অতিরিক্ত ঘাম রোগের পূর্ব লক্ষণ

আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০২২, ১০:৪৪ পিএম

গরমের কারণে অনেকেরই ঘাম হচ্ছে। কারও হঠাৎ করেই বেশি ঘাম হচ্ছে। সাধারণ ব্যাপার ভেবে অবহেলা করা যাবে না। সাধারণত শরীরের ভেতরে একাধিক অসুবিধার কারণে এমন সমস্যা হয়। গরম পড়লে কিংবা পরিশ্রম করলে ঘাম হওয়াটা স্বাভাবিক। কিন্তু একই আবহাওয়া থাকা আপনার পাশের ব্যক্তির চেয়ে আপনি অনেক বেশি ঘামছেন। তাহলে চিন্তার কারণ। কারণ অতিরিক্ত ঘামের পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারে কোনো বিশেষ রোগের উপসর্গ। তাই অবহেলা না করে ঘামের সমস্যা থাকলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন। কেউ কেউ আছেন ছোট বয়স থেকেই ভীষণ ঘামেন। এতে খুব বেশি দুশ্চিন্তার কিছু নেই। তবে হঠাৎ করেই শরীরে ঘাম বেশি হতে শুরু করে। বেশি ঘেমে যাচ্ছেন বলে মনে করেন তাহলে অবশ্যই ঘাম হওয়ার পেছনে কারণ খুঁজে বের করতে হবে। জেনে রাখবেন অতিরিক্ত ঘাম শারীরিক অসুস্থতার পূর্ব লক্ষণ।

কারণ

সাধারণত শরীরের মেটাবলিজম রেটের ওপর ঘাম হওয়া নির্ভর করে। শরীরে মেটাবলিজম বেশি থাকলে বেশি ঘাম হয়। এ ছাড়া বেশি পরিশ্রম করলেও ঘাম হওয়া খুব স্বাভাবিক। হঠাৎ বেশি ঘাম হওয়া হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ। অনেক সময় হার্টের কোনো সমস্যা থাকলে রোগীর বেশি ঘাম হতে পারে। ডায়াবেটিসে রোগীর রক্তে শর্করা কমে গেলে ঘাম হয়। ব্লাডপ্রেশার হঠাৎ বেড়ে গেলেও রোগী বেশি ঘামতে শুরু করেন। অনেক সময় অতিরিক্ত উদ্বেগের কারণে ঘাম হয়। উদ্বেগে হরমোনের ভারসাম্য ব্যাহত হয়। তাই যারা মানসিক চাপে থাকেন তাদের বেশি ঘাম হতে পারে। মেনোপজের সময় অনেক নারীর বেশি ঘাম হতে দেখা যায়। রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বাড়লেও এমনটা হয়।

কখন যাবেন ডাক্তারের কাছে

অতিরিক্ত ঘামের কারণে শরীর যদি প্রচুর পরিমাণে চুলকায়। শরীরের তাপমাত্রা একশ ডিগ্রি থেকে বেড়ে যায়। পানিশূন্যতা অথবা অন্য কোনো অসুস্থতার লক্ষণ যদি আপনার শরীরে দেখা দেয়। যদি মাথা ঝিমঝিম করতে থাকে কিংবা বুঝতে পারেন অজ্ঞান হয়ে যাবেন। অতিরিক্ত মাত্রায় অস্বস্তিতে ভুগতে থাকেন। প্রসব-পরবর্তী ছয় সপ্তাহ পরেও যদি অতিরিক্ত ঘামানো বন্ধ না হয়। অতিরিক্ত ঘাম থেকে ঠান্ডা লাগতে পারে। তাই ঠান্ডা লাগা জটিল রোগ না হলে বিরক্তিকর। হাঁচি-কাশি বেড়ে যাওয়া, নাক বন্ধ হয়ে যায়, মাথাব্যথা হয়। রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম থাকলে ঠান্ডা সহজে ভালো হয় না। তা ছাড়া অতিরিক্ত ঘাম থেকে অ্যালার্জিজাতীয় সমস্যা হয় এবং ঠান্ডা লাগাও বাড়তে পারে।

প্রতিকার

ঘামের সঙ্গে যেহেতু সোডিয়াম, পটাশিয়াম বাই-কার্বোনেট বেরিয়ে যায়। ফলে শরীর দুর্বল ও অস্থির হয়ে যায়। তাই পানির সঙ্গে লবণ, চিনি, পাতিলেবু মিশিয়ে শরবত খেলে ভালো লাগবে। গরমে দইয়ের ঘোল ও ডাব খেতে পারেন। কোল্ড ড্রিংকসের পরিবর্তে ফ্রেশ ফলের জুস ও তাজা ফল খান। ভিটামিন বি-১২-এর অভাবে যেহেতু হাইপারহাইড্রোসিস হয় তাই বি-কমপ্লেক্সযুক্ত খাবার খান। পাশাপাশি থাইরয়েড হয়েছে কি না তা রক্ত পরীক্ষা করে দেখে নেওয়া উচিত। আয়োডিনযুক্ত খাবার যেমন অ্যাসপারাগাস, ব্রোকলি, রেড মিট, সাদা পেঁয়াজ, খাবার লবণ যতটা সম্ভব কম খাওয়া উচিত। চা-কফি কম খেতে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত