ভলোদিমির জেলেনস্কি স্বীকার করেছেন, ইউক্রেনের বাসন্তী কাউন্টার অফেন্স ঠিকঠাক কাজ করছে না। কী ক্ষতি হলো সে কথা অবশ্য তিনি স্বীকার করলেন না। বিবিসির কাছে তিনি বলেছেন, ‘কাউন্টার-অফেনসিভ ইজ নট গোয়িং ওয়েল।’ যতটুকু অগ্রগতি ঘটবে বলে আশা করা হয়েছিল, অগ্রগতি ঘটছে তার চেয়ে অনেক অনেক কম। ফল কাক্সিক্ষত মাত্রার নয়।
এস্তোনিয়ার সাবেক গোয়েন্দাপ্রধানের মত অনুযায়ী রাশিয়ান ডিফেন্সেজ আর অ্যা চ্যালেঞ্জ ফর ইউক্রেন। কিয়েভ আশা করেছিল তারা প্রতিপক্ষকে দূর থেকেই কাবু করে দেবে। সাবেক এস্তোনীয় গোয়েন্দাপ্রধান রাইনার সাকস বলেছেন, ইউক্রেনের প্রারম্ভিক হামলাই ব্যর্থ হয়েছে।
ইউক্রেন দক্ষিণের ফ্রন্টলাইনের তিন জায়গায় রাশিয়ার প্রতিরক্ষা ব্যুহ ভেদ করতে চেয়েছিল। গত দেড় মাসের প্রতি-আক্রমণে তারা কয়েকটা গ্রাম দখল করতে পেরেছে বটে, কিন্তু তা হয়েছে রাশিয়ার কৌশলগত পশ্চাদপসরণের ফলে। মূল প্রতিরক্ষা লাইন তারা অতিক্রম করতে পারেনি। এস্তোনিয়ার ফরেন ইন্টেলিজেন্স সার্ভিসের সাবেক প্রধান বলেন, এ ধরনের হামলায় উল্লেখযোগ্য ফল আশা করা যায় না।
অভিযানের মধ্যেই ইউক্রেনের ট্যাঙ্ক ক্রুরা তাদের ট্যাঙ্ক খারাপ হয়ে যাওয়ার ভান করেছে। এ চালাকির কারণ রুশ মিট গ্রিন্ডারের মধ্যে পড়তে তারা নারাজ। খবরটি পেয়েছে জার্মান পত্রিকা ডার স্পাইজেল। জার্মানির দেওয়া লেপার্ড ট্যাঙ্কের ইউক্রেনী ক্রুরা বলেছে, ‘ডজিং অ্যান এনগেজমেন্ট অলটুগেদার ওয়াজ বেটার দ্যান এন্টারিং কমব্যাট ওনলি টু পুল আউট আফটার দ্য ফার্স্ট শট।’ হামলায় অংশ নিলে সঙ্গে সঙ্গে ভস্ম হয়ে যেতে হবে। জাপরোঝিয়ায় ইউক্রেনী কাউন্টার অফেনসিভে অংশগ্রহণকারী ওই ভেটেরানরা ইউক্রেনে সামরিক অভিযানে সমৃদ্ধ। তারা জার্মানিতে লেপার্ড ট্যাঙ্ক চালনায় পাঁচ সপ্তাহের প্রশিক্ষণ নিয়েছে। প্রসঙ্গত, জুনের ৪ তারিখে ইউক্রেন কাউন্টার অফেনসিভ শুরু করে।
এ ফাঁকে রাশিয়ায় ঘটে গেছে আজব, অভিনব এক অভ্যুত্থান। সশস্ত্র বিদ্রোহ প্রচেষ্টা যাকে বলা যায়। ২৩ ও ২৪ জুন বিদ্রোহটি করেছে ভাগনার প্রাইভেট মিলিটারি কোম্পানি। কোম্পানিটি রাশিয়ারই। লিবিয়ায় এবং আফিকায় তারা বেশ নাম কুড়িয়েছে। ইউক্রেনেও তাদের বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে, বিশেষ করে বাখমুতে (তথা আর্চেমভস্কে)। তারা আর্চেমভস্ক দখলে নিয়ামক ভূমিকা পালন করেছে। আর্চেমভস্ক যুদ্ধ নিয়ে রুশ সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্তকর্তাদের সঙ্গে ভাগনারের সেনাদের বাদানুবাদও হয়েছে। কোম্পানিটির প্রধান ইয়েভগেনি প্রিগোজিন। ভাগনার পিএমসির প্রিগোজিন-অনুসারী কিছু ইউনিট এ বিদ্রোহে অংশ নেয়। তারা রস্তভ-অন-দনে সাউদার্ন মিলিটারি ডিস্ট্রিক্টের সদর দপ্তর দখল করে নেয়, ভরোনেজ শহরে হামলা চালায় এবং মস্কোর দিকে রওনা দেয়। বাহিনীর সাফল্যে মুগ্ধ প্রিগোজিন রুশ নাগরিকদের এবং রুশ বাহিনীর অন্যান্য ইউনিটকেও বিদ্রোহে শামিল হওয়ার আহ্বান জানান।
শেষ পর্যন্ত প্রিগোজিন দেখলেন, আর কেউ তার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে না। অতঃপর বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকসান্দর লুকাশেঙ্কোর দূতিয়ালিতে ভাগনার বিদ্রোহের গর্ভপাত তথা অ্যাবরশন হয়। তার আগেই এফএসবি অবশ্য একটা বিশ^াসঘাতকতার মামলা করেছিল। এফএসবি এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে প্রিগোজিনের অনুসারীদের টুকটাক যুদ্ধও হয়েছে। এফএসবির মামলায় প্রিগোজিনের ২০ বছর পর্যন্ত সাজা হতে পারত, তবে হয়নি।
বেলারুশের প্রেসিডেন্টের দূতিয়ালিতে কথিত ভাগনার বিদ্রোহের অবসান হয়েছে। বিদ্রোহীদের বিচার হচ্ছে না। প্রিগোজিন বেলারুশে যাবেন। প্রকৃত ঘটনা যদিও অন্যরকম। সলেদার, আর্চেমভস্ক (বা বাখমুত) দখলে ভাগনার পিএমসির ভূমিকা রুশরা মনে রেখেছে এবং পুতিনও মনে রেখেছেন। রাশিয়া দুর্বল হবে, গাড্ডায় পড়বে সম্মিলিত পাশ্চাত্য ও ন্যাটোর স্বপ্নটা স্বপ্নই থেকে গেল। কাউন্টার অফেনসিভে ইউক্রেন সুবিধা করতে পারছে না। অভিযানের এক মাস পার হয়ে গেছে যদিও। ভাগনার পিএমসির বিদ্রোহ না ইউক্রেনকে না ন্যাটোকে না মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে কোনো সুবিধা এনে দিতে পারল। ইট ওয়াজ অ্যান অ্যাবরটেড ক্যু। প্রিগোজিনের বিদ্রোহের পর মিডিয়ায় অনেক কথা হয়েছে এবং হচ্ছে। প্রেস্টিটিউট বলছে, রাশিয়া দুর্বল হয়ে গেছে। আর বিকল্প ভাষ্য হচ্ছে, রাশিয়া একান্নব্বইয়ের দশার চেয়ে আরও সংহত হয়েছে। প্রিগোজিনের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তার বিলাসিতার ও সম্পদের খোঁজ নিচ্ছে রুশ মিডিয়া।
জেলেনস্কির প্রাক্তন সহযোগীরা কাউন্টার অফেনসিভের ব্যর্থতার জন্য দায়ী করছে পাশ্চাত্যকে। তারা বলছে ইউক্রেনের পশ্চিমা মদদদাতারা রসদ সরবরাহে খুবই ধীরগতির। এই সমালোচকদের একজন হলেন ভলোদিমির জেলেনস্কির সাবেক উপদেষ্টা আলেক্সি আরেস্তোভিচ। তিনি বলেছেন, মদদদাতারা সঠিক সময়ে সঠিক সমরাস্ত্র সরবরাহ করতে পারেনি। ফিন্যান্সিয়াল টাইমস বলেছে, কাউন্টার অফেনসিভে ইউক্রেন কোনো অগ্রগতি ঘটাতে পারছে না বলে পাশ্চাত্যের সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
প্রত্যাশিত এফ-১৬ও ইউক্রেনকে দেওয়া হয়নি। কখনো দেওয়া হবে বলে মনে হয় না। মার্কিন সশস্ত্র বাহিনী প্রধান মার্ক মিলির বক্তব্যেও আরেস্তোভিচ অসন্তোষ প্রকাশ করেন। মিলি বলেছেন, ইউক্রেনের কাউন্টার অফেনসিভে প্রচুর সৈন্য ক্ষয় হবে এবং কাউন্টার অফেনসিভের গতি কাক্সিক্ষত মাত্রার হবে না। আরেস্তোভিচ বলেন, প্রয়োজনীয় সমরাস্ত্রের জোগান কোথায়? জেলেনস্কির জ্যেষ্ঠ সহযোগী মিখাইল পদোলিয়কও প্রায় একই কথা বলেছেন। বলেছেন, পাশ্চাত্যের ঢিলেমির সুযোগেই রাশিয়া অপ্রতিরোধ্য প্রতিরোধী ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে। এখন ইউক্রেনে ক্লাস্টার মিউনিশান পাঠবে বলেছে যুক্তরাষ্ট্র। কানাডা ও যুক্তরাজ্য জাতিসংঘ প্রটোকলের দোহাই দিয়ে তাতে আপত্তি জানিয়েছে। যাক, এ ক্ষেত্রে তারা আপত্তিটা করতে পারল। অবশ্য তাতে রাশিয়ার বিশেষ সামরিক অভিযানের গতি কমবে না, ইউক্রেনের সেনাদের নিহত হওয়ায় বন্ধ হবে না। অফেনসিভে ইউক্রেনের ২৬ হাজারের বেশি সৈন্য নিহত হয়েছে। মোদ্দা কথা, ইউক্রেনের কাউন্টার অফেনসিভে কোনো ফায়দা হওয়ার সম্ভাবনা নিকট ভবিষ্যতে নেই।
কাউন্টার অফেনসিভে সেটাই ঘটতে যাচ্ছে যেমনটা বলেছেন জুলিয়ান ম্যাকফারলেন, ‘ইউক্রেন ইজ মাউন্টিং শ্রোডিংগারস অফেনসিভ। ইফ ইট সাকসিডস, ইট হ্যাজ অলরেডি স্টারটেড। ইফ ইট ফেইলস দেন ইট হ্যাজেন্ট ইভেন বিগান। ইউক্রেনের কাউন্টার অফেনসিভ একটা কোয়ান্টাম যুদ্ধ। কাউন্টার অফেনসিভ শুরু হয়েছে ৪ জুন। আর ৬ জুন কাখভকা বাঁধ উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এ খবরটা কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র আগে থেকে জানতে পারেনি (বলা ভালো, জানতে চায়নি)। তারা বলেছে, রাশিয়াই কর্মটি করেছে। অল্টারনেটিভ মিডিয়া-বিশ^ যদিও বলছে, এ কাজ ইউক্রেনের।
ইউক্রেন এ কাজ করতে পারে বলে দিনিয়েপার নদীর যার ওপরে কাখভকা বাঁধ, পশ্চিম পার থেকে সেনা সরিয়ে নিয়েছিল রাশিয়া। এ আলোচনা বহুদিনের। ইউক্রেন জাপরোঝিয়ার পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টাও করছে বছরখানেক ধরে, কিন্তু পারছে না সামর্থ্য নেই বলে। বাঁধ ধসের পর ইউক্রেনে নানা পরিবেশগত ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। সৃষ্ট বন্যায় ৩৭ জন মারা গেছে। ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে প্রচুর। দিনিয়েপার নদীর দুই পাড়ের বিশাল এলাকা প্লাবিত হয়। অসংখ্য ঘরবাড়ি তলিয়ে যায়। বহু মানুষ অঞ্চলটি ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়। কাখভকা বাঁধ নির্মিত হয়েছিল সোভিয়েত আমলে। বাঁধের কারণে তৈরি হয় বিশাল জলাধার, যেটিকে স্থানীয়রা কাখভকা সাগর বলে। জলাধারের পানি বিদ্যুৎ উৎপাদনে কাজে লাগত। যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর সিকিউরিটি পলিসির জ্যেষ্ঠ ফেলো স্টিফেন ব্রায়েন মনে করেন, রুশরা যদি কাখভকা বাঁধ উড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করত, তাহলে তাদের নৌকায় করে কয়েক টন বিস্ফোরক সেখানে নিয়ে যেতে হতো। এরপর বাঁধে জুড়ে দিয়ে বিস্ফোরণ ঘটাতে হতো। কিন্তু ইউক্রেন সরকার বাঁধ ধসের যে ভিডিও প্রকাশ করেছে তাতে মনে হয়, বিস্ফোরণ পানির ওপরে হয়নি, নিচে হয়েছে।
ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ইউরোপের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র জাপরোঝিয়া এনপিপিতে শীতল পানি কাখভকা জলাধার থেকেই সরবরাহ করা হতো। ইউক্রেনের দক্ষিণ ও ক্রিমিয়ার উত্তরাঞ্চলে কৃষিকাজের পানিও সেখান থেকে যেত। ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, ভেতরের কেউ ধসানোর কাজটি করেছে। রুশদের কথাই তিনি বলেছেন। সম্ভবত তিনি ১৯৪১ সালে ইউক্রেন হয়ে জার্মানরা যখন এগোচ্ছিল তখন তাদের থামাতে এই নদীতে নির্মাণ করা সে সময়ের বিশ্বের তৃতীয় বৃহৎ বাঁধে স্তালিনের বাহিনীর বোমা হামলার কথাই স্মরণ করাতে চাইছেন। কাখভকা বাঁধ ধসিয়ে রুশদের কী অর্জন হবে তা খুব পরিষ্কার নয়। কাখভকা বাঁধ ধসানোর ঘটনাকে যুদ্ধাপরাধ গণ্য করা চলে। গোটা এলাকা শুধু ডুবেইনি, সৃষ্ট বন্যায় মিঠা পানির উৎস ও কৃষ্ণসাগর অববাহিকা দূষণের ঝুঁকিতে পড়েছে। পানিবাহিত রোগ ছড়ানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। জলাধারের দূষিত পানি ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলের কৃষিজমিকেও হুমকিতে ফেলেছে। এমনিতেই গত বছরের গোড়ার দিকে যুদ্ধ শুরুর পর ইউক্রেনের বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা কমেছে। কাখভকা জলবিদ্যুৎকেন্দ্র ধসের কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ওই অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ আরও ব্যাহত হয়েছে।
ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জাপরোঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে বিজ্ঞানীরা উদ্বিগ্ন। এর রিঅ্যাক্টরে তাপমাত্রার পার্থক্য খুব বেশি হলে ভয়ংকর বিপর্যয় ঘটতে পারে। অবশ্য ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটমিক এনার্জি এজেন্সি বলেছে, জাপরোঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র তাৎক্ষণিক হুমকির মধ্যে নেই, কারণ রিঅ্যাক্টর শীতল করার জন্য বিকল্প জলাধার আছে। বন্যায় দিনিয়েপার নদীর দুই পাড়ের প্রায় ৪২ হাজার মানুষ ঝুঁকিতে পড়ে। নদীর বাম পাড় ইউক্রেনের দখলে আর ডান পাড় রুশদের দখলে। এক লাখ ১০ হাজার মানুষের জীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। জীবজন্তুর ওপরও বাঁধ ধসের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে এবং আগামীতে আরও পড়বে। বন্যার ঢলে নদীর ডান তীরের কাজকোভা-দিব্রোভা চিড়িয়াখানার প্রায় ৩০০ প্রাণী মারা গেছে। বড় ধরনের প্রভাব পড়বে কাখভকা জলাধারের মাছের ওপর। তাদের প্রজননক্ষেত্র ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। জলাধারের ছোট ছোট উদ্ভিদ ও প্রাণীর বাসস্থান সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। পানির উচ্চতা বাড়বে বলে লবণাক্ততা বাড়বে; গাছপালার বৃদ্ধি ব্যাহত হবে।
বন্যার পানিতে শিল্প-কারখানা, গ্যাস স্টেশন ও ড্রেন থেকে বিপুল পরিমাণে দূষণকারী উপাদান মিঠা পানিতে মিশবে। প্রায় ১০ লাখ মানুষ বিশুদ্ধ পানি থেকে বঞ্চিত। কাখভকা জলাধারের দূষিত পানি কৃষ্ণসাগরে গিয়ে পড়বে। তাতে সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বাঁধ ধসের পর খেরসনের ৯৪ শতাংশ, জাপরোঝিয়ার ৭৪ শতাংশ ও নিপ্রোপেত্রভস্ক অঞ্চলের ৩০ শতাংশ জমিতে সেচের পানি নেই। আগামী বছরের শুরুতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষিজমি মরুভূমিতে পরিণত হতে পারে। জমিতে লবণাক্ততা বাড়বে, সামনের বছরগুলোতে কৃষিকাজের অনুপযুক্ত হয়ে পড়তে পারে। গম ও ভুট্টার উৎপাদন মারাত্মক ব্যাহত হতে পারে। বড় বিপদে পড়তে পারে উন্নয়নশীল দেশগুলো। বৈশি^ক খাদ্য নিরাপত্তায় ব্যাঘাত ঘটবে।
খ্রিস্টের জন্মের তিন হাজার তিনশ বছর আগের সিন্ধু সভ্যতা পুরাণের বিবরণ অনুযায়ী ধ্বংস হয়েছিল দেবতা ইন্দ্রের কারণে। কথিত আছে, বৃত্র নামের এক অসুর সিন্ধু সভ্যতার রক্ষক ছিল। ইন্দ্র বৃত্রকে হত্যা করেছিল। সিন্ধু তীরের শহর ও পাশর্^বর্তী এলাকাকে রক্ষার জন্য ছিল একটি বাঁধ। ওই বাঁধই বৃত্র। আর্যরা সবকিছুর পেছনেই একজন অসুরকে দেখতে পেত। ইন্দ্রের উপর্যুপরি হামলায় বাঁধ ভেঙে গিয়েছিল। তারই বিবরণ বৃত্র সংহার উপাখ্যান। ইউক্রেনেও নব্য আর্যরা সক্রিয়। কাখভকা বাঁধ ধসিয়ে তারা নয়া বৃত্র সংহার উপাখ্যান রচনা করল।
লেখক: সাংবাদিক