স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাক রোধ এবং ফিজিওথেরাপি

আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২:৩২ এএম

স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাক এখন আর বয়স্কদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, কম বয়সীদের মধ্যেও দেখা দিচ্ছে স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাক। বিশ্বে এই দুটিই মৃত্যুর প্রধান কারণ। স্ট্রোকের আগে বাহু দুর্বলতা, মুখ ঝুলে যাওয়া ও কথা বলার অসুবিধা দেখা দেয় আর হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রে বুকে অস্বস্তি ও ব্যথা, শরীরের ওপরের অংশে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, ঠান্ডাতেও ঘাম, বমি বমি ভাব ও মাথা ঘোরাসহ বিভিন্ন লক্ষণ প্রকাশ পায়। হৃদরোগ ও স্ট্রোকের প্রধান ঝুঁকির কারণগুলো হলো উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ নিম্ন-ঘনত্বের লাইপোপ্রোটিন (এলডিএল) কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিস, ধূমপান ও পরোক্ষ ধূমপান, স্থূলতা, অস্বাস্থ্যকর খাবার এবং শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা।

কেন হয়?

স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাক এর লক্ষণ বা প্রাথমিক উপসর্গ দেখা যায় না। ফলে আক্রান্ত রোগীকে সঠিক সময়ে চিকিৎসা না দেওয়া হলে মৃত্যু ঘটতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে সুস্থ মানুষরা এ দুটি রোগের লক্ষণ অবহেলা করেন কিংবা সাধারণ ভেবে এড়িয়ে যান। রোগীকে আর পরবর্তী সময়ে বাঁচানো যায় না।

প্রতিরোধে করণীয়

সামাজিক বিচ্ছিন্নতা ও একাকিত্বের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। পাশাপাশি সঠিক জীবনযাত্রার প্রতিও গভীর মনোযোগ দেওয়া জরুরি। হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ানোর জন্য আরও দায়ী হলো ভুল খাদ্যাভ্যাস, শরীরচর্চা না করা। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী, স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। নিয়মিত ব্যায়াম করা ও ধূমপান-অ্যালকোহল ত্যাগ করা। তাহলেই সুস্থ থাকা যাবে আর হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের ঝুঁকিও কমবে।

চিকিৎসা

স্ট্রোক পরবর্তী সমস্যাগুলো দূর করে সঠিক ফিজিওথেরাপি চিকিৎসাও। বিশেষজ্ঞ ফিজিওথেরাপি চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে নিয়মিত দিনে ৩ - ৪ বার ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা নিতে হবে ২-৬ মাস। স্ট্রোকের পর যত দ্রুত ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা শুরু করা যাবে, রোগীর কার্যক্ষমতা ফিরে আসার সম্ভাবনা তত বেশি থাকে। স্ট্রোকের প্রাথমিক অবস্থায় ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা : ১। শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখা; ২। সঠিক পজিশনিং; ৩। মাংসপেশির স্বাভাবিক দৈর্ঘ্য বজায় রাখা।

স্ট্রোকের ২-৩ সপ্তাহ পর ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা মাংসপেশির স্বাভাবিক টান ফিরিয়ে আনা;  শরীরের স্বাভাবিক অ্যালাইনমেন্ট ফিরিয়ে আনা;  শরীরের বিভিন্ন জয়েন্টের স্বাভাবিক নাড়ানোর ক্ষমতা বা মুভমেন্ট ফিরিয়ে আনা; ব্যালেন্স ও কো-অর্ডিনেশন উন্নত করা হাঁটার ক্ষমতা ফিরিয়ে আনা; কর্মদক্ষতা বাড়ানো;  রোগীর মানসিক অবস্থা উন্নত করা; অতএব রোগীর শারীরিক সমস্যা দূর করে কার্যক্ষমতা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার ভূমিকা অপরিসীম। সঠিক ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা নিন, সুস্থ থাকুন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত