এজেন্ট একতারার, চা-নাশতা ও পারিশ্রমিক দিচ্ছে আ. লীগ

আপডেট : ১৭ জুলাই ২০২৩, ০২:২১ পিএম

ঢাকা-১৭ আসনের উপনির্বাচনে ভোটারদের চেহারায় নেই কোনো আনন্দ। নৌকার ব্যাজ লাগানো লোকজন ছাড়া আর কোনো ভোটার দেখে বোঝার উপায় নেই তারা কাকে ভোট দিবেন।

এই উপনির্বাচনে প্রায় সব কেন্দ্রেই কমবেশি নৌকার নেতাকর্মী সমর্থকের উপস্থিতি দেখা গেলেও লাঙ্গল, একতারার কোনো কর্মী সমর্থক দেখা যাচ্ছে না। ভোটার উপস্থিতি যেমন কম চোখে পড়ছে, নৌকা ছাড়া অন্য প্রতীকের প্রার্থীর কর্মী সমর্থকের চিত্রও একই।

মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, টিএন্ডটি আদর্শ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, মহাখালী, ভাষানটেক সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি কালাচাঁদপুর হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রগুলো ঘুরে ভোট দিতে আসা নারী ও পুরুষ ভোটার কাউকে দেখে বোঝা যাচ্ছে না কোন প্রার্থীকে ভোট দেবেন তারা। মুখেও কেউ স্বীকার করছেন না।

তবে নৌকার ভোটারদের চেনা-বোঝা যাচ্ছে তারা কাকে ভোট দিতে কেন্দ্রমুখী হয়েছেন। তাদের বুকে নৌকার ব্যাজই তা প্রমাণ করছে। বেলা ১টা পর্যন্ত এসব কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি ভোটযুদ্ধে নামা প্রার্থীদের হতাশ করেছে। তবে দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত ভোটার উপস্থিতি বাড়বে বলে আশা করছেন প্রার্থী ও সমর্থকরা।

বনানী বিদ্যানিকেতন ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে আসা হেদায়েত হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ভোট দিতে এসেছি। কাকে ভোট দিব এখনো মনস্থির করিনি। মধ্য বয়স্ক এই ভোটার বলেন, ভোট কাকে দিব সেটা গোপন থাকাই ভালো।

টিএন্ডটি আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভোট দিতে আসা নুরুল হক বলেন, ছয় মাসের জন্য সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবেন। একজন হলেই হয়। ভোট দিমু কমু না বলেন তিনি। চেহারা দেখে বোঝার উপায় নেই কাকে ভোট দিবেন তিনি।

এসব কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায় নৌকার প্রার্থী মোহাম্মদ এ আরাফাতকে অনেকে চিনলেও একতারার প্রার্থী আশরাফুল হোসেন আলমকে (হিরো আলম) অনেক ভোটারই চেনেন না। কেন্দ্রগুলো একতারার এজেন্ট যারা আছেন তারাও প্রার্থী চিনেন না। পাড়া-মহল্লার ভাই বন্ধুদের অনুরোধে মূলত এজেন্ট হয়েছেন তারা।

হিরো আলমের অনেক এজেন্টকে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্র ছেড়ে চলে যেতে দেখা গেছে। যেসব কেন্দ্রে সকালে ঘুরে এজেন্ট পাওয়া গেছে, দেড়টা বাজার পরে সেসব কেন্দ্রের এজেন্ট আর পাওয়া যায়নি। ভোট কক্ষে থাকা অন্য দলের এজেন্টদের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, বাইরে গেছে, খেতে গেছে বা টয়লেটে গেছে। অপেক্ষা করেও তাদের ভোট কক্ষে আসতে দেখা যায়নি।

সব ভোট কেন্দ্রে নৌকার এজেন্ট পাওয়া গেলেও অনেক কেন্দ্রে লাঙ্গলের এজেন্ট পাওয়া যায়নি। গোলাপ ফুলের এজেন্টও ছিল না অনেক কেন্দ্রে।
এদিকে এজেন্ট একতারার হলেও খাওয়া-দাওয়া ও পারিশ্রমিক পাচ্ছেন আওয়ামী লীগ নেতাদের কাছ থেকে জানিয়েছেন একতারার এজেন্টরা। কেন্দ্রঘুরে ও বিভিন্ন পর্যায়ে কথা বলে উঠে এসেছে একতারা জিতুক এমন প্রত্যাশা নেই এজেন্টদেরও।

বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ৭২ নং কেন্দ্রের ১ নং মহিলা বুথে একতারার এজেন্ট জাহানারা বেগম বলেন, আমি একতারার এজেন্ট। কিন্তু একতারা জিতুক চাই না। আমি প্রার্থীকে চিনি না। জানিও না। পাড়ার এক নেতা একতারার এজেন্ট হতে বলেছেন। তাই এজেন্ট হয়েছি। আমি ভোটারও চিনি না। আমি যতটুকু জানি পাড়ার ওই নেতা আওয়ামী লীগ করে। আমার পারিশ্রমিকও তিনি দেবেন। নাশতা পানিও তারাই খাওয়াচ্ছেন।

একই কেন্দ্রের ২ নং ভোট কক্ষে একতারার এজেন্ট ইউনুস। তিনিও হিরো আলমকে চেনেন না। কিন্তু এজেন্ট হিরো আলমের। জানতে চাইলে এ এজেন্ট বলেন, আর কোনো কথা জানতে চায়েন না, প্লিজ এই বলেই মুখ লুকাতে থাকেন তিনি।

করেন আওয়ামী লীগ বা সহযোগী সংগঠন। কিন্তু এক তারার এজেন্ট হয়ে ভোট কক্ষে দায়িত্ব পালন করছেন। এমন এজেন্ট অন্য অনেক কেন্দ্রেও পাওয়া গেছে। তবে তারা পাড়া-মহল্লার বড় ভাইদের নির্দেশে দায়িত্ব পালন করছেন এমনটা জানিয়েছেন। এটাও জানিয়েছেন কয়েকজন, মনের বিরুদ্ধে এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে তাদেরকে।

কয়েকটি কেন্দ্রে গিয়ে একতারার এজেন্টের কাছে প্রার্থীর নাম জানতে চাইলে, প্রার্থীর বাড়ি কোথায় জানতে চাইলে জবাবে তারা বলেন, আমরা কি এত খবর রাখি! বড় ভাই বলেছে, রাজি হয়েছি। এর বাইরে আর কিছুই নয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত