স্বপ্নিল অতীত ধূসর ভবিষ্যৎ

আপডেট : ০৯ মার্চ ২০২৩, ০২:৩৩ এএম

শীতের ছুটি শেষে আফগানিস্তানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পুনরায় খুলেছে। কিন্তু ক্ষমতাসীন তালেবানের নিষেধাজ্ঞার কারণে ক্লাসে ফিরতে পারছেন না নারী শিক্ষার্থীরা। ফেলে আসা খুশি ও আশায় পূর্ণ সময়ের কথা মনে করে এখন তারা শুধু কাঁদেন। নারী শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে নিষিদ্ধ করা পুরুষ শিক্ষার্থীদের জন্যও ভয়ংকর কষ্ট বয়ে নিয়ে এসেছে। শ্রেণিকক্ষ তাদের কাছে এখন শোকসভার মতো মনে হয়।

বিবিসি বলছে, ২০২১ সালে পুনরায় আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করে তালেবান। তখন থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নারী ও পুরুষ শিক্ষার্থীদের ক্লাসে আলাদা বসার নিয়ম জারি হয়। আর গত বছরের শেষদিকে তালেবান প্রশাসনের উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীদের প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। শুধু উচ্চশিক্ষার অধিকারই নয় বরং তালেবান পুনরায় ক্ষমতায় এসে সে দেশের নারীদের কাজ করার অধিকারসহ আরও অনেক অধিকার কেড়ে নিয়েছে। আফগানিস্তানে মেয়েদের মাধ্যমিক স্কুলগুলো আরও আগেই বন্ধ করে দেয় তালেবান। নারীদের নিষিদ্ধ করা হয়েছে এনজিওসহ অনেক বেসরকারি কাজেও।

যদিও তালেবান প্রশাসনের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা অবশ্য দাবি করেছেন, এ ব্যবস্থা অস্থায়ী। তাদের কেউ কেউ কারণ ব্যাখ্যায় কঠোর পোশাক বিধি, তহবিলের অভাব বা ইসলামিক ধারায় পাঠ্যক্রম ঠিক করাসহ অনেক রকম কথাই বলছেন।

অবশ্য দেশটির বাস্তবতা নিয়ে কম্পিউটার সায়েন্সের চতুর্থ বর্ষের এক নারী শিক্ষার্থী দুঃখ ও ক্ষোভ নিয়ে বিবিসিকে বলেন, ‘এখন আমি আর কেউ না। আমার পরিকল্পনা ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া শেষ করে আমি আমার মাস্টার্স করব, তারপর পিএইচডি। আমি আমার দেশ, জাতি ও মানুষের জন্য কাজ করতে চেয়েছিলাম। আমি এখন আর সেটা করতে পারব না।’

অথচ মাত্র কয়েক মাস আগে তিনি এবং তার বন্ধুরা মিলে কীভাবে গ্র্যাজুয়েশনের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করবেন তা নিয়ে আলোচনা করেছেন। এমন বেশ কয়েকজন নারী শিক্ষার্থী বিবিসিকে জানিয়েছেন, ফেলে আসা খুশি ও আশায় পূর্ণ সময়ের কথা মনে করে এখন তারা শুধু কাঁদেন। আবার অনেকের নেই সেই স্মৃতিও। হেরাতের বাসিন্দা ১৯ বছর বয়সী আতেফা কম্পিউটার সায়েন্সের শিক্ষার্থী ছিলেন। কিন্তু তার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের কোনো স্মৃতিও নেই, যেটা তিনি এখন মনে করবেন। কারণ, তিনি মাত্রই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে একজন ওয়েবসাইট ডেভেলপার হওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন। কিন্তু তখনই তার স্বপ্নে বড় ধাক্কা আসে তালেবান সরকারের পক্ষ থেকে। আতেফা বলেন, ‘আমি এবং আমার বন্ধুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে কঠোর পরিশ্রম করেছি। কিন্তু আমার স্বপ্ন সত্যি করা গেল না... এটা তার আগেই শেষ হয়ে গেল।’

কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের একজন নারী শিক্ষার্থী বিবিসিকে বলেন, যদি তারা (তালেবান) আমাদের হিজাব পরতে বলে তবে আমরা খুশি মনেই তা মেনে নেব। যদি আমাদের আলাদা ক্লাস করতে বলা হয়, আমরা খুশি মনে সেটাও মেনে নেব। শুধু আমাদের শিক্ষাগ্রহণের সুযোগ দিন। আফগানিস্তানে এখন মেয়েরা শুধু প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে। পারওয়ান প্রদেশের এক তরুণ বলেন, শুধু পুরুষদের নিয়ে আপনি আমাদের দেশ গড়তে পারবেন না। নারীদেরও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করা প্রয়োজন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত