গ্যাস, বিদ্যুৎ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বমূল্যের প্রতিবাদসহ ১০ দফা দাবিতে রাজধানী ঢাকা বাদে সারা দেশে ইউনিয়ন পর্যায়ে পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করবে বিএনপি। তবে সরকারবিরোধী সমমনা রাজনৈতিক দলগুলো রাজধানী ঢাকায় পদযাত্রা করবে। পদযাত্রায় বিএনপির কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতারা অংশ নেবেন।
বিএনপির পদযাত্রার পাল্টা হিসেবে একই দিন সারা দেশের ইউনিয়ন পর্যায়ে ‘বিএনপি-জামায়াতের নৈরাজ্য ও সহিংসতার প্রতিবাদে’ শান্তি সমাবেশের কর্মসূচি করবে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন পর্যায়ের ‘শান্তি সমাবেশ’ সফল করতে ইতিমধ্যে ৪০টি জেলায় ৫৩ জন কেন্দ্রীয় নেতাকে দায়িত্ব বণ্টন করে দেওয়া হয়েছে। আর যেসব জেলায় কেন্দ্রীয় নেতারা যাবেন না সেসব জেলার নেতাদের পাশাপাশি স্থানীয় সংসদ সদস্যদের অংশগ্রহণে ইউনিয়ন পর্যায়ে শান্তি সমাবেশ করতে বলা হয়েছে।
বিএনপির সাবেক এমপি, মন্ত্রীরা নিজ নিজ এলাকার ইউনিয়ন পদযাত্রা করবেন: দলের ইউনিয়ন পর্যায়ের পদযাত্রা সফল করতে কিছু জেলা ও বিভাগে জ্যেষ্ঠ নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন গতকাল সিলেট বিভাগের জেলাগুলোর নেতাদের নিয়ে প্রস্তুতি সভা করেছেন। বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি লক্ষ্মীপুরে জেলা নেতাদের নিয়ে প্রস্তুতি সভা করেছেন। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান নোয়াখালীতে পদযাত্রা করবেন।
শরিকরা যে যেখানে থাকবেন: যুগপৎ আন্দোলনের অংশ হিসেবে বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর ভাটারা থানাধীন বাঁশতলা ক্যামব্রিয়ান কলেজের সামনে থেকে পদযাত্রা বের করবে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) ঢাকা মহানগর উত্তর শাখা। পদযাত্রাটি নতুনবাজার (বাঁশতলা) থেকে শুরু হয়ে বাড্ডা লিংক রোড মোড়ে গিয়ে শেষ হবে। পদযাত্রায় নেতৃত্ব দেবেন এলডিপির যুগ্ম মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজি। গণতন্ত্র মঞ্চ বেলা সাড়ে ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে মতিঝিল শাপলা চত্বর পর্যন্ত ১৪ দফা দাবিতে প্রতিবাদী পদযাত্রা করবে। মোস্তফা মোহসিন মন্টুর নেতৃত্বাধীন গণফোরামের একাংশের নেতারা রাজধানী ঢাকায় পদযাত্রা করবেন না। তবে ঢাকার বাইরে তারা পদযাত্রা করবেন।
বিএনপির সরকারবিরোধী চলমান আন্দোলনের গতিপ্রকৃতি বিবেচনা করে তাদের মোকাবিলার ঘোষণা দিয়ে মাঠে নামছে আওয়ামী লীগ। বিএনপির সরকারবিরোধী আন্দোলনের আঁচ কোনোভাবেই ঢাকায় লাগতে দিতে চায় না আওয়ামী লীগ।
দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, যেকোনো মূল্যে ঢাকা শান্ত রাখা হবে। রাজধানী শহর ও আশপাশ এলাকায় বিএনপির অবস্থান দুর্বল করে রাখা ও তাদের কব্জায় নেওয়ার কোনো সুযোগ দেবে না আওয়ামী লীগ। এ জন্য সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে আওয়ামী লীগ ও সরকার। ঢাকা ‘মুক্ত’ রাখতে প্রশাসনিক তৎপরতা প্রয়োজন হলে আরও জোরদার করার কথাও ভাবছে ক্ষমতাসীনরা।
আওয়ামী লীগের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা দেশ রূপান্তরের কাছে দাবি করেন, বিএনপির লক্ষ্য আন্দোলন করে ঢাকা অচল করা।আওয়ামী লীগের লক্ষ্য যেকোনো মূল্যে ঢাকা শান্ত রাখা।
বিএনপির সরকারবিরোধী কর্মসূচি এবং আওয়ামী লীগের বিএনপি মোকাবিলা করার কর্মসূচির কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে সংঘাত-সংঘর্ষের আশঙ্কা থাকলেও সরকারি দলের নেতারা দাবি করেন, তা কেন হবে। দুটি রাজনৈতিক দলের একই দিনের কর্মসূচি ঘিরে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির অভিযোগ থাকলেও আওয়ামী লীগের নেতারা সে অভিযোগ মানতে চান না।