ও চলমান অধিপতি রাষ্ট্রের দুর্বলতম নাগরিক। নিদারুণভাবে রাষ্ট্রের দুর্বলতম এই নাগরিকরা অবিরাম দেশের প্রাণ-প্রকৃতির সুরক্ষা ও সামগ্রিক উন্নয়নে অবদান রাখলেও আজ তারা কার্যত ভূমিহীন। ১৯৮৪ সালের শুমারিতে দেশে আদিবাসী জনসংখ্যা ছিল ৮,৯৭,৮২৮ জন এবং তখন মাত্র ২৮ জাতিগোষ্ঠীর নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। ১৯৯১ সালের শুমারিতে আদিবাসী জনসংখ্যা দেখানো হয় ১২,০৫,৯৭৮ জন এবং জাতিসত্তা দেখানো হয় ২৯টি। ২০০১ সালের শুমারিতে আদিবাসী জনসংখ্যা উধাও ছিল। সর্বশেষ ‘জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২’ অনুযায়ী দেশে আদিবাসী জনসংখ্যা দেখানো হয়েছে ১৬,৫০,১৫৯ জন এবং জাতিসত্তা ৫০টি এবং মোট জনসংখ্যার মাত্র ১.২ ভাগ। দুর্বল কি সবল, ক্ষুদ্র কি বৃহৎ, বোঁচা নাক কি উঁচু নাক রাষ্ট্র সংবিধানে সব নাগরিকের নিরাপত্তা সুরক্ষার অঙ্গীকার করেছে। ম্রো, তুরী সিং কি বাঙালি সবার জন্যই রাষ্ট্রের অধিকার সমান। তাহলে কেন বান্দরবান কি বগুড়ায় ম্রো কিংবা তুরী সিংদের ওপর বাঙালিরা আক্রমণ ও হামলা করে? এর অন্যতম কারণ আদিবাসীদের ভূমি জোর করে দখল করা। কারণ আদিবাসী ভূমি দখলের বিরুদ্ধে কোনো ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়নি আজও। আমরা আশা করব বান্দরবানের সরই পাহাড় কি বগুড়ার আম্বইল গ্রামে আদিবাসীদের ওপর হামলা ও অন্যায়ের সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে রাষ্ট্র। ক্ষতিগ্রস্ত সবার পাশে দাঁড়াবে দেশ।

কী ঘটেছে বগুড়ার শেরপুরে?

বগুড়ার শেরপুরের ভবানীপুর ইউনিয়নের আম্বইল মৌজার শতবিঘা জমির মালিকানা নিয়ে স্থানীয় তুরী সিং আদিবাসী ও আশপাশের চার গ্রামের বাঙালিদের ভেতর বিরোধ চলছে। এসব জমিকে কেন্দ্র করে আদালতে মামলাও চলছে। এর ভেতর বিবদমান চার বিঘা জমি সোলায়মান আলী মাস্টার নিজের দাবি করে সেই জমিতে জোর করে বাঙালিদের দিয়ে চলতি বোরো মৌসুমে ধান চারা রোপণ করা শুরু করেন। অন্যদিকে আদিবাসীরা এই জমি নিজেদের বলে দাবি করেন। দখলদাররা তখন আদিবাসীদের ওপর হামলা করে এবং দফায় দফায় সংঘর্ষ তৈরি হয়। যদিও দখলদাররা গণমাধ্যমে বলেছেন, এগুলো তাদের ক্রয়কৃত জমি এবং আদিবাসীরা এসব জমিকে খাসজমি দেখিয়ে ভোগদখল করতে চায়। বেশ কিছুদিন ধরেই সোলায়মান আলী মাস্টার, হাফিজুর রহমান ও স্বপন মিয়াসহ শতাধিক বাঙালি স্থানীয় তুরী সিংদের ভোগদখলীয় জমি এভাবেই নানাভাবে জবরদখল নিচ্ছে। সাম্প্রতিক হামলা পুলিশের উপস্থিতিতে শেষ হয় এবং সংঘর্ষে গুরুতর আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয়। আদিবাসীদের ভূমি দখল নিয়ে বগুড়ার এই সাম্প্রতিক সংঘর্ষে আহত হয়েছেন বহু মানুষ। আহতদের ভেতর গণমাধ্যম নূরুন্নবী সরকার, আবু সাঈদ, ফজলুল হক, জুয়েল সরকার, নূর হোসেন, আব্দুল বারিক, জসিম উদ্দিন সরকার, হায়দার আলী, মিলন সরকার, ফারুক হোসেন, আসফদৌল্লা খান, টুটুল মিয়া, নাদু সিং, প্রদীপ সিং, জাম্পু মেম্বার, জিরেন সিং, শান্ত সিং, রফিক মেম্বার, সন্তোষ সিং, গজেন সিং, নয়ন সিং, অর্জন সিং, কৃষ্ণা সিং, পরী সিং, সুকুমার সিং, সোহানা সিং ও দিলীপ সিংয়ের নাম ছেপেছে (সূত্র: দেশ রূপান্তর, ৯/১/২৩)।

জমির জন্য জখম চলছেই

বগুড়ার আদিবাসীদের প্রায়ই জমির জন্য জখম হতে হচ্ছে। গ্রাম কি নগরে, সর্বত্র। উত্তরাধিকার, ভোগদখলীয়, খাসজমি আদিবাসীরা নিজ অধিকারে রাখতে পারছেন না। যে কোনো একটা ছুতা তৈরি করেই আদিবাসীদের ওপর হামলা হচ্ছে এবং এই অবিরত নিপীড়ন এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যখন আদিবাসীদের নিজ বসত ছেড়ে নিরুদ্দেশ হতে হয়। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে বগুড়ার শেরপুরের মির্জাপুর পুরাতন হাটখোলায় আদিবাসীদের ওপর এক নৃশংস হামলা হয়। হামলায় ফুলচান, রবিন চন্দ্র, রেহানা রানী ও সুমন চন্দ্র গুরুতর আহত হয়ে হাসপতালে ভর্তি হন। আদিবাসী ভ্যানচালক ফুলচানের বাড়ির সামনে এলাকার মনির ছিনতাইয়ের কবলে পড়েন। তাকে উদ্ধারে যান ফুলচান। ছিনতাইকারী শাহীন ও শাহাদাত পরেরদিন ফুলচানের ওপর দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা করেন। এ সময় আদিবাসী পাড়ায় হামলা করে বহু বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় থানায় আদিবাসী ও হামলাকারী বাঙালি উভয়েই পৃথকভাবে অভিযোগ করেন। কিন্তু জানা যায়, এমনসব হামলার অন্যতম কারণ আদিবাসীদের জমি জবরদখল করা। কারণ আদিবাসীরা সরকারি খাসজমিতে বসবাস করে আসছেন এবং সেই জমি থেকে তাদের উচ্ছেদ করে জমি জবরদখলের জন্য এমন নানা হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা প্রায়ই ঘটে থাকে (সূত্র : আজকের পত্রিকা, ১৬/১২/২১)।

কার্বন কপি বাতিল হোক

আদিবাসী ভূমি দখল এক প্রশ্নহীন কার্বন কপি বাহাদুরি। রায় ও অন্যরা (২০০৭) বাংলাদেশের সমতল অঞ্চলের আদিবাসীদের ওপর পরিচালিত শিক্ষা ও ভূমি বিষয়ক বেশ কিছু প্রকাশিত ও অপ্রকাশিত প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে জানিয়েছেন, সমতল এলাকার আদিবাসীরা বিচ্ছিন্ন ও বিক্ষিপ্তভাবে সমতল এলাকার বিভিন্ন জেলায় বসবাস, সংখ্যালঘিষ্ঠতা এবং নানা শোষণ ও নির্যাতনের জাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে এখনো প্রান্তিক পর্যায়ে রয়েছেন। নিজের জমির রেকর্ড রাখতে ব্যর্থ হওয়ায় প্রভাবশালীদের নজরে পড়ে উক্ত জমি জবরদস্তি দখল হচ্ছে এবং অশিক্ষার সুযোগ নিয়ে জালিয়াতি করে অনেকে তাদের জমি দখল করেছে। আর এভাবে জমির মালিকানা থেকে দিন দিন আদিবাসীদের নাম মুছে যাচ্ছে। উত্তরবঙ্গের আদিবাসীদের ওপর পরিচালিত এক সমীক্ষায় আখতার (২০০৪) জানিয়েছেন, বৃহত্তর উত্তরবঙ্গের সাঁওতাল, ওঁরাও, মাহালী, পাহান, রবিদাস, পাহাড়ি, সিং, রাজোয়ার আদিবাসীরা ক্রমান্বয়ে ভূমিহীন হয়ে পড়ছে। কেবল সমতল বা পাহাড় নয় দেশের সর্বত্র আদিবাসী ভূমি জবরদখল হচ্ছে এবং ভূমি জবরদখলের ঘটনায় আদিবাসীদের ওপর হামলা ও জখম হচ্ছে। আর এটিই এক কার্বনকপি প্রশ্নহীনতা।

২০২২ সালের ১৯ আগস্ট সকাল সাতটার দিকে দা, শাবল, লোহার রড, লাঠি, কাঁচি সমেত প্রায় ২০০-২৫০ বাঙালি পুরুষের একটি দল নিয়ে রাশিদুল ও এবাদুল সাতক্ষীরার শ্যামনগরের ধূমঘাট অন্তাখালী মুন্ডাপাড়া অবরুদ্ধ করে। কুপিয়ে হত্যা করে কৃষক নরেন্দ্র মুন্ডাকে। রাজশাহীর তানোরের পাঁচন্দর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামে ২০২২ সালের ১৮ মে বুলডোজার দিয়ে মো. দেলোয়ার হোসেন একটি কর্মকার আদিবাসী পাড়া নির্মমভাবে ভেঙেচুরে তাদের উচ্ছেদ করেন। ২০০০ সালের ১৮ আগস্ট হাতেম আলী ও সীতেশ ভট্টাচার্যদের ভাড়াটে দল সাঁওতাল আদিবাসীদের ভূমি জবরদখলের জন্য সশস্ত্র আক্রমণ করে নওগাঁর মহাদেবপুরের ভীমপুর গ্রামে। বাঙালিদের উচ্ছেদ আক্রমণ ঠেকাতে আলফ্রেডের নেতৃত্বে জ্যোৎস্না সরেন, রেবেকা সরেন, বিশ্বনাথ বেসরা, সুবল বেসরা, কমল সরেন, দেবেন সরেন, অনিল সরেন ও শ্রীমন্ত হেমব্রমরা গ্রামবাসীদের নিয়ে রুখে দাঁড়ান। আক্রমণকারীদের আঘাতে ৩২ বছর বয়সে নিহত হন আলফ্রেড সরেন। গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের বাগদা ফার্মে নিজভূমির উত্তরাধিকার আন্দোলনে শহীদ হয়েছেন মঙ্গল মার্ডী, শ্যামল হেমব্রম ও রমেশ টুডু। আদিবাসী ভূমি জবরদখলের এ কার্বনকপি বদলাতে হবে। তা না হলে কার্বনকপির এ দীর্ঘ যন্ত্রণা ও অন্যায়ের স্তূপ একদিন রাষ্ট্রকে ভঙ্গুর করে দেবে।

ভুলে যাওয়া যাবে না জমিজমার প্রতিবেশীয় নিরাপত্তা ও সামাজিক অধিকার চাইতে গিয়ে তেভাগা আন্দোলনে শহীদ হন শিবরাম মাঝি ও কম্পরাম সিং। টংক আন্দোলনে রাশিমনি হাজং, সুসং দুর্গাপুরে সত্যবান হাজং, জুড়িতে অবিনাশ মুড়া, নওগাঁয় আলফ্রেড সরেন, সুন্দরবনে নরেন্দ্র মুন্ডা, মধুপুরে গীদিতা রেমা বা পীরেন স্নাল।

বান্দরবানের সরই পাহাড়ে হামলার চারদিন পর জাতীয় মানবাধিকার কমিশন পরিদর্শনে গিয়েছিল। আশা করি জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বগুড়ার আম্বইল গ্রামেও আসবে। ক্ষতিগ্রস্ত ম্রোদের মতো ক্ষতিগ্রস্ত তুরী সিংদের পাশেও দাঁড়াবে। বগুড়ার আম্বইল গ্রামের আদিবাসীদের ওপর হামলা ও নিপীড়নের সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সক্রিয় হবে তারা।

লেখক: গবেষক ও লেখক

[email protected]

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত