সংলাপে বক্তারা

গৃহকর্মে শিশু সুরক্ষিত নয়

আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০২:১৯ এএম

গৃহকর্মে নিয়োজিত শিশু আজ সুরক্ষিত নয়। মানা হচ্ছে না গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণনীতি। এতে করে বেড়ে যাচ্ছে গৃহকর্মে নিয়োজিত শিশু নির্যাতন। গতকাল সোমবার সকালে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা অ্যাকশন ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট (এএসডি) এর প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত ‘গৃহকর্মে শিশু : কতটা সুরক্ষিত’ শীর্ষক সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে দুজন গৃহকর্মে নিয়োজিত শিশু জান্নাত ও মিশু তাদের জীবনের কথা তুলে ধরে। গৃহকর্মী কল্যাণ ও সুরক্ষা নীতিমালা সঠিকভাবে পালন করা এবং গৃহকর্মে নিয়োজিত শিশুদের বাবা-মাকে ভাতা প্রদান করা যায় কি না, সে বিষয়ে দাবি তোলা হয়।

 সংলাপে শ্রম অধিদপ্তরের পরিচালক বেল্লাল হোসেন শেখ বলেন, ‘গৃহকর্মে নিয়োজিত শিশুদের শ্রম বন্ধে সবার মানসিকতা ও দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন দরকার। সব মন্ত্রণালয়ের মধ্যে আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করলে সব কার্যক্রম সহজভাবে করা যাবে। গৃহকর্মী কল্যাণ ও সুরক্ষা নীতিমালা হালনাগাদের বিষয়ে শ্রম মন্ত্রণালয় কাজ করছে। আর আমাদের সম্মিলিতভাবে ২০২৫ সালের মধ্যে শিশুশ্রম বন্ধে কাজ করতে হবে। শক্ত আইন প্রণয়ন ও সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে আমাদের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়া জরুরি।’

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার ন্যাশনাল প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর সৈয়দা মুনীরা সুলতানা বলেন, ‘গৃহকর্মে নিয়োজিত শিশুদের শ্রমিক হিসেবে কাজ করানো শুধুমাত্র দরিদ্রতা বা অশিক্ষার অজুহাত নয়, আসলে মানসিকতা। তাই আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন করা প্রয়োজন। প্যারেন্টিং স্কিল বাড়াতে হবে। পলিসি ও অ্যাডভোকেসিতে সাধ ও সাধ্যের বিষয়গুলোর মানচিত্র নিরূপণ করতে হবে। সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়গুলো ভাবনার মধ্যে আনতে হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে, যেন কোনো শিশু ১৪ বছরের আগে কাজে না যুক্ত হয় এবং পড়ালেখার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকে।’

বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক নাসের ইকবাল যাদু বলেন, ‘পরিবারকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে পারলেই শিশুরা গৃহকর্মে নিযুক্ত হবে না। শিশুদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন কমে যাবে।’

সংলাপে আলোচক হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন এএসডি’র কার্যনির্বাহী সদস্য ইমতিয়াজ রসুল, জেলা মহিলা বিষয়ক কার্যালয়ের কর্মসূচি কর্মকর্তা নাজনীন আক্তার, সমাজসেবা কর্মকর্তা কে এম শহীদুজ্জামান, এসওএস শিশুপল্লীর পরিচালক এ. কে. এম আজিজুর রহমান, ঢাকা আহছানিয়া মিশনের প্রকল্প কর্মকর্তা মো. আল-আমিন প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত