আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক যোগযোগ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে জনগণের মন ভোলানো যাবে না, জনগণ বুঝে গেছে আপনারা বিছানা-বালিশ নিয়ে শুয়ে পড়েছেন, আর দাঁড়াতে পারবেন না। তিনি বলেন, ‘১৫ আগস্টের মাস্টারমাইন্ড ছিলেন সেনাপতি জিয়াউর রহমান, এখন বাংলাদেশের মহাদুর্যোগের নাম বিএনপি।’
গতকাল শনিবার দুপুরে কুমিল্লার টাউনহল মাঠে মহানগর আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তৃতায় ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বিশ্বনেতা, বাংলাদেশকে তিনি বিশ্বদরবারে মাথা তুলে দাঁড় করিয়েছেন, অর্থনৈতিক মুক্তি দিয়েছেন, উন্নয়নশীল দেশে পরিণত করেছেন, এখন তারা ষড়যন্ত্র করে পরিবেশ নষ্ট করতে চায়।
ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ। খেলা হবে। রাজপথে খেলা হবে। অপশক্তির বিরুদ্ধে খেলা হবে। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মহাদুর্যোগের নাম বিএনপি। এই দুর্যোগের হাত থেকে দেশকে বাঁচাতে আপনারা ঐক্যবদ্ধ থাকবেন। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা কোনো দিন হারেননি, যদি শেখ হাসিনা হেরে যান, তাহলে আপনারা হেরে যাবেন।’
লন্ডনে থাকা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এ দেশ থেকে মুচলেকা দিয়ে চলে গেছে, তাকে এখন হিরো সাজানোর চেষ্টা চলছে। কোনো লাভ নেই।’
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলকে উদ্দেশ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘রংপুরে বালিশ নিয়ে গেছেন, বরিশালে হাঁড়ি-পাতিল নিয়ে গেছেন। বিছানা-বালিশ নিয়ে মঞ্চের সামনে শুয়ে পড়েছেন। আর দাঁড়াতে পারবেন না।’
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় থাকাকালে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের মাফ করেছেন উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘তিনি কেন এমনটি করলেন, এই প্রশ্নের উত্তর বিএনপি দিতে পারবে না। শেখ হাসিনার ওপর হামলা হয়েছে। তিনি সবার দোয়ায় আল্লাহর রহমতে বেঁচে আছেন। এই বিএনপিকে আমরা কখনোই ক্ষমা করব না।’
আওয়ামী লীগের পক্ষে গণজোয়ার তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আজ কুমিল্লার সুশৃঙ্খল সম্মেলন প্রমাণ করেছে, আওয়ামী লীগের গণজোয়ার শুরু হয়েছে। এ ধারা অব্যাহত থাকবে।’
এর আগে বেলা ১১টায় জাতীয় ও দলীয় পতাকা, বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে অতিথিদের নিয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন ওবায়দুল কাদের। সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি, কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার। প্রধান বক্তা ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, বিশেষ বক্তা ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাইদ আল মাহমুদ স্বপন। বক্তব্য দেন দলের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী মো. আবদুস সবুর, কুমিল্লা ৭ আসনের সংসদ সদস্য ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত। স্বাগত বক্তব্য দেন কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরফানুল হক রিফাত, জেলা ও মহানগরের নেতারা। সম্মেলনে প্রায় ৬ হাজার কাউন্সিলর ও ডেলিগেট উপস্থিত ছিলেন। সম্মেলন ঘিরে একপর্যায়ে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী টাউনহল মাঠের বাইরের সড়কে অবস্থান নেন।
আবারও সভাপতি বাহার, সাধারণ সম্পাদক রিফাত : কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে পুনরায় সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার ও সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন আরফানুল হক রিফাত। সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। এই অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম।
‘এখন ছাড় দিচ্ছি, ডিসেম্বরে ছাড়ব না’: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘এখন ছাড় দিচ্ছি। ডিসেম্বরে ছেড়ে দেব না। ডিসেম্বরে ছাড়ব না। এই রাজপথ মুক্তিযুদ্ধের মাসে বিএনপি থাকবে না। এই রাজপথ আওয়ামী লীগের, মুক্তিযুদ্ধের রাজপথ, বিজয়ের মাসের রাজপথ, বিজয়ের চেতনার রাজপথ।’ গতকাল শনিবার বাড্ডা ইউলুপে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ আয়োজিত শান্তি মিছিল-পূর্ব সমাবেশে বিএনপিকে উদ্দেশ করে এসব কথা বলেন তিনি।
বিএনপিকে অপেক্ষা করার অনুরোধ জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সামনে ডিসেম্বর মাস। আপনারা নাকি ওই মাসে আমাদের হটিয়ে, শেখ হাসিনাকে হটিয়ে, খালেদা জিয়াকে নিয়ে খোমনি স্টাইলে বিপ্লব করবেন ঢাকার রাজপথে। জনতার শক্তির সামনে এই রঙিন খোয়াব কর্পূরের মতো উবে যাবে।’
ডিসেম্বরে খেলা হবে উল্লেখ করে বিএনপির উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচন ছাড়া ক্ষমতায় যাওয়ার চিন্তা ভুলে যান। নির্বাচন করে আসতে হবে। তত্ত্বাবধায়কের ভূত মাথা থেকে নামান। এটি সর্বোচ্চ আদালত নিষিদ্ধ করে দিয়েছে। আমাদের কোনো দোষ নেই। তত্ত্বাবধায়ক আর আসবে না। ওইটা জাদুঘরে চলে গেছে।’
ঢাকার শান্তি সমাবেশে বিশাল জনস্রোত হয়েছে দাবি করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এখানে এসে বরিশালের কথা ভাবছি।’ বিএনপি টাকাপয়সা দিয়ে কয়েক দিন আগে থেকেই লোক জমায়েত করেছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘ফখরুল সাহেব ছয় জেলার লোক টাকাপয়সা দিয়ে দুই-চার দিন আগে থেকে বরিশালে জমায়েত করেছেন। আর এখানে ছয় থানার লোক। বরিশালের চেয়েও দ্বিগুণ লোক এখানে।’
