রমজান প্রায় শেষের দিকে। এ সময় ইফতারে কী খাবেন সেদিকে মনোযোগী হওয়া জরুরি।
খাবারে বিধিনিষেধ
যেসব খাবার খেলে শরীর স্থুল হয়ে যায় তা বাদ দিতে হবে। সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে ও ওজন ঠিক রাখতে খাবারে কিছু বিধিনিষেধ মেনে চলা উচিত।
১. চিনি খেতে হবে পরিমিত। ইফতারের শেষ খাবার হিসেবে মিষ্টি খাবারে আগ্রহ হয়। চটজলদি এনার্জি পেতে চান অনেকে। সে জন্য মিষ্টি, কোমল পানীয় অতিরিক্ত মিষ্টি শরবত, নানা রকম মিষ্টির পদ খেয়ে ফেলেন। ফলে ওজন বাড়ে। তাই এর বদলে খেতে পারেন খেজুর আর ফল। অল্প চিনি লবণ লেবুর শরবতও খাওয়া যায়।
২. সাহরিতে অভুক্ত থাকা কোনো সময় ঠিক নয়। সাহরির সময় অবশ্য আহার করা উচিত। কারণ এরপর সারা দিন রোজা রাখা, সে সময় ভাজাভুজি না খেয়ে আঁশজাতীয় খাবার, শর্করা ও আমিষ খাবেন। আর খাবেন এমন খাবার, যাতে শরীর থাকে সজল আর পায় পুষ্টি। খাবেন খেজুর, এতে আছে ফ্রুক্টজ আর আঁশ। খুব ভালো হয় ইফতার-সাহরি দুই সময়েই সবজি আর ভাত খেলে। ভাত জটিল শর্করা ধীরে পরিপাক হয়, তবে পরিমিত খাবেন, সঙ্গে ফলও খেতে পারেন। ফ্যাট কম মাংস খেতে পারেন। যেমন মুরগির মাংস। আর প্রচুর পানি পান করুন। মাছের ঝোল খেতে পারেন আবার স্যুপও খাওয়া যায়। এতে দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকবে আর গ্লুকোজ থাকবে নিয়ন্ত্রণে।
৩. খুব তাড়াহুড়া করে খাবেন না। রোজা ভাঙার পর খুব তাড়াতাড়ি খাবেন না। খাবার উপভোগ করুন আর ধীরে ধীরে খান। এর বিজ্ঞানসম্মত কারণ আছে। তাড়াতাড়ি খেলে মগজ ঠিকমতো বুঝতে পারে না আপনার পেট ভরেছে কি না। দেখা যায়, খেতে খেতে ২০ মিনিট অতিবাহিত হওয়ার পর মগজ বোঝে আপনার খাওয়া হয়েছে আর নয়। তাই তৃপ্তির সংকেত আসে মগজ থেকে। তাই ওজন কমাতে, সিøম থাকতে হলে ধীরে-সুস্থে আস্তে আস্তে খাবেন। ইফতারিতে খাবেন খেজুর আর খোরমা। এতে আছে শর্করা, অনেক রকমের খনিজ আর ফাইবার। খাবেন কম তেল ও মসলায় রান্না করা খাবার। পানি পান করুন আস্তে আস্তে, আবার খেতে পারেন ফলের রস, ডাবের পানি ও লেবু পানি। অঙ্কুরিত ছোলার সঙ্গে আদা কাঁচা মরিচ তেল মেখে খান। টক দই দিয়ে ওটস বা বার্লি। বাদাম খাওয়া যায়। পুডিং খেতে পারেন। ইফতারে ভাত বা রুটি না খেয়ে পরে রাতে খেতেই পারেন। এ সময় স্যুপ খান। সাদা রুটি অবশ্য ভাজি দিয়ে খেতে পারেন বা মুরগি হাল্কা আঁচে ও মসলায় রান্না করে।
৪. একসঙ্গে অনেক খাবার খাবেন না। অনেকে ইফতারে ভূরিভোজ করেন। তা না করে ইফতার ধীরে ধীরে ও অল্প অল্প করে খান। আর কিছুক্ষণ পরপর অল্প অল্প পানি পান করুন। রাতের খাবারে যাতে শর্করা চর্বি আমিষের ভারসাম্য ঠিক থাকে। পারলে ঢেঁকি ছাঁটা চাল বা লাল আটার রুটির সঙ্গে সবজি, লাউ ঝিঙা পটোল মিষ্টি কুমড়া এমন সবজির ঝোলে থাকতে পারে মাছ বা মাংস। দুধ কলা। পানি পান করুন। ছোট মুরগির ঝোল খেতে পারেন। গুরুপাক খাবার খাবেন না।
৫. শরীরে যেন পানির ঘাটতি না হয়। তাই রোজা ভাঙার পর অল্প অল্প করে ২ থেকে ৩ লিটার পানি পান করুন। সাহরি পর্যন্ত। ফলের রস ও খেতে পারেন ঘরে বানিয়ে।